০১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে র‍্যালী ও আলোচনা সভা

“মাতৃদুগ্ধকে অগ্রাধিকার দিন, টেকসই সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন” এই প্রতিপাদ্যে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে র‍্যালী পরবর্তী আলোচনা সভা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালীটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে শুরু হয়ে হাসপাতালের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাপ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালটেন্ট (চক্ষু) ডাঃ ফজলুল তাওহীদ চৌধুরী, কনসালটেন্ট (সার্জারী) ডাঃ আব্দুল্যাহ্ আল মারুফ।

স্বাগত বক্তব্যে ডাঃ ফজলুল তাওহীদ চৌধুরী বলেন, শিশুর জন্মের পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই যদি তাকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয়, তবে মৃত্যুঝুঁকি ৩১ শতাংশ কমে যায়। আর ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ (এক ফোঁটা পানিও নয়) খাওয়ানো হলে শিশুমৃত্যুর হার আরও ১৩ শতাংশ হ্রাস পায়।

তিনি আরও বলেন, শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে ‘শালদুধ’ (কলা বা হলুদাভ গাঢ় দুধ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু পুষ্টিকরই নয়, বরং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রথম টিকার মতো কাজ করে। এই সময়টিতে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে মায়ের দুধ অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলতাপ হোসেন বলেন, কৌটায় সংরক্ষিত দুধ বা গুঁড়ো দুধ শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে ডায়রিয়ার ঝুঁকি ১০ গুণ, নিউমোনিয়ার ঝুঁকি প্রায় ১৫ গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, শৈশবকালীন ক্যানসার, পরবর্তী জীবনে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও বাড়ে। শুধু শিশুই নয়, মায়ের জন্যও বুকের দুধ খাওয়ানো স্বাস্থ্যকর। নিয়মিত দুধ খাওয়ালে স্তন ক্যানসারের আশঙ্কা কমে, মায়ের শরীর দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে এবং মানসিক প্রশান্তি তৈরী হয়।

তিনি আরও বলেন, মাতৃদুগ্ধ শুধু একটি খাবার নয়, এটি শিশুর জীবনের ভিত্তি, রোগ প্রতিরোধের প্রধান স্তম্ভ এবং এক ধরনের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, মেডিকেল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ ও অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে র‍্যালী ও আলোচনা সভা

প্রকাশিত : ০৪:৪৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

“মাতৃদুগ্ধকে অগ্রাধিকার দিন, টেকসই সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন” এই প্রতিপাদ্যে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে র‍্যালী পরবর্তী আলোচনা সভা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালীটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে শুরু হয়ে হাসপাতালের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাপ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালটেন্ট (চক্ষু) ডাঃ ফজলুল তাওহীদ চৌধুরী, কনসালটেন্ট (সার্জারী) ডাঃ আব্দুল্যাহ্ আল মারুফ।

স্বাগত বক্তব্যে ডাঃ ফজলুল তাওহীদ চৌধুরী বলেন, শিশুর জন্মের পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই যদি তাকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয়, তবে মৃত্যুঝুঁকি ৩১ শতাংশ কমে যায়। আর ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ (এক ফোঁটা পানিও নয়) খাওয়ানো হলে শিশুমৃত্যুর হার আরও ১৩ শতাংশ হ্রাস পায়।

তিনি আরও বলেন, শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে ‘শালদুধ’ (কলা বা হলুদাভ গাঢ় দুধ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু পুষ্টিকরই নয়, বরং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রথম টিকার মতো কাজ করে। এই সময়টিতে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে মায়ের দুধ অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলতাপ হোসেন বলেন, কৌটায় সংরক্ষিত দুধ বা গুঁড়ো দুধ শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে ডায়রিয়ার ঝুঁকি ১০ গুণ, নিউমোনিয়ার ঝুঁকি প্রায় ১৫ গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, শৈশবকালীন ক্যানসার, পরবর্তী জীবনে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও বাড়ে। শুধু শিশুই নয়, মায়ের জন্যও বুকের দুধ খাওয়ানো স্বাস্থ্যকর। নিয়মিত দুধ খাওয়ালে স্তন ক্যানসারের আশঙ্কা কমে, মায়ের শরীর দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে এবং মানসিক প্রশান্তি তৈরী হয়।

তিনি আরও বলেন, মাতৃদুগ্ধ শুধু একটি খাবার নয়, এটি শিশুর জীবনের ভিত্তি, রোগ প্রতিরোধের প্রধান স্তম্ভ এবং এক ধরনের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, মেডিকেল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ ও অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ।

ডিএস./