১০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

ফেনীতে নিখোঁজ হওয়া যুবক আশ্রাফ উদ্ধার

ফেনীর শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার রোডের হলিক্রিসেন্ট স্কুলের সামনে থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই আশ্রাফ আলীকে ২১ জুলাই তারিখে উদ্ধার করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনার অনুসন্ধানে আশ্রাফ আলী তার শ্বশুরালয়ের যোগসাজসে আত্ম-গোপন হয়ে থাকার প্রমান মিলেছে। তবে সে ২১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হয়ে এসেই ফেনী মডেল থানায় প্রকাশ্যে তার বাবা-মা ও সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়ে দূর্ব্যবহার করতে থাকে। এ সময় চরম বেয়াদব ও উচ্ছৃংখল চরিত্রের এ যুবক তার বাবা-মা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার হুমকি দিতে থাকে। একই সাথে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার এস.আই সাইফুল আলমও আশ্রাফের বাবা অলি উল্যাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার হুমকি দিতে দেখা গেছে। এসব হুমকি ধামকিতে ভুক্তভোগী মা-বোনদের অসহায় অবস্থায় নিপতিত হতে দেখা গেছে। এ সময় এস.আই সাইফুল আলম বেয়াদব আশ্রাফের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা না নিয়া বা বাচনিক শাসন না করিয়া তাকে প্রশ্রয় দিতে থাকে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এস.আই. সাইফুল আলম অভিযোগের বিবাদীদের সাথে বেআইনী যোগসাজসে বিশেষ স্বার্থের বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে এমনটি করেছে। বেয়াদব আশ্রাফ ও তার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন বেআইনী যোগসাজসে এস.আই. সাইফুল আলমকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ফেনী মডেল থানায় তার বাবা-মা, বোন ও সাংবাদিকদের অপমান অপদস্ত করে হুমকি দিতে থাকে। আর এতে প্রশাসন ছিল নিরব।
শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের প্ররোচনায় ১৫ লক্ষ টাকা পুঁজির দোকান আত্মসাৎ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোন কথা বলেনি পুলিশ। জানা গেছে বিগত ২০২১ সালের গোড়ার দিকের কোন এক সময় ফেনী পৌরসভাধীন কামাল হাজারী রোডের ৩নং ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর আলম ওরপে কালা মিয়ার মেয়ে ফারহানা আক্তার ফারিয়ার সাথে আশ্রাফ আলী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ সময়কালে সে ফেনীর এস.এস.কে রোডের হলিক্রিসেন্ট স্কুলের সামনে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক ছিল। জমজমাট বেচা বিক্রির এ দোকানটির দিকে শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। এরা বিবাহের ২ মাসের মধ্যেই আশ্রাফ আলীকে ফুসলাইয়া দোকানের সম্পূর্ণ পুঁজি আত্মসাৎ করিয়া নেয়। তাছাড়া আশ্রাফ আলী আদম বেপারীর প্রতারনা করিয়া কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে শ্বশুরালয়ে ব্যয় করে।

এ বিষয়ে আশ্রাফের বাবা-মার সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোট ১৫ লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এ দোকান প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাবা ওয়ালি উল্যাহর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা, কয়েকটা এনজিও থেকে ঋণ গ্রহন ও কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন থেকে ব্যক্তিগত হাওলাত নিয়া এ দোকানের পুঁজির সংস্থান করা হয়। তাছাড়া আশ্রাফের কয়েকজন বোনও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানের পুঁজির ব্যবস্থা করে।

দোকানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আশ্রাফের পরিবার থেকে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হলেই সে শ্বশুরালয়ের ষড়যন্ত্রে আত্মগোপন হয়ে যায়। এতে আশ্রাফের বৃদ্ধ বাবা-মা উপার্জনহীন হয়ে ও পাওনাদারদের চাপে অত্যন্ত বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এনজিও সংস্থার লোকজন কিস্তি আদায়ের জন্য ও পাওনাদার আত্মীয়-স্বজনরা পাওনা আদায়ের জন্য বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সাথে প্রতিদিন ঝামেলা করতে থাকে। এতে বাবা-মা গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আশ্রাফের খোঁজে ফেনী শহরের শ্বশুরালয়ের বাসায় গেলে তারা আগত মেহমানদের অপমান অপদস্ত করে এবং আশ্রাফ আলী তাদের কানেকশনে থাকার কথা অস্বীকার করে। একই ভাবে সাংবাদিকরাও তাদের বাসায় গেলে দুর্ব্যবহার করে ও আশ্রাফ তাদের কানেকশনে থাকার কথা অস্বীকার করে। পরে এ ঘটনার বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে ও ফেনী মডেল থানায় আশ্রাফের বাবা অলি উল্যাহ বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে ফেনী মডেল থানার এস.আই সাইফুল আলম বিবাদীদের সাথে বেআইনী যোগসাজস করিয়া এসব কর্মকান্ড করেন। এতে বেয়াদব আশ্রাফ আলীর বাবা-মা অত্যন্ত মর্মাহত হন। এ বিষয়ে আশ্রাফের শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা বললে, সে অত্র প্রতিবেদকের সাথে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দিতে থাকে। মডেল থানার এস.আই সাইফুল আলমের সাথে কথা বলতে চেষ্টা করলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনজার্চ মোঃ নিজাম উদ্দিনের সাথে কথা বললে, তিনি এসব বিষয় থানার এখতিয়ার নয় বললে জানালেন। তবে তিনি এস.আই. সাইফুল আলমকে অভিযোগের বাদীকে আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেওয়ার জন্য বলে দিবেন বলে জানালেন। ফেনীর পুলিশ সুপারের সাথে কথা বললে, এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়ার দরকার নাই বলে জানালেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব

ট্যাগ :

চারদিকে কি হচ্ছে,সেইদিকে নজর না রেখে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে

ফেনীতে নিখোঁজ হওয়া যুবক আশ্রাফ উদ্ধার

প্রকাশিত : ১১:১৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২

ফেনীর শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার রোডের হলিক্রিসেন্ট স্কুলের সামনে থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই আশ্রাফ আলীকে ২১ জুলাই তারিখে উদ্ধার করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনার অনুসন্ধানে আশ্রাফ আলী তার শ্বশুরালয়ের যোগসাজসে আত্ম-গোপন হয়ে থাকার প্রমান মিলেছে। তবে সে ২১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হয়ে এসেই ফেনী মডেল থানায় প্রকাশ্যে তার বাবা-মা ও সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়ে দূর্ব্যবহার করতে থাকে। এ সময় চরম বেয়াদব ও উচ্ছৃংখল চরিত্রের এ যুবক তার বাবা-মা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার হুমকি দিতে থাকে। একই সাথে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার এস.আই সাইফুল আলমও আশ্রাফের বাবা অলি উল্যাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার হুমকি দিতে দেখা গেছে। এসব হুমকি ধামকিতে ভুক্তভোগী মা-বোনদের অসহায় অবস্থায় নিপতিত হতে দেখা গেছে। এ সময় এস.আই সাইফুল আলম বেয়াদব আশ্রাফের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা না নিয়া বা বাচনিক শাসন না করিয়া তাকে প্রশ্রয় দিতে থাকে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এস.আই. সাইফুল আলম অভিযোগের বিবাদীদের সাথে বেআইনী যোগসাজসে বিশেষ স্বার্থের বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে এমনটি করেছে। বেয়াদব আশ্রাফ ও তার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন বেআইনী যোগসাজসে এস.আই. সাইফুল আলমকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ফেনী মডেল থানায় তার বাবা-মা, বোন ও সাংবাদিকদের অপমান অপদস্ত করে হুমকি দিতে থাকে। আর এতে প্রশাসন ছিল নিরব।
শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের প্ররোচনায় ১৫ লক্ষ টাকা পুঁজির দোকান আত্মসাৎ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোন কথা বলেনি পুলিশ। জানা গেছে বিগত ২০২১ সালের গোড়ার দিকের কোন এক সময় ফেনী পৌরসভাধীন কামাল হাজারী রোডের ৩নং ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর আলম ওরপে কালা মিয়ার মেয়ে ফারহানা আক্তার ফারিয়ার সাথে আশ্রাফ আলী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ সময়কালে সে ফেনীর এস.এস.কে রোডের হলিক্রিসেন্ট স্কুলের সামনে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক ছিল। জমজমাট বেচা বিক্রির এ দোকানটির দিকে শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। এরা বিবাহের ২ মাসের মধ্যেই আশ্রাফ আলীকে ফুসলাইয়া দোকানের সম্পূর্ণ পুঁজি আত্মসাৎ করিয়া নেয়। তাছাড়া আশ্রাফ আলী আদম বেপারীর প্রতারনা করিয়া কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে শ্বশুরালয়ে ব্যয় করে।

এ বিষয়ে আশ্রাফের বাবা-মার সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোট ১৫ লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এ দোকান প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাবা ওয়ালি উল্যাহর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা, কয়েকটা এনজিও থেকে ঋণ গ্রহন ও কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন থেকে ব্যক্তিগত হাওলাত নিয়া এ দোকানের পুঁজির সংস্থান করা হয়। তাছাড়া আশ্রাফের কয়েকজন বোনও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানের পুঁজির ব্যবস্থা করে।

দোকানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আশ্রাফের পরিবার থেকে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হলেই সে শ্বশুরালয়ের ষড়যন্ত্রে আত্মগোপন হয়ে যায়। এতে আশ্রাফের বৃদ্ধ বাবা-মা উপার্জনহীন হয়ে ও পাওনাদারদের চাপে অত্যন্ত বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এনজিও সংস্থার লোকজন কিস্তি আদায়ের জন্য ও পাওনাদার আত্মীয়-স্বজনরা পাওনা আদায়ের জন্য বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সাথে প্রতিদিন ঝামেলা করতে থাকে। এতে বাবা-মা গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আশ্রাফের খোঁজে ফেনী শহরের শ্বশুরালয়ের বাসায় গেলে তারা আগত মেহমানদের অপমান অপদস্ত করে এবং আশ্রাফ আলী তাদের কানেকশনে থাকার কথা অস্বীকার করে। একই ভাবে সাংবাদিকরাও তাদের বাসায় গেলে দুর্ব্যবহার করে ও আশ্রাফ তাদের কানেকশনে থাকার কথা অস্বীকার করে। পরে এ ঘটনার বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে ও ফেনী মডেল থানায় আশ্রাফের বাবা অলি উল্যাহ বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে ফেনী মডেল থানার এস.আই সাইফুল আলম বিবাদীদের সাথে বেআইনী যোগসাজস করিয়া এসব কর্মকান্ড করেন। এতে বেয়াদব আশ্রাফ আলীর বাবা-মা অত্যন্ত মর্মাহত হন। এ বিষয়ে আশ্রাফের শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা বললে, সে অত্র প্রতিবেদকের সাথে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দিতে থাকে। মডেল থানার এস.আই সাইফুল আলমের সাথে কথা বলতে চেষ্টা করলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনজার্চ মোঃ নিজাম উদ্দিনের সাথে কথা বললে, তিনি এসব বিষয় থানার এখতিয়ার নয় বললে জানালেন। তবে তিনি এস.আই. সাইফুল আলমকে অভিযোগের বাদীকে আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেওয়ার জন্য বলে দিবেন বলে জানালেন। ফেনীর পুলিশ সুপারের সাথে কথা বললে, এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়ার দরকার নাই বলে জানালেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব