১০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড কেন নয়?

ইয়ারন চৌধুরী

এক দেশে কেন দুই নীতি থাকবে? আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরো একবার স্বাধীনতার ডাক দিতেন। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বৈষম্যহীন সোনার বাংলা। কিন্তু স্বাধীনতার এতো বছর পরে এসেও চরম বৈষম্যের শিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। সমযোগ্যতায় এমনকি কম যোগ্যতা নিয়ে অন্যান্য সকল ডিপার্টমেন্ট পাচ্ছেন ৯ম ও ১০ম গ্রেডে বেতন অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১৩তম গ্রেডে বেতন।

নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরছি –

*পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর- নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক, বেতন গ্রেড ১০ম।
*মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক – নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক, বেতন ১০ম গ্রেড।
*নার্স – নিয়োগ যোগ্যতা এইচ,এস,সি (ডিপ্লোমা ইন নার্সিং) বেতন গ্রেড ১০ম।
*উপ সহকারী কৃষি অফিসার – নিয়োগ যোগ্যতা এস,এস,সি (৪বছর কৃষি ডিপ্লোমা) বেতন গ্রেড ১০ম।
*বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক, বেতন গ্রেড ৯ম ও ১০ম গ্রেড।
*প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক (২য় বিভাগ), বেতন গ্রেড ১৩তম।

এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে রাখা হয়েছে ৮ম শ্রেণি পাস ড্রাইভারের নিচের গ্রেডে (ড্রাইভার ১২তম গ্রেড)। অথচ আমরা মুখে মুখে শুধু বলি শিক্ষকতা মহান পেশা।কথায় আছে পেটে গেলে পিঠে সয়, আমার পেটে খাবার নেই ক্ষুধার্ত পেট তো আমার মহান পেশার তকমায় পূর্ণ হবেনা। ব্যাপারটা আসলে গাছের শেকড় কেটে মাথায় পানি দেওয়ার মতো।

আমরা উন্নত রাষ্ট্র আশা করি, উন্নত রাষ্ট্র গড়তে হলে আগে উন্নত জাতি গড়তে হবে। আধুনিক মানব সভ্যতার প্রধান শর্ত হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার আলো যে জাতির মধ্যে নেই সেই জাতি কখনো সভ্য হতে পারেনা। আমরা সকলেই অবগত শিক্ষার কয়েকটি ধাপের মধ্যে প্রথম এবং প্রধান ধাপ হচ্ছে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা। শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষা। ভিত্তি যদি মজবুত না হয় তাহলে পরবর্তী ধাপ কতটা মজবুত হবে আশা করি সেটা বোঝার ক্ষমতা সকলের আছে। প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্যে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্ভুদ্ধ করা।এখন জাতির কাছে আমার প্রশ্ন-যে শিক্ষক কখনো নিজেই উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শন করতে পারেনা, যার নুন আনতে পান্তা ফুরায় সে কী করে শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শন করাবে? একদিকে সল্প বেতনে সংসারে টানাটানি অপর দিকে নিম্ন বেতন গ্রেডের কারণে সামাজিক ভাবে অবহেলিত হতে হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।

শুধু মাত্র তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নামক অভিশাপের কারণে বিভিন্ন দপ্তরে কোন কাজের জন্য গিয়েও শিক্ষকদেরকে শিকার হতে হয় অপমানের। এতটা আর্থিক ও মানসিক কষ্ট নিয়ে কীভাবে একজন শিক্ষক তার সর্বোচ্চটা শিক্ষার্থীদের দিবে? যখন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেখতে পান তিনি যে শিশুর একদিন হাতেখড়ি দিয়েছিলেন, প্রথম বর্ণের সাথে তিনি যাকে পরিচয় করিয়েছিলেন,আজ সেই শিক্ষার্থী বড় হয়ে আমলা হয়ে তারই বিরুদ্ধে কলম তুলছে,তার হাতে গড়া শিক্ষার্থী আজ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন কীভাবে তাকে নিচের দিকে ঠেলে দেয়া যায়, তখন আর যাই হোক মন থেকে পাঠদানের বিষয়টি আসেনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “Let’s talk with Sheikh Hasina ” টিভি প্রোগ্রামে বলেছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী না হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সম্মান রয়েছে। তিনি যদি শিক্ষকদের এই দূর দশার কথা জানতেন তাহলে অবশ্যই শিক্ষকদের পাশে দাড়াতেন।

একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই পারেন আমাদেরকে ১০ম গ্রেড দিয়ে ৩য় শ্রেণির কর্মচারী নামক অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে। তাই আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক- ইয়ারন চৌধুরী
সহকারী শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

পাটকেলঘাটা কুমিরায় একতা যুব সংঘের আয়োজনে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড কেন নয়?

প্রকাশিত : ০৮:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মে ২০২৩

এক দেশে কেন দুই নীতি থাকবে? আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরো একবার স্বাধীনতার ডাক দিতেন। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বৈষম্যহীন সোনার বাংলা। কিন্তু স্বাধীনতার এতো বছর পরে এসেও চরম বৈষম্যের শিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। সমযোগ্যতায় এমনকি কম যোগ্যতা নিয়ে অন্যান্য সকল ডিপার্টমেন্ট পাচ্ছেন ৯ম ও ১০ম গ্রেডে বেতন অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১৩তম গ্রেডে বেতন।

নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরছি –

*পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর- নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক, বেতন গ্রেড ১০ম।
*মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক – নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক, বেতন ১০ম গ্রেড।
*নার্স – নিয়োগ যোগ্যতা এইচ,এস,সি (ডিপ্লোমা ইন নার্সিং) বেতন গ্রেড ১০ম।
*উপ সহকারী কৃষি অফিসার – নিয়োগ যোগ্যতা এস,এস,সি (৪বছর কৃষি ডিপ্লোমা) বেতন গ্রেড ১০ম।
*বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক, বেতন গ্রেড ৯ম ও ১০ম গ্রেড।
*প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক (২য় বিভাগ), বেতন গ্রেড ১৩তম।

এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে রাখা হয়েছে ৮ম শ্রেণি পাস ড্রাইভারের নিচের গ্রেডে (ড্রাইভার ১২তম গ্রেড)। অথচ আমরা মুখে মুখে শুধু বলি শিক্ষকতা মহান পেশা।কথায় আছে পেটে গেলে পিঠে সয়, আমার পেটে খাবার নেই ক্ষুধার্ত পেট তো আমার মহান পেশার তকমায় পূর্ণ হবেনা। ব্যাপারটা আসলে গাছের শেকড় কেটে মাথায় পানি দেওয়ার মতো।

আমরা উন্নত রাষ্ট্র আশা করি, উন্নত রাষ্ট্র গড়তে হলে আগে উন্নত জাতি গড়তে হবে। আধুনিক মানব সভ্যতার প্রধান শর্ত হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার আলো যে জাতির মধ্যে নেই সেই জাতি কখনো সভ্য হতে পারেনা। আমরা সকলেই অবগত শিক্ষার কয়েকটি ধাপের মধ্যে প্রথম এবং প্রধান ধাপ হচ্ছে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা। শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষা। ভিত্তি যদি মজবুত না হয় তাহলে পরবর্তী ধাপ কতটা মজবুত হবে আশা করি সেটা বোঝার ক্ষমতা সকলের আছে। প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্যে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্ভুদ্ধ করা।এখন জাতির কাছে আমার প্রশ্ন-যে শিক্ষক কখনো নিজেই উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শন করতে পারেনা, যার নুন আনতে পান্তা ফুরায় সে কী করে শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শন করাবে? একদিকে সল্প বেতনে সংসারে টানাটানি অপর দিকে নিম্ন বেতন গ্রেডের কারণে সামাজিক ভাবে অবহেলিত হতে হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।

শুধু মাত্র তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নামক অভিশাপের কারণে বিভিন্ন দপ্তরে কোন কাজের জন্য গিয়েও শিক্ষকদেরকে শিকার হতে হয় অপমানের। এতটা আর্থিক ও মানসিক কষ্ট নিয়ে কীভাবে একজন শিক্ষক তার সর্বোচ্চটা শিক্ষার্থীদের দিবে? যখন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেখতে পান তিনি যে শিশুর একদিন হাতেখড়ি দিয়েছিলেন, প্রথম বর্ণের সাথে তিনি যাকে পরিচয় করিয়েছিলেন,আজ সেই শিক্ষার্থী বড় হয়ে আমলা হয়ে তারই বিরুদ্ধে কলম তুলছে,তার হাতে গড়া শিক্ষার্থী আজ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন কীভাবে তাকে নিচের দিকে ঠেলে দেয়া যায়, তখন আর যাই হোক মন থেকে পাঠদানের বিষয়টি আসেনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “Let’s talk with Sheikh Hasina ” টিভি প্রোগ্রামে বলেছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী না হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সম্মান রয়েছে। তিনি যদি শিক্ষকদের এই দূর দশার কথা জানতেন তাহলে অবশ্যই শিক্ষকদের পাশে দাড়াতেন।

একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই পারেন আমাদেরকে ১০ম গ্রেড দিয়ে ৩য় শ্রেণির কর্মচারী নামক অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে। তাই আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক- ইয়ারন চৌধুরী
সহকারী শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh