০১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠ বেচাকেনার অভিযোগে দুদকের তদন্ত

চট্টগ্রামের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ বেচাকেনার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়–১-এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে একটি টিম বিদ্যালয়ে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৪৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থিত প্রায় ১৫ কাঠা আয়তনের খেলার মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার একমাত্র স্থান। অথচ ২০০৬ সালে মাত্র ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় একটি পক্ষ মাঠটি ক্রয় করে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সম্প্রতি ওই পক্ষ ভূমি অফিসে নামজারির জন্য আবেদন করে। তবে বাকলিয়া সার্কেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুমা আক্তার কণা বলেন, “ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের জমি নিয়ে মামলা চলছে। মামলা চলাকালে নামজারি হবে না। এর আগেও চারবার নামজারির আবেদন খারিজ করা হয়েছে, এবারও খারিজ হবে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার বলেন, “মাঠটি এখনও বিদ্যালয়ের ভোগ দখলে রয়েছে। আমরা প্রশাসনের সহায়তা পাচ্ছি। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।”

এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, “মাঠের জমি ক্রয়-বিক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসেও যাচাই করা হবে।”

উল্লেখ্য, ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। ২০২৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়’ হিসেবে স্বীকৃতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। এই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ বহু বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠ বেচাকেনার অভিযোগে দুদকের তদন্ত

প্রকাশিত : ০৪:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রামের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ বেচাকেনার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়–১-এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে একটি টিম বিদ্যালয়ে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৪৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থিত প্রায় ১৫ কাঠা আয়তনের খেলার মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার একমাত্র স্থান। অথচ ২০০৬ সালে মাত্র ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় একটি পক্ষ মাঠটি ক্রয় করে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সম্প্রতি ওই পক্ষ ভূমি অফিসে নামজারির জন্য আবেদন করে। তবে বাকলিয়া সার্কেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুমা আক্তার কণা বলেন, “ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের জমি নিয়ে মামলা চলছে। মামলা চলাকালে নামজারি হবে না। এর আগেও চারবার নামজারির আবেদন খারিজ করা হয়েছে, এবারও খারিজ হবে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার বলেন, “মাঠটি এখনও বিদ্যালয়ের ভোগ দখলে রয়েছে। আমরা প্রশাসনের সহায়তা পাচ্ছি। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।”

এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, “মাঠের জমি ক্রয়-বিক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসেও যাচাই করা হবে।”

উল্লেখ্য, ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। ২০২৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়’ হিসেবে স্বীকৃতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। এই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ বহু বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী।

ডিএস./