শেরপুরে নিজের বসতভিটায় প্রবেশ করতে না পারার অভিযোগ তুলেছেন আহনাফ শাকিল প্রিন্স নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।
তিনি দাবি করেছেন, তাঁর চাচা মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান দুলাল স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার মদদে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং বাড়ি ফেরত পেতে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। দীর্ঘদিন থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে শেরপুর শহরের সজবরখিলায় শেফালী স্টিল হাউজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আহনাফ শাকিল এসব অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, তিনি উত্তরা ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। পিতা-মাতা দুজনেই মারা গেছেন। পড়াশোনার কারণে ঢাকায় অবস্থানকালীন গত বছরের ৫ আগস্ট তাঁর চাচা দেলোয়ার রহমান দুলাল বসতভিটায় প্রবেশ করে মালামাল লুট করেন।
এ ঘটনায় আদালতের আশ্রয় নিলে পিবিআই কিছু মালামাল উদ্ধার করে। পরবর্তীতে একই চাচা আবারও ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। পুলিশ ঘটনাটির সত্যতা পেয়ে দেলোয়ার রহমানকে কারাগারে পাঠালেও জামিনে বের হয়ে তিনি ফের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ভাতিজাকে ঘর থেকে বের করে দেন।
আহনাফ শাকিলের অভিযোগ, গত ৬ মে গভীর রাতে স্থানীয় নেতার ছত্রছায়ায় তাঁর চাচা দেলোয়ার রহমান ও সহযোগীরা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেয়। তখন এলাকায় থাকতে হলে ৬০ লাখ টাকা দিতে হবে, না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে থানায় তাঁর করা চাঁদাবাজির অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না পুলিশ। ফলে তিনি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কখনও হোটেল, কখনও বন্ধু কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন। তিনি প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান দুলাল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের উচ্ছেদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমার ভাতিজা আমাকে হেয় করার জন্য এমন অপপ্রচার করছে। বসতভিটা আমারই দখলে ছিল, সেখানে চাঁদাবাজির কোনো প্রশ্নই আসে না।”
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জোবায়দুল আলম জানায়, ইতিপূর্বে ওই চাচা-ভাতিজার জমি নিয়ে বিরোধের বিষয় নিয়ে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে। এরপর একই ঘটনায় আবারো চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে যে অভিযোগটি দেওয়া হয়েছে তা তদন্তাধীন রয়েছে। মামলা নেয়া হচ্ছে না এটা ঠিক নয়।
ডিএস./












