০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ ও নগদ নাম্বার ক্লোন করে প্রতারণার গ্রেফতার: ৯

এলিট ফোর্স হিসেবে র‍্যাব-১০ এর আত্মপ্রকাশের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাব-১০ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারে যে, কতিপয় প্রতারক চক্র বেশ কিছুদিন যাবৎ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) ব্যবসায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ/নগদের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারিত করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-১০ উক্ত প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তদন্তের এক পর্যায়ে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল জানতে পারে উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার নামে একটি প্রতারক চক্রর কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় বসবাসকারী ভিকটিম ইসতাহাদ উদ্দিন সোহান (১৯)এর মোবাইল নাম্বারে গত ২২ মার্চ ২৪ ইং ৩ঃ৩৬ ঘটিকায় কল দিয়ে তার নাম্বারে উপবৃত্তির টাকা পাঠাবে বলে কৌশলে তার বিকাশের পিন নাম্বার নিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে উক্ত প্রতারক চক্র সর্বমোট ৩৮,২৫৮/- (আটত্রিশ হাজার দুইশত আটান্ন) টাকা তার একাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলে। সে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করে। এছাড়া গত ২৪/০৩/২৪ তারিখ কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক শিক্ষাথীর কাছ একই প্রতারক চক্র ২০,৪০০/- (বিশ হাজার চারশত) টাকা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা এলাকার লোকমান হোসেন (৪৪) এর কাছ থেকে তার ছেলের নামে উপবৃত্তির কথা বলে ১৬৩০০/- (ষোল হাজার তিনশত) টাকা প্রতারনা করে।

একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে।উক্ত অভিযানে সাধারণ মানুষকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদানের নামে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারিত করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের অন্যতম মূল হোতা ইসমাইল মাতুব্বর (২১) জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত অপর আসামিদের

দুপুরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক এ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান,গ্রেফতারকৃত মোঃ সুমন ইসলাম মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) ব্যবসায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এজেন্টদের নিকট হতে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারিত করে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রটির মূল হোতা। তার নেতৃত্বে পরষ্পর যোগসাজশে চক্রটি প্রায় ৮-৯ মাস যাবৎ বিভিন্ন বিকাশ/নগদ ব্যবসায়ী এজেন্টদের সাথে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। তারা সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা হতে অবৈধ উপায়ে নতুন এজেন্টদের নাম্বার সংগ্রহ করতো।

তিনি আরো জানান চক্রটি এ যাবৎ এক বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে শতাধিক সাধারন মানুষের নিকট হতে বয়স্ক ভাতা, বিধাব ভাতা ও উপবৃত্তি প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২০/২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানায়। চক্রটির সবাই স্বল্প সময়ে ধনী হওয়ার আশায় এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়।

সুমন প্রথমে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে বিকাশ/নগদের প্রতিনিধিদের নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন বিকাশ/নগদ এজেন্টদের ফোন দিয়ে নিজেকে বিকাশ/নগদের প্রতিনিধির পরিচয় দিত। তারা প্রতিদিন গড়ে ২০ টা নাম্বারে কল দিতো। অতঃপর বিকাশ/নগদ এজেন্টদেরকে হাজারে ০৪ টাকার পরিবর্তে ৮-১০ টাকা লাভ করার বিভিন্ন অফার সম্পর্কে অবহিত করতো। এক্ষেত্রে এজেন্টরা উক্ত অফার সম্পর্কে অবগত নয় বললে সুমন এজেন্টদের নিকট হতে বিকাশ/নগদের এসআরের ফোন নম্বর নিয়ে ক্লোন করে উক্ত নম্বর হতে এজেন্টদের ফোন করে সার্ভিস রিপ্রেজেনটেটিভের (এসআর) পরিচয় দিয়ে বলতো উনি আমাদের বস উনি যা বলেন সেভাবে কাজ করেন বলে ফোন কেটে দিত।

অতঃপর উক্ত টাকা তারা সবাই মিলে ভাগ করে নিত। এই চক্রটি ০২ বছর যাবৎ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৬০-৭০ জন বিকাশ/নগদ এজেন্ট ব্যবসায়ীদের নিকট হতে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানায়। তারা সবাই স্বল্প সময়ে কোটিপতি হবার আশায় এবং মাদক সেবনের অর্থ যোগান দিতে এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়।গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/DS

ট্যাগ :

মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ ও নগদ নাম্বার ক্লোন করে প্রতারণার গ্রেফতার: ৯

প্রকাশিত : ০৬:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪

এলিট ফোর্স হিসেবে র‍্যাব-১০ এর আত্মপ্রকাশের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাব-১০ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারে যে, কতিপয় প্রতারক চক্র বেশ কিছুদিন যাবৎ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) ব্যবসায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ/নগদের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারিত করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-১০ উক্ত প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তদন্তের এক পর্যায়ে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল জানতে পারে উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার নামে একটি প্রতারক চক্রর কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় বসবাসকারী ভিকটিম ইসতাহাদ উদ্দিন সোহান (১৯)এর মোবাইল নাম্বারে গত ২২ মার্চ ২৪ ইং ৩ঃ৩৬ ঘটিকায় কল দিয়ে তার নাম্বারে উপবৃত্তির টাকা পাঠাবে বলে কৌশলে তার বিকাশের পিন নাম্বার নিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে উক্ত প্রতারক চক্র সর্বমোট ৩৮,২৫৮/- (আটত্রিশ হাজার দুইশত আটান্ন) টাকা তার একাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলে। সে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করে। এছাড়া গত ২৪/০৩/২৪ তারিখ কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক শিক্ষাথীর কাছ একই প্রতারক চক্র ২০,৪০০/- (বিশ হাজার চারশত) টাকা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা এলাকার লোকমান হোসেন (৪৪) এর কাছ থেকে তার ছেলের নামে উপবৃত্তির কথা বলে ১৬৩০০/- (ষোল হাজার তিনশত) টাকা প্রতারনা করে।

একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে।উক্ত অভিযানে সাধারণ মানুষকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদানের নামে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারিত করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের অন্যতম মূল হোতা ইসমাইল মাতুব্বর (২১) জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত অপর আসামিদের

দুপুরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক এ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান,গ্রেফতারকৃত মোঃ সুমন ইসলাম মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) ব্যবসায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এজেন্টদের নিকট হতে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারিত করে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রটির মূল হোতা। তার নেতৃত্বে পরষ্পর যোগসাজশে চক্রটি প্রায় ৮-৯ মাস যাবৎ বিভিন্ন বিকাশ/নগদ ব্যবসায়ী এজেন্টদের সাথে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। তারা সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা হতে অবৈধ উপায়ে নতুন এজেন্টদের নাম্বার সংগ্রহ করতো।

তিনি আরো জানান চক্রটি এ যাবৎ এক বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে শতাধিক সাধারন মানুষের নিকট হতে বয়স্ক ভাতা, বিধাব ভাতা ও উপবৃত্তি প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২০/২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানায়। চক্রটির সবাই স্বল্প সময়ে ধনী হওয়ার আশায় এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়।

সুমন প্রথমে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে বিকাশ/নগদের প্রতিনিধিদের নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন বিকাশ/নগদ এজেন্টদের ফোন দিয়ে নিজেকে বিকাশ/নগদের প্রতিনিধির পরিচয় দিত। তারা প্রতিদিন গড়ে ২০ টা নাম্বারে কল দিতো। অতঃপর বিকাশ/নগদ এজেন্টদেরকে হাজারে ০৪ টাকার পরিবর্তে ৮-১০ টাকা লাভ করার বিভিন্ন অফার সম্পর্কে অবহিত করতো। এক্ষেত্রে এজেন্টরা উক্ত অফার সম্পর্কে অবগত নয় বললে সুমন এজেন্টদের নিকট হতে বিকাশ/নগদের এসআরের ফোন নম্বর নিয়ে ক্লোন করে উক্ত নম্বর হতে এজেন্টদের ফোন করে সার্ভিস রিপ্রেজেনটেটিভের (এসআর) পরিচয় দিয়ে বলতো উনি আমাদের বস উনি যা বলেন সেভাবে কাজ করেন বলে ফোন কেটে দিত।

অতঃপর উক্ত টাকা তারা সবাই মিলে ভাগ করে নিত। এই চক্রটি ০২ বছর যাবৎ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৬০-৭০ জন বিকাশ/নগদ এজেন্ট ব্যবসায়ীদের নিকট হতে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানায়। তারা সবাই স্বল্প সময়ে কোটিপতি হবার আশায় এবং মাদক সেবনের অর্থ যোগান দিতে এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়।গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/DS