১২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

লেবাননের প্রতি ইঞ্চি মাটি ইসরায়েলকে ছাড়তে হবে: নাইম কাসেম

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে কখনো আত্মসমর্পণ করবে না হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহকে নির্মূল এবং দখলদারিত্ব স্থায়ী করার ইসরায়েলি প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। এই যুদ্ধে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন বিজয়ী হয়েছে এবং লেবাননের প্রতি ইঞ্চি মাটি থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম।

শুক্রবার (১৯ জুন) বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে নিহত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর সমাধিতে আয়োজিত মহররমের শোকসভায় বক্তব্য দেন মহাসচিব নাইম কাসেম। তিনি বলেন, আমরা কারবালার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং সেই অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসব না।

কাসেমের ভাষায়, শত্রু যখন অস্ত্র নিয়ে আমাদের মোকাবিলা করে, আমরাও অস্ত্র দিয়েই জবাব দিই। আমরা কখনো দখলদারিত্ব মেনে নিইনি।

তিনি দাবি করেন, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের যুদ্ধকৌশল ও অস্ত্রভাণ্ডার আরও উন্নত হয়েছে এবং তাদের দৃঢ়তা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার মতে, হিজবুল্লাহকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে এবং ইসরায়েলকে শেষ পর্যন্ত লেবাননের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমি থেকে সরে যেতে হবে।

মহাসচিব কাসেম বলেন, ২ মার্চের আগের পরিস্থিতিতে আর ফিরে যাওয়া হবে না। আমাদের ভূমি থেকে শত্রুকে বিতাড়িত করা হবেই। সংগঠনটি প্রায় তিন লাখ পরিবারের পুনর্বাসন ও আবাসনের ব্যবস্থা করেছে, প্রতিরোধ বাহিনীর ঐক্য অক্ষুণ্ন রেখেছে এবং কৌশলগত ধৈর্যের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। লেবানন বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় পার করছে এবং দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪ টার দিকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। এর আগের দিন দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়াহ শহর ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এসব হামলার প্রতিবাদে হিজবুল্লাহর হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং পাঁচ সেনা আহত হয়েছে।

এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯১২ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।

এদিকে, দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৬৯৩ জনের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন আইডিএফ-এর সদস্য এবং ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক।

এছাড়া ইউএস সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত চলাকালে ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

ডিএস./

টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে নেমে একই পরিবারের চারজন নিহত

লেবাননের প্রতি ইঞ্চি মাটি ইসরায়েলকে ছাড়তে হবে: নাইম কাসেম

প্রকাশিত : ০৯:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে কখনো আত্মসমর্পণ করবে না হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহকে নির্মূল এবং দখলদারিত্ব স্থায়ী করার ইসরায়েলি প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। এই যুদ্ধে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন বিজয়ী হয়েছে এবং লেবাননের প্রতি ইঞ্চি মাটি থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম।

শুক্রবার (১৯ জুন) বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে নিহত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর সমাধিতে আয়োজিত মহররমের শোকসভায় বক্তব্য দেন মহাসচিব নাইম কাসেম। তিনি বলেন, আমরা কারবালার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং সেই অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসব না।

কাসেমের ভাষায়, শত্রু যখন অস্ত্র নিয়ে আমাদের মোকাবিলা করে, আমরাও অস্ত্র দিয়েই জবাব দিই। আমরা কখনো দখলদারিত্ব মেনে নিইনি।

তিনি দাবি করেন, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের যুদ্ধকৌশল ও অস্ত্রভাণ্ডার আরও উন্নত হয়েছে এবং তাদের দৃঢ়তা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার মতে, হিজবুল্লাহকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে এবং ইসরায়েলকে শেষ পর্যন্ত লেবাননের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমি থেকে সরে যেতে হবে।

মহাসচিব কাসেম বলেন, ২ মার্চের আগের পরিস্থিতিতে আর ফিরে যাওয়া হবে না। আমাদের ভূমি থেকে শত্রুকে বিতাড়িত করা হবেই। সংগঠনটি প্রায় তিন লাখ পরিবারের পুনর্বাসন ও আবাসনের ব্যবস্থা করেছে, প্রতিরোধ বাহিনীর ঐক্য অক্ষুণ্ন রেখেছে এবং কৌশলগত ধৈর্যের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। লেবানন বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় পার করছে এবং দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪ টার দিকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। এর আগের দিন দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়াহ শহর ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এসব হামলার প্রতিবাদে হিজবুল্লাহর হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং পাঁচ সেনা আহত হয়েছে।

এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯১২ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।

এদিকে, দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৬৯৩ জনের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন আইডিএফ-এর সদস্য এবং ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক।

এছাড়া ইউএস সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত চলাকালে ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

ডিএস./