০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

২ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় এক মাস আগেও লড়ি ও হাজারি জাতের বেগুনের দাম মাত্র ২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন কিন্তু সেই বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। কৃষিপ্রধান এলাকা আক্কেলপুরে তিন ফসলি জমির কৃষকদের বেগুনের দাম বেশি হলেও কৃষকের মুখে নেই হাসি।

জানা গেছে, প্রতি বছর এই মৌসুমে বেগুনের দাম কম হয় কিন্তু অব্যাহত তীব্র তাপমাত্রা ও খরার কারণে বেগুন গাছে নতুন করে ফুল আসছে না। এ দিকে পোকার আক্রমণ ও গাছও মরে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে গেছে। বাজারে বেগুনের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, খরা ও তীব্র তাপদাহের কারণে এ বছর উৎপাদন খুব বেশি হয়নি। বাজারে চাহিদা প্রচুর। চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। বাজারে নিয়ে গেলে বেগুনের ক্রেতা প্রচুর। অথচ রমজান মাসে প্রতি কেজি বেগুন ২ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হয়েছে। বহিরাগত ব্যবসায়ীরা বাজারে এসে চাষিদের কাছে কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় সবজির বাজারে পাঠাচ্ছেন। দাম বেশি হলেও উৎপাদন কম থাকায় বিঘা প্রতি মাত্র ৪-৫ মণ করে বেগুন পাওয়া যাচ্ছে। এতে চাষিরা তেমন লাভবান হচ্ছেন না।

লড়ি বেগুন তুলে কলেজ বাজার পাইকারি সবজি বাজারে নিয়ে এসেছেন উপজেলার রোয়াইর গ্রামের কৃষক নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, সকালে এসে দাঁড়িয়েছি বেগুনের ক্রেতা প্রচুর। বাজার শুরুর দিকে কয়েকজন ক্রেতা এসেছে ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা পর্যন্ত দাম হাকাচ্ছেন। বেগুনের দাম ভালো কিন্তু উৎপাদন খারাপ ও গাছে পোকার আক্রমণ বেশি।

কৃষক নাজমুল হক আরও বলেন, রমজান মাসে বেগুন বিক্রি করে মজুরির টাকা উঠেনি। এখন দাম ভালো। কিন্তু লাভ কী? ফলন কম, গাছ মরে যাচ্ছে। বিঘা প্রতি ৭ মণ বেগুন হওয়া কষ্টকর। প্রতি বিঘা বেগুন চাষাবাদ করতে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

কলেজ বাজারের পাইকারি বেগুন ক্রেতা মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমি হাজারি বেগুন ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা মণ কিনেছি। নরমাল (লড়ি) বেগুন প্রতি মণ ১৪শ থেকে ১৬শ টাকায়। রমজান মাসে বেগুনের আমদানি বেশি হওয়ায় ৬০ থেকে ৭০ মণ বেগুন কিনেছি। বর্তমানে আমদানি কম থাকায় ২০ মণ বেগুনও কেনা যাচ্ছে না। এসব বেগুন রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে পাঠাবো।

রুকিন্দীপুর ইউপির সাবেক সদস্য দিলিপ কুমার বলেন, আমি বাজারে ৪ মণ বেগুন এনেছি। উচ্চ ফলনশীল বেগুন প্রতি মন ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। আমি প্রতি বছর প্রচুর বেগুন চাষ করি। কিন্তু এ বছর খরার জন্য বেগুনের গাছে ফুল ফুটছে না, এতে ফলনও কম। রমজানে বেগুনের দাম কম ছিল এখন বেশি । ফলন বেশি থাকলে আমরা কৃষকরা লাভবান হতাম।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, সারাদেশে মাঝারি থেকে তীব্র তাপদাহ প্রবাহিত হচ্ছে। ওই তাপদাহে মাঠে ধানসহ অন্যান্য ফসল হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা প্রত্যেকটি কৃষককে বিশেষ করে ধান ও সবজি চাষিদের সেচ ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করছি। ধানখেতে কমপক্ষে ৩-৪ ইঞ্চি পানি ধরে রাখাসহ সবজির খেতে নিয়মিত সেচ দেওয়া হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা পাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :

২ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়

প্রকাশিত : ০৩:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মে ২০২৪

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় এক মাস আগেও লড়ি ও হাজারি জাতের বেগুনের দাম মাত্র ২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন কিন্তু সেই বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। কৃষিপ্রধান এলাকা আক্কেলপুরে তিন ফসলি জমির কৃষকদের বেগুনের দাম বেশি হলেও কৃষকের মুখে নেই হাসি।

জানা গেছে, প্রতি বছর এই মৌসুমে বেগুনের দাম কম হয় কিন্তু অব্যাহত তীব্র তাপমাত্রা ও খরার কারণে বেগুন গাছে নতুন করে ফুল আসছে না। এ দিকে পোকার আক্রমণ ও গাছও মরে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে গেছে। বাজারে বেগুনের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, খরা ও তীব্র তাপদাহের কারণে এ বছর উৎপাদন খুব বেশি হয়নি। বাজারে চাহিদা প্রচুর। চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। বাজারে নিয়ে গেলে বেগুনের ক্রেতা প্রচুর। অথচ রমজান মাসে প্রতি কেজি বেগুন ২ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হয়েছে। বহিরাগত ব্যবসায়ীরা বাজারে এসে চাষিদের কাছে কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় সবজির বাজারে পাঠাচ্ছেন। দাম বেশি হলেও উৎপাদন কম থাকায় বিঘা প্রতি মাত্র ৪-৫ মণ করে বেগুন পাওয়া যাচ্ছে। এতে চাষিরা তেমন লাভবান হচ্ছেন না।

লড়ি বেগুন তুলে কলেজ বাজার পাইকারি সবজি বাজারে নিয়ে এসেছেন উপজেলার রোয়াইর গ্রামের কৃষক নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, সকালে এসে দাঁড়িয়েছি বেগুনের ক্রেতা প্রচুর। বাজার শুরুর দিকে কয়েকজন ক্রেতা এসেছে ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা পর্যন্ত দাম হাকাচ্ছেন। বেগুনের দাম ভালো কিন্তু উৎপাদন খারাপ ও গাছে পোকার আক্রমণ বেশি।

কৃষক নাজমুল হক আরও বলেন, রমজান মাসে বেগুন বিক্রি করে মজুরির টাকা উঠেনি। এখন দাম ভালো। কিন্তু লাভ কী? ফলন কম, গাছ মরে যাচ্ছে। বিঘা প্রতি ৭ মণ বেগুন হওয়া কষ্টকর। প্রতি বিঘা বেগুন চাষাবাদ করতে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

কলেজ বাজারের পাইকারি বেগুন ক্রেতা মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমি হাজারি বেগুন ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা মণ কিনেছি। নরমাল (লড়ি) বেগুন প্রতি মণ ১৪শ থেকে ১৬শ টাকায়। রমজান মাসে বেগুনের আমদানি বেশি হওয়ায় ৬০ থেকে ৭০ মণ বেগুন কিনেছি। বর্তমানে আমদানি কম থাকায় ২০ মণ বেগুনও কেনা যাচ্ছে না। এসব বেগুন রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে পাঠাবো।

রুকিন্দীপুর ইউপির সাবেক সদস্য দিলিপ কুমার বলেন, আমি বাজারে ৪ মণ বেগুন এনেছি। উচ্চ ফলনশীল বেগুন প্রতি মন ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। আমি প্রতি বছর প্রচুর বেগুন চাষ করি। কিন্তু এ বছর খরার জন্য বেগুনের গাছে ফুল ফুটছে না, এতে ফলনও কম। রমজানে বেগুনের দাম কম ছিল এখন বেশি । ফলন বেশি থাকলে আমরা কৃষকরা লাভবান হতাম।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, সারাদেশে মাঝারি থেকে তীব্র তাপদাহ প্রবাহিত হচ্ছে। ওই তাপদাহে মাঠে ধানসহ অন্যান্য ফসল হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা প্রত্যেকটি কৃষককে বিশেষ করে ধান ও সবজি চাষিদের সেচ ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করছি। ধানখেতে কমপক্ষে ৩-৪ ইঞ্চি পানি ধরে রাখাসহ সবজির খেতে নিয়মিত সেচ দেওয়া হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা পাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে