০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রকাশ হলো প্রিয়াঙ্কা-নিকের বিয়ের ছবি

অপেক্ষার অবসান। অবশেষে সামনে এল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাসের বিয়ের ছবি। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের বিয়ের ছবি পোস্ট করেন নবদম্পতি। মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরো ছবি সামনে আসে।

শনিবার জোধপুরের উমেদ ভবনে প্রথম খ্রিস্টান মতে বিয়ে সারেন প্রিয়াঙ্কা-নিক। তাতে পাদ্রীর ভূমিকা পালন করেন নিকের বাবা পল কেভিন জোনাস। আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবের সামনে সেখানে একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করেন দু’জনে।

ইনস্টাগ্রামে বিয়ের ছবি পোস্ট করে প্রিয়াঙ্কা লেখেন, আমাদের চিরদিনের যাত্রা শুরু হল। নিক লেখেন, আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত।

পরনে সাদা গাউন, পরে প্রিয়াঙ্কা তখন বিয়ের জন্য তৈরি। বিয়ের মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সময় মা মধু চোপড়া যখন তার হাতে সাদা জিনিয়া ফুলের বোকে ধরিয়ে দিচ্ছিলেন তখন প্রিয়াঙ্কার হাত নাকি কাঁপছিল। আর পাঁচজন সাধারণ ভারতীয় মেয়ের মতোই ভীষণই নার্ভস হয়ে পড়েন তিনি। তারপর দরজা খুলে বের হয়ে নিককে দেখতেই সব ভয় কেটে যায় তার। মনে হতে থাকে, না, এটাই তার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত। বিয়ের আগে পরিস্থিতিকে নিজের মনের পরিস্থিতিকে এভাবেই তুলে ধরেছেন প্রিয়াঙ্কা।

প্রিয়াঙ্কার বাবা অশোক চোপড়া প্রয়াত হয়েছেন। তাই মা মধুই মেয়েকে নিকের হাতে তুলে দেন। খ্রিস্টান বিয়েতে মেয়ের মতো তিনিও পশ্চিমী পোশাকই বেছে নেন।

শ্বেত-শুভ্র সাদা গাউনে প্রিয়ঙ্কা একাই অবশ্য উমেদ ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। সিঁড়ি দিয়ে কয়েক ধাপ নেমে এলে তার হাত ধরেন মা মধু। তার পর সবুজ ঘাসের উপর দিয়ে বিবাহ মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান তারা।

এদিকে প্রিয়াঙ্কাকে বধূ বেশে দেখে চোখে জল এসে যায় নিকের। একইভাবে নিককে দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কাও। বিয়ের পর রোম্যান্টিক ডান্স করতে দেখা যায় প্রিয়াঙ্কা-নিককে। পুরোটাই যেন ছিল স্বপ্নের মতোই সুন্দর…।

বিয়েতে প্রিয়াঙ্কা ও নিক দু’জনেই মার্কিন ডিজাইনার রাল্ফ লরেনের তৈরি পোশাক পরেছিলেন। এর আগে ওই সংস্থার পোশাকে রেড কার্পেটে ধরা দিয়েছেন বহু তারকাই। তবে এই প্রথম কোনো তারকার বিয়েতে পোশাক তৈরি করলেন তারা। প্রিয়াঙ্কার পোশাকটি তৈরি করতে নাকি সময় লেগেছে ১৮২৬ ঘণ্টা।

সাদা রঙের লেস বসানো, ফুলহাতা গাউন পরেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তার পিছনে ৭৫ ফুট লম্বা শিফনের সাদা ভেইল বসানো ছিল। আর এটি সামলাতে হাত লাগাতে হয় জনা কয়েক লোকজনকে।

প্রিয়াঙ্কার বিয়ে উপলক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকেই সেজে উঠতে শুরু করেছিল উমেদ ভবন। খ্রিস্টান মতে বিয়ের দিনও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল গোটা প্রাসাদ। সাদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিবাহস্থল। অতিথিদের বসার চেয়ারেও সাদা ফুল বাঁধা ছিল।

প্রিয়াঙ্কার খুড়তুতো বোন, অভিনেত্রী পরিণীতি ও মান্নারা চোপড়াও হাজির ছিলেন বিয়েতে। ছিলেন নিকের পরিবারের সব সদস্য এমনকি তার হবু ভাবীও। সকলের সামনে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে পোজও দেন দু’জনে।

রবিবার ওই উমেদ ভবনেই হিন্দু মতে বিয়ের আয়োজন হয়। ডিজাইনার সব্যসাচীর তৈরি লাল টুকটুকে লেহঙ্গা-চোলিতে মণ্ডপে আসেন প্রিয়াঙ্কা। নিকের পরনে ছিল সোনালী রঙের শেরওয়ানি। গলায় হার, মাথায় টিকলি, নাকে নথ ও হাতে চূড়া পরে এক্কেবারে পারফেক্ট ভারতীয় বধূ রূপে ধরা দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। আর নিকের পরনে ছিল সব্যসাচীর ডিজাইন করা অফ হোয়াইট রঙের শেরওয়ানি। পায়ে সোনালি রঙের জুতো।

ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় প্রিয়াঙ্কার লেহেঙ্গার বিবরণ দিয়ে লিখেছেন, লেহেঙ্গাটি ফরাসি সিল্কের লাল ক্রিস্টাল লেয়ারে বানানো লেহেঙ্গা। যেখানে রয়েছে অসংখ্যা হাতে তৈরি এমব্রয়ডারি ডিজাইনের ফুল। যেটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ৩৭২০ ঘণ্টা। লেহেঙ্গার এমব্রয়ডারি করেছেন ১১০ জন শিল্পী।

শুধু লেহেঙ্গাই নয়, প্রিয়াঙ্কা গয়নাও ডিজাইন করেছেন সব্যসাচী। যেটা ২২ ক্যারেট সোনার উপর জাপানি মুক্ত দিয়ে তৈরি, যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্যা হীরে। খানিকটা মুঘল গয়নার আদলে তৈরি হয়েছে এটি।

অন্যদিকে নিকের পরনে ছিল সিল্কের শেরওয়ানি। সঙ্গে এমব্রয়ডারি করা চিকনের দোপাট্টা। গলায় সব্যসাচীর ডিজাইন করা হীরের গয়না। জানা যাচ্ছে প্রিয়াঙ্কার অনুরোধেই ডিজাইনার তার লেহেঙ্গায় মা-বাবা মধু ও অশোক চোপড়ার পাশাপাশি নিক জোনাসের নামও লিখেছেন।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রকাশ হলো প্রিয়াঙ্কা-নিকের বিয়ের ছবি

প্রকাশিত : ১১:০৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৮

অপেক্ষার অবসান। অবশেষে সামনে এল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাসের বিয়ের ছবি। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের বিয়ের ছবি পোস্ট করেন নবদম্পতি। মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরো ছবি সামনে আসে।

শনিবার জোধপুরের উমেদ ভবনে প্রথম খ্রিস্টান মতে বিয়ে সারেন প্রিয়াঙ্কা-নিক। তাতে পাদ্রীর ভূমিকা পালন করেন নিকের বাবা পল কেভিন জোনাস। আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবের সামনে সেখানে একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করেন দু’জনে।

ইনস্টাগ্রামে বিয়ের ছবি পোস্ট করে প্রিয়াঙ্কা লেখেন, আমাদের চিরদিনের যাত্রা শুরু হল। নিক লেখেন, আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত।

পরনে সাদা গাউন, পরে প্রিয়াঙ্কা তখন বিয়ের জন্য তৈরি। বিয়ের মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সময় মা মধু চোপড়া যখন তার হাতে সাদা জিনিয়া ফুলের বোকে ধরিয়ে দিচ্ছিলেন তখন প্রিয়াঙ্কার হাত নাকি কাঁপছিল। আর পাঁচজন সাধারণ ভারতীয় মেয়ের মতোই ভীষণই নার্ভস হয়ে পড়েন তিনি। তারপর দরজা খুলে বের হয়ে নিককে দেখতেই সব ভয় কেটে যায় তার। মনে হতে থাকে, না, এটাই তার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত। বিয়ের আগে পরিস্থিতিকে নিজের মনের পরিস্থিতিকে এভাবেই তুলে ধরেছেন প্রিয়াঙ্কা।

প্রিয়াঙ্কার বাবা অশোক চোপড়া প্রয়াত হয়েছেন। তাই মা মধুই মেয়েকে নিকের হাতে তুলে দেন। খ্রিস্টান বিয়েতে মেয়ের মতো তিনিও পশ্চিমী পোশাকই বেছে নেন।

শ্বেত-শুভ্র সাদা গাউনে প্রিয়ঙ্কা একাই অবশ্য উমেদ ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। সিঁড়ি দিয়ে কয়েক ধাপ নেমে এলে তার হাত ধরেন মা মধু। তার পর সবুজ ঘাসের উপর দিয়ে বিবাহ মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান তারা।

এদিকে প্রিয়াঙ্কাকে বধূ বেশে দেখে চোখে জল এসে যায় নিকের। একইভাবে নিককে দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কাও। বিয়ের পর রোম্যান্টিক ডান্স করতে দেখা যায় প্রিয়াঙ্কা-নিককে। পুরোটাই যেন ছিল স্বপ্নের মতোই সুন্দর…।

বিয়েতে প্রিয়াঙ্কা ও নিক দু’জনেই মার্কিন ডিজাইনার রাল্ফ লরেনের তৈরি পোশাক পরেছিলেন। এর আগে ওই সংস্থার পোশাকে রেড কার্পেটে ধরা দিয়েছেন বহু তারকাই। তবে এই প্রথম কোনো তারকার বিয়েতে পোশাক তৈরি করলেন তারা। প্রিয়াঙ্কার পোশাকটি তৈরি করতে নাকি সময় লেগেছে ১৮২৬ ঘণ্টা।

সাদা রঙের লেস বসানো, ফুলহাতা গাউন পরেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তার পিছনে ৭৫ ফুট লম্বা শিফনের সাদা ভেইল বসানো ছিল। আর এটি সামলাতে হাত লাগাতে হয় জনা কয়েক লোকজনকে।

প্রিয়াঙ্কার বিয়ে উপলক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকেই সেজে উঠতে শুরু করেছিল উমেদ ভবন। খ্রিস্টান মতে বিয়ের দিনও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল গোটা প্রাসাদ। সাদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিবাহস্থল। অতিথিদের বসার চেয়ারেও সাদা ফুল বাঁধা ছিল।

প্রিয়াঙ্কার খুড়তুতো বোন, অভিনেত্রী পরিণীতি ও মান্নারা চোপড়াও হাজির ছিলেন বিয়েতে। ছিলেন নিকের পরিবারের সব সদস্য এমনকি তার হবু ভাবীও। সকলের সামনে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে পোজও দেন দু’জনে।

রবিবার ওই উমেদ ভবনেই হিন্দু মতে বিয়ের আয়োজন হয়। ডিজাইনার সব্যসাচীর তৈরি লাল টুকটুকে লেহঙ্গা-চোলিতে মণ্ডপে আসেন প্রিয়াঙ্কা। নিকের পরনে ছিল সোনালী রঙের শেরওয়ানি। গলায় হার, মাথায় টিকলি, নাকে নথ ও হাতে চূড়া পরে এক্কেবারে পারফেক্ট ভারতীয় বধূ রূপে ধরা দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। আর নিকের পরনে ছিল সব্যসাচীর ডিজাইন করা অফ হোয়াইট রঙের শেরওয়ানি। পায়ে সোনালি রঙের জুতো।

ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় প্রিয়াঙ্কার লেহেঙ্গার বিবরণ দিয়ে লিখেছেন, লেহেঙ্গাটি ফরাসি সিল্কের লাল ক্রিস্টাল লেয়ারে বানানো লেহেঙ্গা। যেখানে রয়েছে অসংখ্যা হাতে তৈরি এমব্রয়ডারি ডিজাইনের ফুল। যেটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ৩৭২০ ঘণ্টা। লেহেঙ্গার এমব্রয়ডারি করেছেন ১১০ জন শিল্পী।

শুধু লেহেঙ্গাই নয়, প্রিয়াঙ্কা গয়নাও ডিজাইন করেছেন সব্যসাচী। যেটা ২২ ক্যারেট সোনার উপর জাপানি মুক্ত দিয়ে তৈরি, যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্যা হীরে। খানিকটা মুঘল গয়নার আদলে তৈরি হয়েছে এটি।

অন্যদিকে নিকের পরনে ছিল সিল্কের শেরওয়ানি। সঙ্গে এমব্রয়ডারি করা চিকনের দোপাট্টা। গলায় সব্যসাচীর ডিজাইন করা হীরের গয়না। জানা যাচ্ছে প্রিয়াঙ্কার অনুরোধেই ডিজাইনার তার লেহেঙ্গায় মা-বাবা মধু ও অশোক চোপড়ার পাশাপাশি নিক জোনাসের নামও লিখেছেন।

বিবি/জেজে