১২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

কোটা বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে উত্তপ্ত ঢাবি

সোমবার (১জুলাই) সকাল ১১ টায় ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা ছাত্র সমাবেশ করে এবং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। সমাবেশে তারা তাদের চারদফা দাবির উপর বক্তব্য তুলে ধরে। তারা বলে, কোটা শুধুমাত্র পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর জন্যই যৌক্তিক, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ভাবেই পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর মানুষ নয়। সমাবেশে তারা যেসব দাবি করে সেগুলো নিম্নরূপ।

১.২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে।

২. ১৮’ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকুরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

৩.সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে।

৪.দূর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। তবে, ওইবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক কোটা বিরোধী আন্দোলন হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত চাকরির ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল করে দেয় সরকার। তার আগে এসব পদে চালু থাকা কোটার ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর বাইরে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ আসন থাকতো।

গত ৫ জুন এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটার অংশটি বাতিল করেন উচ্চ আদালত। এরপর আবারও শুরু হয়েছে আন্দোলন। সোমবার (১ জুলাই) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে ছাত্রসমাবেশ হয়েছে।

সমাবেশ শেষে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে। এসময় তারা ২ জুলাই (মঙ্গলবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ছাত্র সমাবেশের ঘোষণা দেয় এবং ৩ জুলাই আবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

কোটা বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে উত্তপ্ত ঢাবি

প্রকাশিত : ০৪:৪১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

সোমবার (১জুলাই) সকাল ১১ টায় ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা ছাত্র সমাবেশ করে এবং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। সমাবেশে তারা তাদের চারদফা দাবির উপর বক্তব্য তুলে ধরে। তারা বলে, কোটা শুধুমাত্র পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর জন্যই যৌক্তিক, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ভাবেই পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর মানুষ নয়। সমাবেশে তারা যেসব দাবি করে সেগুলো নিম্নরূপ।

১.২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে।

২. ১৮’ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকুরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

৩.সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে।

৪.দূর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। তবে, ওইবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক কোটা বিরোধী আন্দোলন হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত চাকরির ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল করে দেয় সরকার। তার আগে এসব পদে চালু থাকা কোটার ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর বাইরে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ আসন থাকতো।

গত ৫ জুন এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটার অংশটি বাতিল করেন উচ্চ আদালত। এরপর আবারও শুরু হয়েছে আন্দোলন। সোমবার (১ জুলাই) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে ছাত্রসমাবেশ হয়েছে।

সমাবেশ শেষে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে। এসময় তারা ২ জুলাই (মঙ্গলবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ছাত্র সমাবেশের ঘোষণা দেয় এবং ৩ জুলাই আবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস