০২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে সহজে কাজ পাবেন যেভাবে

যুক্তরাজ্যে (UK) কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করা বাংলাদেশীদের জন্য একটি আকর্ষনীয় পেশা। যদি আপনি যুক্তরাজ্যে কাজ করার স্বপ্ন দেখে থাকেন এবং মানুষের সেবার প্রতি আগ্রহী হন, তাহলে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করা আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। এই নিবন্ধে, আমরা যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করার প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে জানাব।

যোগ্যতা:

শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাধারণত, যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করার জন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির প্রয়োজন নেই। তবে, কিছু ক্ষেত্রে, এনএসি (জাতীয় যোগ্যতা কাউন্সিল) লেভেল 2 বা তার চেয়ে উঁচু যোগ্যতা থাকতে পারে।

ইংরেজি দক্ষতা: যুক্তরাজ্যে কাজ করার জন্য ভালো ইংরেজি দক্ষতা অত্যন্ত গুরু籐পূর্ণ। আপনাকে সেবার প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হতে হবে এবং লিখিত নির্দেশাবলি বুঝতে হবে। আইএলটিএস (আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা ব্যবস্থা) পরীক্ষায় ভালো স্কোর করা প্রয়োজন হতে পারে।

অভিজ্ঞতা: পূর্বের সেবার অভিজ্ঞতা, যেমন বয়স্কদের সেবা বা হাসপাতালে কাজ, কাজে লাগতে পারে।

ভিসা আবেদন:

কেয়ার ওয়ার্কার ভিসা: যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করার জন্য আপনাকে একটি স্পন্সরশিপ করা কেয়ার ওয়ার্কার ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এটির জন্য, আপনাকে যুক্তরাজ্যের একটি কেয়ার প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপ লাগবে।

ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয়তা: ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে, যেমন পাসপোর্ট, ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ, স্পনসরশিপের চিঠি, এবং মেডিকেল রিপোর্ট।

প্রশিক্ষণ:

আপনি যদি যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করার জন্য নতুন হন, তাহলে আপনি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। এই প্রশিক্ষণে সেবা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের যত্ন নেওয়া, স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা বিধি, এবং যোগাযোগ দক্ষতা শেখানো হয়।

কাজ খোঁজা:
অনেক ওয়েবসাইট এবং রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি রয়েছে যেগুলো যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারীদের জন্য চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়। আপনি সরাসরি কেয়ার হোম বা হাসপাতালের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন।

অতিরিক্ত বিষয়সমূহ:

বেতন: যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারীদের বেতন অবস্থান এবং অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। তবে আপনি মাসে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারেন গড়ে।

জীবনযাত্রার খরচ: যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার খরচ অপেক্ষাকৃত বেশি। আপনার ভাড়া, খাবার, পরিবহন এবং অন্যান্য খরচ মেটাতে আপনাকে আপনার বেতনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করতে হতে পারে।

কর (Tax): যুক্তরাজ্যে আয়ের উপর কর দিতে হবে। করের পরিমাণ আপনার আয়ের উপর নির্ভর করে।

থাকার ব্যবস্থা: আপনি যখন প্রথমে যুক্তরাজ্যে যান, তখন আপনি হয়তো অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন, যেমন হোটেল বা বন্ধুদের বাড়িতে থাকা। এরপর, আপনি ফ্ল্যাট বা ফ্ল্যাটমেটদের সাথে ভাড়া বাড়ি খুঁজতে পারেন। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে একজন মানুষের বাসা ভাড়া গড়ে এক লক্ষ আশি হাজার টাকা। এতে আপনি একটি রুম পাবেন। আর এক রুমে শেয়ারিং করে থাকলে তার অর্ধের খরচে থাকতে পারে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী একসাথে থাকলে খরচ কমে আসে। যেহেতু উভয়ই উপার্জন করে। একটি ডাবল বেডরুমের ভাড়া এক লক্ষ বিশ হাজার থেকে শুরু হয়।

ভাষা শেখা: যদিও ইংরেজি ভাষা জানা যথেষ্ট, যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন মৌলিক বাংলা কথা বলতে শেখা সহায়ক হতে পারে। এটি আপনাকে বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের সাথে আরও راحتে মেশা এবং যাদের সাথে আপনি কাজ করছেন তাদের সংস্কৃতি আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

কেমন আসলে যুক্তরাজ্য?
আপনার বাসায় ক্যালেন্ডারে যেমন সুন্দর মনোরম দৃশ্যের ছবির দিকে থেকে আপনি তাকিয়ে থাকেন, যুক্তরাজ্য আসলে প্রতিদিনই ঠিক সেইরকম তাকিয়ে থাকার মতো সুন্দর একটি দেশ। আপনি যদি শহরের ব্যস্ততা দেখতে চান তাহলে লন্ডন দেখতে পারেন, পৃথিবীর তিনটি আলফা শহরের মধ্যে একটি হচ্ছে লন্ডন। আপনি যদি মনোরম নির্জন পরিবেশ দেখতে চান তাহলে লন্ডনের বাহিরে যেতে হবে। প্রায় প্রতিটি স্থানই ছবিতে বাঁধাই করার মতো সুন্দর। যুক্তরাজ্য সম্পর্কে আরও জানুন।

যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করা একটি চ্যালেঞ্জিং কিন্তু পুরষ্কারজনক অভিজ্ঞতা হতে পারে। যদি আপনি সেবার প্রতি আগ্রহী এবং নতুন পরিবেশে কাজ করতে ইচ্ছুক হন, তাহলে এটি আপনার জন্য উপযুক্ত পেশা হতে পারে। তবে, যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং দক্ষতা, এবং জীবনযাত্রার খবর সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

‘যুক্তরাজ্য সম্পর্কে আরও জানুন’ https://britanniablog.com/

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

জনপ্রিয়

যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে সহজে কাজ পাবেন যেভাবে

প্রকাশিত : ০৬:৩১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

যুক্তরাজ্যে (UK) কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করা বাংলাদেশীদের জন্য একটি আকর্ষনীয় পেশা। যদি আপনি যুক্তরাজ্যে কাজ করার স্বপ্ন দেখে থাকেন এবং মানুষের সেবার প্রতি আগ্রহী হন, তাহলে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করা আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। এই নিবন্ধে, আমরা যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করার প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে জানাব।

যোগ্যতা:

শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাধারণত, যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করার জন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির প্রয়োজন নেই। তবে, কিছু ক্ষেত্রে, এনএসি (জাতীয় যোগ্যতা কাউন্সিল) লেভেল 2 বা তার চেয়ে উঁচু যোগ্যতা থাকতে পারে।

ইংরেজি দক্ষতা: যুক্তরাজ্যে কাজ করার জন্য ভালো ইংরেজি দক্ষতা অত্যন্ত গুরু籐পূর্ণ। আপনাকে সেবার প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হতে হবে এবং লিখিত নির্দেশাবলি বুঝতে হবে। আইএলটিএস (আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা ব্যবস্থা) পরীক্ষায় ভালো স্কোর করা প্রয়োজন হতে পারে।

অভিজ্ঞতা: পূর্বের সেবার অভিজ্ঞতা, যেমন বয়স্কদের সেবা বা হাসপাতালে কাজ, কাজে লাগতে পারে।

ভিসা আবেদন:

কেয়ার ওয়ার্কার ভিসা: যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করার জন্য আপনাকে একটি স্পন্সরশিপ করা কেয়ার ওয়ার্কার ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এটির জন্য, আপনাকে যুক্তরাজ্যের একটি কেয়ার প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপ লাগবে।

ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয়তা: ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে, যেমন পাসপোর্ট, ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ, স্পনসরশিপের চিঠি, এবং মেডিকেল রিপোর্ট।

প্রশিক্ষণ:

আপনি যদি যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করার জন্য নতুন হন, তাহলে আপনি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। এই প্রশিক্ষণে সেবা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের যত্ন নেওয়া, স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা বিধি, এবং যোগাযোগ দক্ষতা শেখানো হয়।

কাজ খোঁজা:
অনেক ওয়েবসাইট এবং রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি রয়েছে যেগুলো যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারীদের জন্য চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়। আপনি সরাসরি কেয়ার হোম বা হাসপাতালের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন।

অতিরিক্ত বিষয়সমূহ:

বেতন: যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারীদের বেতন অবস্থান এবং অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। তবে আপনি মাসে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারেন গড়ে।

জীবনযাত্রার খরচ: যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার খরচ অপেক্ষাকৃত বেশি। আপনার ভাড়া, খাবার, পরিবহন এবং অন্যান্য খরচ মেটাতে আপনাকে আপনার বেতনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করতে হতে পারে।

কর (Tax): যুক্তরাজ্যে আয়ের উপর কর দিতে হবে। করের পরিমাণ আপনার আয়ের উপর নির্ভর করে।

থাকার ব্যবস্থা: আপনি যখন প্রথমে যুক্তরাজ্যে যান, তখন আপনি হয়তো অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন, যেমন হোটেল বা বন্ধুদের বাড়িতে থাকা। এরপর, আপনি ফ্ল্যাট বা ফ্ল্যাটমেটদের সাথে ভাড়া বাড়ি খুঁজতে পারেন। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে একজন মানুষের বাসা ভাড়া গড়ে এক লক্ষ আশি হাজার টাকা। এতে আপনি একটি রুম পাবেন। আর এক রুমে শেয়ারিং করে থাকলে তার অর্ধের খরচে থাকতে পারে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী একসাথে থাকলে খরচ কমে আসে। যেহেতু উভয়ই উপার্জন করে। একটি ডাবল বেডরুমের ভাড়া এক লক্ষ বিশ হাজার থেকে শুরু হয়।

ভাষা শেখা: যদিও ইংরেজি ভাষা জানা যথেষ্ট, যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন মৌলিক বাংলা কথা বলতে শেখা সহায়ক হতে পারে। এটি আপনাকে বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের সাথে আরও راحتে মেশা এবং যাদের সাথে আপনি কাজ করছেন তাদের সংস্কৃতি আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

কেমন আসলে যুক্তরাজ্য?
আপনার বাসায় ক্যালেন্ডারে যেমন সুন্দর মনোরম দৃশ্যের ছবির দিকে থেকে আপনি তাকিয়ে থাকেন, যুক্তরাজ্য আসলে প্রতিদিনই ঠিক সেইরকম তাকিয়ে থাকার মতো সুন্দর একটি দেশ। আপনি যদি শহরের ব্যস্ততা দেখতে চান তাহলে লন্ডন দেখতে পারেন, পৃথিবীর তিনটি আলফা শহরের মধ্যে একটি হচ্ছে লন্ডন। আপনি যদি মনোরম নির্জন পরিবেশ দেখতে চান তাহলে লন্ডনের বাহিরে যেতে হবে। প্রায় প্রতিটি স্থানই ছবিতে বাঁধাই করার মতো সুন্দর। যুক্তরাজ্য সম্পর্কে আরও জানুন।

যুক্তরাজ্যে কেয়ার সহকারী হিসাবে কাজ করা একটি চ্যালেঞ্জিং কিন্তু পুরষ্কারজনক অভিজ্ঞতা হতে পারে। যদি আপনি সেবার প্রতি আগ্রহী এবং নতুন পরিবেশে কাজ করতে ইচ্ছুক হন, তাহলে এটি আপনার জন্য উপযুক্ত পেশা হতে পারে। তবে, যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং দক্ষতা, এবং জীবনযাত্রার খবর সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

‘যুক্তরাজ্য সম্পর্কে আরও জানুন’ https://britanniablog.com/

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ