০৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

কালিয়াকৈরে শ্রমিক বিক্ষোভে রণক্ষেত্র: পুলিশ,সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাসহ আহত ১০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই শ্রমিক বিক্ষোভ একপর্যায়ে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসব ঘটনায় বিজিবি সদস্য, পুলিশ, সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। টানা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা মহাসড়কের উভয় পাশে অবস্থান নিলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে চারদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও মাঠে নামেন। সংঘর্ষের সময় বিজিবি সদস্য, পুলিশ, সংবাদকর্মী ও বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে আহতদের নাম-পরিচয় বা তাঁদের চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সকাল থেকে মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় চন্দ্রা থেকে মৌচাক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন আটকে থাকায় যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষও দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকেন।
পরবর্তীতে টানা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ, সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর দুপুরের দিকে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়। আটকে থাকা যানবাহনগুলো গন্তব্যে রওনা হলে মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করেছে। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফকরুল হোসাইন জানান, “শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাঁদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”

 

ডিএস./

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শ্রমিকদের আন্দোলনে পতিত শক্তির দোসররা ঢুকে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কালিয়াকৈরে শ্রমিক বিক্ষোভে রণক্ষেত্র: পুলিশ,সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাসহ আহত ১০

প্রকাশিত : ০৪:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই শ্রমিক বিক্ষোভ একপর্যায়ে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসব ঘটনায় বিজিবি সদস্য, পুলিশ, সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। টানা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা মহাসড়কের উভয় পাশে অবস্থান নিলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে চারদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও মাঠে নামেন। সংঘর্ষের সময় বিজিবি সদস্য, পুলিশ, সংবাদকর্মী ও বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে আহতদের নাম-পরিচয় বা তাঁদের চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সকাল থেকে মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় চন্দ্রা থেকে মৌচাক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন আটকে থাকায় যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষও দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকেন।
পরবর্তীতে টানা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ, সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর দুপুরের দিকে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়। আটকে থাকা যানবাহনগুলো গন্তব্যে রওনা হলে মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করেছে। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফকরুল হোসাইন জানান, “শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাঁদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”

 

ডিএস./