একসঙ্গে ছিল ১২টি সংগঠন। সব কটিই টেলিভিশনের নাটক নির্মাণসংশ্লিষ্ট। পাঁচ দফা দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছিল শহীদ মিনারে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর সেখানে অভিনয়শিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট ১২ সংগঠন মিলেই করেছিল এই আন্দোলন। দাবি মানার পক্ষে দেওয়া হয়েছিল আলটিমেটাম। কিন্তু গত দুই বছরে তাঁদের দাবিদাওয়া তো পূরণ হয়ইনি, উল্টো থেমে গিয়েছে আন্দোলন।
অভিনয় শিল্পী সংঘ, ডিরেক্টরস গিল্ডসহ মোট ১২টি সংগঠন মিলে গড়ে তুলেছিল এফটিপিও (ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন)। টেলিভিশন শিল্পী ও কলাকুশলী সমাবেশের এই আন্দোলনের স্লোগান ছিল: ‘শিল্পে বাঁচি, শিল্প বাঁচাই’। শিল্প বাঁচানোর এই আন্দোলন কি শেষমেশ ব্যর্থ?
দুই বছর পরও আন্দোলনকে সরাসরি ব্যর্থ বলতে নারাজ এফটিপিওর সদস্যসচিব গাজী রাকায়েত। আন্দোলনের সময় তিনি ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এখন কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে নতুন করে আন্দোলন করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, এখন নির্বাচনী সময় চলছে। সামনে হয়তো অনেক কিছুরই পরিবর্তন হবে। তবে আমরা কয়েকটি সংগঠন মিলে নিজেরা সংগঠিত হচ্ছি। এফটিপিও আছে ও থাকবে।’ তিনি বেশ কয়েকটি আন্দোলনের উদাহরণ টেনে নিয়ে বলেন, কোন আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেছে?
২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বরের সমাবেশে এফটিপিও যে পাঁচটি দাবি করেছিল সেগুলো হলো—এক, দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বাংলায় ডাবকৃত বিদেশি সিরিয়াল ও অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধ করা; দুই, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ ক্রয় ও প্রচারের ক্ষেত্রে এজেন্সির হস্তক্ষেপ ছাড়া চ্যানেলের অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে; তিন, টেলিভিশন শিল্পের সব ক্ষেত্রে এআইটির (অ্যানুয়াল ইনকাম ট্যাক্স) ন্যূনতম ও যৌক্তিক হার পুনর্নির্ধারণ করতে হবে; চার, দেশের টেলিভিশন শিল্পে বিদেশি শিল্পী ও কলাকুশলীদের অবৈধভাবে কাজ করা বন্ধ করতে হবে; পাঁচ, ডাউনলিংক চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে হবে।
ওপরের পাঁচটির মধ্যে শেষ দাবি এরই মধ্যে পূরণ হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে এফটিপিওর চেয়ে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) ভূমিকা বেশি।
এফটিপিও আন্দোলন নিয়ে কথা হলো ডিরেক্টরস গিল্ডের বর্তমান সভাপতি সালাহউদ্দিন লাভলুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যখন এই আন্দোলন হয়, তখন আমি এটার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। তবে আমি বিষয়টি জানি। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা সবাই বসেছিলাম। শুধু এটা না, আমাদের সংগঠিত হওয়া নিয়ে চূড়ান্ত কথা হয়েছে।’
এদিকে আন্দোলনের পর কেব্ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশ প্রদানের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা মিলে একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করেন। এই কমিটির আহ্বায়ক বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন অর রশীদ। কয়েক দিন আগে সুপারিশমালা নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার কাজ নীতিমালা তৈরি করা। সবাই মিলে সেটি করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। এটা বাস্তবায়ন করবেন তাঁরাই। আমার আর কিছু করার নেই।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বাংলায় ডাবকৃত বিদেশি সিরিয়াল ও অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধ করা হলেও গত দুই বছরে বিদেশি ধারাবাহিকের প্রচার আরও বেড়েছে। এমনকি ওই সময় ‘কখনোই প্রচার করব না’ ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা চ্যানেলও সম্প্রতি বিদেশি ধারাবাহিক প্রচার শুরু করেছে। বর্তমানে বিনোদননির্ভর বেশির ভাগ চ্যানেলেই চলছে বিদেশি ধারাবাহিক। সামনে আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিবি/রেআ
















