আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণমাধ্যমে অনেক কিছু লেখা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এখন সাংবাদিকরা সত্য-মিথ্যা সবই লিখতে পারছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানুষ ইচ্ছামতো কথা বলতে পারছেন।’
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডির আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ২৫টি ‘চা-ঘর’ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রংপুর অঞ্চলের ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এসব ‘চা-ঘর’ তুলে দেওয়া হয়। লাভ শেয়ার বিডির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্য ও বেকারত্বের চক্র থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বের করে এনে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
অনুষ্ঠানে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মতো ভাষায় কথা বলছে। তারা বিরোধী দল। কখন কী বলছে, সেটা তারাই ভালো জানে। তিনি বলেন, জনগণের মেজরিটি ম্যান্ডেট পাওয়া বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হলে তখন সমালোচনা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা মেজরিটি পেয়েছি, আমরা সংসদ চালাবো, দেশ চালাবো। আমরা যদি ব্যর্থ হই, তখন আপনারা বলবেন-দেশ চালাতে পারেন নাই। কাজ করার আগেই রাস্তায় নেমে পড়া গণতন্ত্রের ভাষা নয়।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সংকটে থাকা প্রশাসনকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। একটি বড় ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ে পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে সময় প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, তাদের আমলে ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা, ২০ হাজার মানুষকে হত্যা এবং ১ হাজার ৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছে। ছাত্র-শিশুসহ প্রায় ৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাংবাদিকরা অনেক কিছু লিখতে পারেননি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গণমাধ্যমে লেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন সাংবাদিকরা সত্য-মিথ্যা সবই লিখতে পারছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকারকে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে হচ্ছে।
সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার। একটি পরিবারকে দীর্ঘদিন সহায়তা দেওয়ার চেয়ে তাকে আয় করার সুযোগ করে দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রদূত ও সিনিয়র সচিব মো. মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সবচেয়ে কার্যকর পথ হচ্ছে তাদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা। ছোট একটি উদ্যোগও একটি পরিবারের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. সামসুজ্জামান সামু বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বী করতে লাভ শেয়ার বিডির এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খান বলেন, দাননির্ভরতা নয়, আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রাথমিকভাবে রংপুর অঞ্চলের ২৫ জনকে বাছাই করে ২৫টি চা-ঘর দেওয়া হয়েছে। এসব চা-ঘরের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা নিজেরাই আয় করতে পারবেন। এতে পরিবারের ব্যয় পরিচালনার পাশাপাশি ধীরে ধীরে আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, চা-ঘরগুলো শুধু ব্যবসা পরিচালনার কাঠামো নয়; সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের একটি সুযোগ। এসব চা-ঘর থেকে আয় করে পরিবারগুলোর আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সুবিধাভোগীরা জানান, নিজেদের আয় করার স্থায়ী একটি সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। চা-ঘরের আয় দিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান তারা।
আলোচনা সভা শেষে ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫টি চা-ঘর হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিএনপির নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ডিএস./



















