রূপগঞ্জে তৌহিদের ভূমিদস্যুতায় অতিষ্ঠ অর্ধশতাধিক পরিবার! পেশায় ইঞ্জিন চালিত নৌকার মাঝি। পিতা ফেকুন মিয়ার পুরনো পেশা ধরে রেখেছিলেন ছেলে তাওহিদ তাহমিদ(৪০)। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দাউদপুরের কলিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সে। তার নিজ গ্রাম থেকে শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে কালীগঞ্জ বাজার ঘাট পর্যন্ত ট্রলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মাঝে মাঝে কলা বিক্রি করেও চালাতেন সংসার। বাড়ি ভিটেতে ৫শতক জমি ছাড়া ছিলো না তেমন কোন সম্পদ। একসময় তাওহিদ ছিলেন দাউদপুর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতা। তাই সহজে গড়ে তোলে নিজের কর্মী নামীয় নিজস্ব বাহীনি। সে সময়ে নানা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ ভূক্তভোগীরা মামলাসহ আইনি প্রতিবাদ করলে অধিক ক্ষমতার লোভে যোগ দেয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী যুবলীগে। পদ বাগিয়েই শুরু হয় জোরপূর্বক অন্যের জমি দখল,স্থানীয় শিল্প কারখানা, ইটভাটা, শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে চলমান জাহাজ ও নৌকা থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা ত্রাসের রাজত্ব। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন আবাসনের নামে অন্যের জমিতে বালি ফেলায় জমি হারিয়েছেন অর্ধ শতাধিক জমি মালিক। তার বাহীনির বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলা ও মামলার শিকার হওয়ায় ভয়ে অনেকেই মুখ খুলেন না। তাই জবর দখল, চাঁদাবাজি ভুমিদস্যুতার মাধ্যমে ৩ বছরে ওই যুবলীগ নেতা তাওহিদ তাহমিদ হয়ে ওঠে কোটিপতি। গড়ে তোলে শতাধিক কিশোর ও তরুণদের নিয়ে একটি শক্তিশালী গ্যাং। তাদের দিয়ে স্থানীয় নানা অপকর্ম ও দলীয় সভা সমাবেশে লোক দেখানোর মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করে। হয়ে ওঠে আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতার মদদপুষ্ট। কিন্তু প্রকৃত আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের মাঝে বাড়ে ক্ষোভ ও হতাশা। তার বিরুদ্ধে রয়েছে রূপগঞ্জ, কালীগঞ্জ ও পলাশ থানায় ডজন মামলার রেকর্ড। অভিযোগ রয়েছে, দাউদপুর ইউনিয়ন যুবলীগ (২নং ওয়ার্ড) সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিমকে কুপিয়ে আহত করার। তিনি রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে তা আদালতে এখনো বিচারাধীন। এছাড়াও কলিঙ্গা মৌজায় নদী পাড়ের পয়েস্তি জমি দখলসহ স্থানীয় সিব্বির মাষ্টারদের ২৫ বিঘা জমি দখল করে নিয়েছে তার কব্জায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে নরসিংদী আদালতে মামলা দায়ের করেন। যা চলমান। শুধু তাই নয়,স্থানীয় বিএমসি লবন ফেক্টরী থেকে চাঁদাদাবী করে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ফেক্টরীর কর্মকর্তা তুমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার আবুল হোসেন কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। একইভাবে যমুনা গ্রুপের একটি কারখানার চাঁদাদাবী করলে তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা র্যাব ও থানা পুলিশে পৃথক মামলা দায়ের করেন। এভাবে আরএফএল গ্রুপও তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়। সম্প্রতি খৈসাইর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মিয়ার ইটভাটায় চাঁদাদাবী করলে তা না দেয়ায় ভাটা ম্যানেজারকে পিটিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় ম্যানেজার তাইজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। সবশেষ দাউদপুর ঈদগাহ এলাকায় ১২টি অটো রিক্সা থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করলে তাতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় সালাহউদ্দিন, শাওন, লিখন, সোহেলকে পিটিয়ে আহত করে। এছাড়াও গত ৯ আগষ্ট স্থানীয় বিকাশ (এজেন্ট) ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তাওহিদ ও তার বাহীনি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাওন মিয়া বলেন, তাওহিদ ও তার বাহীনির ভয়ে নিরীহ ভুক্তভোগীর কেউ থানায় মামলা করতে সাহস পায়না। সে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে গত ৩ বছরে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। তার মালিকানায় কলিঙ্গায় রয়েছে ২টি ৪ কোটি টাকার বাড়ি। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে রয়েছে আরো ১০ বিঘা জমি। আমাদের জমিও জোর করে দখল করে রেখেছে। আমার মতো আরো ৬০জনের জমি সে দখল করেছে ভুয়া ওয়ারিশের নামে।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত তাওহিদের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কখনো ছাত্রদলে ছিলাম না। তবে যেসব মামলা বা অভিযোগ আসে তা আইনিভাবেই মোকাবেলা করি। কাজ করতে গেলে সমস্যা হবেই।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, যে কেউ ত্রাস করলে তাকে আইনের আঁওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থানায় রয়েছে। যা আইনি প্রক্রিয়াধীন।
বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব












