রাজধানীতে একইদিনে সমাবেশ করলো বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের তিনটি সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ছাত্রলীগ। দুটি সমাবেশে ঘিরে রাজধানীবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিলো। মাত্র ২ কিলোমিটারেও কম ব্যবধানে এতো বড় দুটি সমাবেশে সংঘাত এড়ানো যাবে কিনা তা নিয়ে ছিলো শঙ্কা। তবে কোন ধরণের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো দুই পক্ষের মহাসমাবেশ।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ছাত্রলীগ আয়োজন করে শান্তি সমাবেশের। অন্যদিকে নয়াপল্টনে সরকারের পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একদফা দাবিতে সমাবেশ করে বিএনপি।
গত দুদিন ধরে সমাবেশস্থল, ডিএমপির নির্দেশনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা নাটকীয়তা দেখা যায়। নয়াপল্টন থেকে বায়তুল মোকাররম, দূরত্ব মাত্র ১.৭ কিলোমিটারের মতো। এত কম দূরত্বে দুটি বৃহৎ দলের সমাবেশে রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক ভয় তৈরি করেছিলো।
এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন, তারওপর সমাবেশ ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই সড়কের যান চলাচল ছিলো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া খুব কম মানুষই আজ সড়কে বের হয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন তারাও অনেকটাই ভীত ছিলেন।
কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল করিম সময় সংবাদকে জানান, আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। আজ সকালে তার প্রসব ব্যথা ওঠে। গাড়ি ঠিক করার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করেছি কিন্তু কোন গাড়িই কাকরাইলের দিকে যেতে চাচ্ছিলো না, কারণ সেখানে বিএনপির সমাবেশ। পরে অনেক কাকুতি-মিনতি করে একটা প্রাইভেট কার ভাড়া করি। তবে এখানে এসে দেখি প্রচুর মানুষ। কোনভাবেই গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করানো যাচ্ছে না। পরে বিএনপির কর্মীদের সহযোগিতায় হাসপাতালে ঢুকি।
এদিকে বাইতুল মোকাররম মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মাহাবুব সময় সংবাদকে জানান, বহু বছর ধরেই আমি শুক্রবারের জুম্মার নামাজ বাইতুল মোকাররম মসজিদে পড়ি। আমার বাসা যাত্রাবাড়ি। বাসা থেকে অন্যসময় এখানে আসা সহজ হলেও আজ এতটা সহজ ছিলো না। সবার মনেই অনেক আতঙ্ক দেখা দিয়েছিলো।
বিএনপির সমাবেশ দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই দলটির নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে নয়াপল্টন এলাকা। দুপুর ২টার আগেই মতিঝিল থেকে নয়াপল্টন এবং নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের দখলে চলে যায়। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় মহাসমাবেশের করেছেন তারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে তাদের বক্তব্যে দাবি করেন, এটাই ঢাকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মহাসমাবেশ।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পূর্বঘোষিত শান্তি সমাবেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুপুর থেকেই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে হাজারো মানুষের ঢল নামে। গুলিস্তান জিরো পয়েন্টকে কেন্দ্র করে চারপাশে এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। বেলা তিনটার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে এলে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে আগত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপিকে আর কোন অরাজকতা করতে দেয়া যাবে না। বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যকে প্রতিহত করতে তারা রাজপথে থাকবে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, তারা বর্তমান সরকারকে আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে সড়কে থাকবেন। আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিএনপির একদফা প্রতিহত করতে তারা মাঠে প্রস্তুত।
দুই সমাবেশের মাঝে পল্টন মোড় এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের অবস্থান ছিলো অত্যন্ত নিকটে। তবে সেখানে কোন পক্ষেরই উস্কানিমূলক তেমন কোন কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। ফলে সংঘাত ছাড়াই পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির উদাহরণ তৈরি করলো আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি।














