০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকাবাসীর খোলা চিঠি দিয়েছেন শেখ ফজলে নূর তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বাবা-মা হারানো তাপস মানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করেই, স্বপ্নের উন্নত ঢাকার পথ চলায় ঢাকাবাসীর আস্থা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন।

নির্বাচিত হলে নাগরিক সব মৌলিক সেবা ৯০ দিনের মধ্যেই নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে মেয়র পদে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন তিনি।

‘আমাদের ঢাকা আমাদের ঐতিহ্য’ শীর্ষক খোলা চিঠিতে ফজল নূর তাপস তার ঢাকায় ১১ বছর এমপি থাকার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী ঢাকাবাসীর জন্য বৃহৎ পরিসরে কাজ করা ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সেই তাগিদেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

খোলা চিঠিতে প্রাণের ঢাকাকে নিয়ে তার পাঁচ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ফজলে নূর তাপস। বাংলাদেশ জার্নালের পাঠকদের জন্য সেই পাঁচ পরিকল্পনা নিচে তুলে ধরা হল-

ঐতিহ্যের ঢাকা- ৪০০ বছরের পুরনো আমাদের এই ঢাকার রয়েছে নিজস্ব ইতিহাসের উজ্জ্বল ছবি ও ঐতিহ্যের গভীর শেকড়, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব। এখানে ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদও অনন্য। সাংস্কৃতিক ধারায় রয়েছে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, পহেলা বৈশাখ, ঘুড়ি উৎসব, চৈত্রসংক্রান্তিসহ অজয় উৎসব।

আমি নির্বাচিত হলে সকলকে নিয়ে সমন্বিত প্রয়াসে মহাপরিকল্পনা ও সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করে ঢাকাকে তার গৌরবে সাজিয়ে তুলে ধরবে বিশ্ব দরবারে।

সুন্দর ঢাকা-বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকায় পত্তন হওয়া এমন শহর পৃথিবীতে বিরল। সুন্দর ঢাকা গড়ে তুলতে দরকার সবুজায়ন, পরিবেশবান্ধব স্থাপনা বৃদ্ধি ও বায়ুদূষণ রোধ, বজ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ নিশ্চিত করা, নারী-শিশু ও প্রবীণদের জন্য হাঁটার উন্মুক্ত স্থান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পার ঘিরে বনায়ন, বিনোদনকেন্দ্র স্থাপনসহ ব্যাপক সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যেমে সুন্দর ঢাকা গড়তে চাই।

সচল ঢাকা-যনজটের কারণে রাস্তায় চলাচল হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের বিড়ম্বনা অপরিসীম। আমরা গণপরিবহনের সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছু রাস্তায় দ্রুতগতির যানবাহন, কিছু রাস্তায় ধীরগতির যানবাহন, আবার কিছু রাস্তায় শুধু মানুষ হাঁটার ব্যবস্থা করব।

নদীর পারে থাকবে সুপ্রশস্ত রাস্তা, যেখানে পায়ে হেঁটে চলা যাবে। চালানো যাবে সাইকেল, রিকশা ও ঘোড়ার গাড়ি। দ্রুতগামী যানবাহনের জন্য থাকবে আলাদা পথ, থাকবে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা। এভাবে গড়ে তুলব আমাদের সচল ঢাকা।’

সুশাসিত ঢাকা-ঢাকায় একসময় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ছিল। আমরা মাদক নির্মূলসহ, এলাকাভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কার্যকর করব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হবে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত সংস্থা। বছরের ৩৬৫ দিন, সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা নাগরিকসেবা প্রদানের জন্য খোলা থাকবে।

মশকের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস, মশক নিধন ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে দৈনন্দিন ভিত্তিতে কার্যকরব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন, বিধি ও নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ঢাকার উন্নয়ন ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সিটি করপোরেশনের নিকট সমন্বিতভাবে দায়বদ্ধ করা হবে।

উন্নত ঢাকা-এ বিষয়ে ফজলে নূর তাপস বলেন, আমদের এই ঢাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির আলিঙ্গনে, নানা গোত্র-বর্ণের সাংস্কৃতিক গৌরবময়তায় ও ঐতিহ্যমণ্ডিত ঢাকা। এই ঢাকাতে জন্মেছি, বড় হয়েছি, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বপ্ন দেখি এই ঢাকাকে ঘিরে।

ঢাকা বলতে আমার বেড়ে ওঠা এই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকেই বুঝি। ব্যথাতুর হীম বুকে তাকিয়ে দেখি, এখানেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে হারিয়েছি আমার বাবা-মাকে।

কিন্তু বিগত দিনে এখানেই পেয়েছি ভালোবাসার বন্ধন। এই ভালোবাসাকে পুঁজি করেই, স্বপ্নের উন্নত ঢাকার পথ চলায় আপনার আস্থা ও সমর্থনই আমার পাথেয়। আপনদের সমর্থনে নির্বাচিত হলে নাগরিক সব মৌলিক সেবা ৯০ দিনের মধ্যেই নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।

এই ঢাকা আমাদের সবার প্রাণের ঢাকা। আমি আশা করি, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২০ (পরিবর্তিত তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলতে সুযোগ দিবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

স্বামীর কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত আপসহীন নেত্রী

ঢাকাবাসীর খোলা চিঠি দিয়েছেন শেখ ফজলে নূর তাপস

প্রকাশিত : ১১:১০:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বাবা-মা হারানো তাপস মানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করেই, স্বপ্নের উন্নত ঢাকার পথ চলায় ঢাকাবাসীর আস্থা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন।

নির্বাচিত হলে নাগরিক সব মৌলিক সেবা ৯০ দিনের মধ্যেই নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে মেয়র পদে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন তিনি।

‘আমাদের ঢাকা আমাদের ঐতিহ্য’ শীর্ষক খোলা চিঠিতে ফজল নূর তাপস তার ঢাকায় ১১ বছর এমপি থাকার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী ঢাকাবাসীর জন্য বৃহৎ পরিসরে কাজ করা ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সেই তাগিদেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

খোলা চিঠিতে প্রাণের ঢাকাকে নিয়ে তার পাঁচ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ফজলে নূর তাপস। বাংলাদেশ জার্নালের পাঠকদের জন্য সেই পাঁচ পরিকল্পনা নিচে তুলে ধরা হল-

ঐতিহ্যের ঢাকা- ৪০০ বছরের পুরনো আমাদের এই ঢাকার রয়েছে নিজস্ব ইতিহাসের উজ্জ্বল ছবি ও ঐতিহ্যের গভীর শেকড়, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব। এখানে ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদও অনন্য। সাংস্কৃতিক ধারায় রয়েছে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, পহেলা বৈশাখ, ঘুড়ি উৎসব, চৈত্রসংক্রান্তিসহ অজয় উৎসব।

আমি নির্বাচিত হলে সকলকে নিয়ে সমন্বিত প্রয়াসে মহাপরিকল্পনা ও সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করে ঢাকাকে তার গৌরবে সাজিয়ে তুলে ধরবে বিশ্ব দরবারে।

সুন্দর ঢাকা-বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকায় পত্তন হওয়া এমন শহর পৃথিবীতে বিরল। সুন্দর ঢাকা গড়ে তুলতে দরকার সবুজায়ন, পরিবেশবান্ধব স্থাপনা বৃদ্ধি ও বায়ুদূষণ রোধ, বজ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ নিশ্চিত করা, নারী-শিশু ও প্রবীণদের জন্য হাঁটার উন্মুক্ত স্থান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পার ঘিরে বনায়ন, বিনোদনকেন্দ্র স্থাপনসহ ব্যাপক সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যেমে সুন্দর ঢাকা গড়তে চাই।

সচল ঢাকা-যনজটের কারণে রাস্তায় চলাচল হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের বিড়ম্বনা অপরিসীম। আমরা গণপরিবহনের সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছু রাস্তায় দ্রুতগতির যানবাহন, কিছু রাস্তায় ধীরগতির যানবাহন, আবার কিছু রাস্তায় শুধু মানুষ হাঁটার ব্যবস্থা করব।

নদীর পারে থাকবে সুপ্রশস্ত রাস্তা, যেখানে পায়ে হেঁটে চলা যাবে। চালানো যাবে সাইকেল, রিকশা ও ঘোড়ার গাড়ি। দ্রুতগামী যানবাহনের জন্য থাকবে আলাদা পথ, থাকবে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা। এভাবে গড়ে তুলব আমাদের সচল ঢাকা।’

সুশাসিত ঢাকা-ঢাকায় একসময় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ছিল। আমরা মাদক নির্মূলসহ, এলাকাভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কার্যকর করব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হবে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত সংস্থা। বছরের ৩৬৫ দিন, সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা নাগরিকসেবা প্রদানের জন্য খোলা থাকবে।

মশকের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস, মশক নিধন ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে দৈনন্দিন ভিত্তিতে কার্যকরব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন, বিধি ও নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ঢাকার উন্নয়ন ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সিটি করপোরেশনের নিকট সমন্বিতভাবে দায়বদ্ধ করা হবে।

উন্নত ঢাকা-এ বিষয়ে ফজলে নূর তাপস বলেন, আমদের এই ঢাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির আলিঙ্গনে, নানা গোত্র-বর্ণের সাংস্কৃতিক গৌরবময়তায় ও ঐতিহ্যমণ্ডিত ঢাকা। এই ঢাকাতে জন্মেছি, বড় হয়েছি, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বপ্ন দেখি এই ঢাকাকে ঘিরে।

ঢাকা বলতে আমার বেড়ে ওঠা এই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকেই বুঝি। ব্যথাতুর হীম বুকে তাকিয়ে দেখি, এখানেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে হারিয়েছি আমার বাবা-মাকে।

কিন্তু বিগত দিনে এখানেই পেয়েছি ভালোবাসার বন্ধন। এই ভালোবাসাকে পুঁজি করেই, স্বপ্নের উন্নত ঢাকার পথ চলায় আপনার আস্থা ও সমর্থনই আমার পাথেয়। আপনদের সমর্থনে নির্বাচিত হলে নাগরিক সব মৌলিক সেবা ৯০ দিনের মধ্যেই নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।

এই ঢাকা আমাদের সবার প্রাণের ঢাকা। আমি আশা করি, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২০ (পরিবর্তিত তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলতে সুযোগ দিবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান