০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

রাবিতে অনশন, অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী

বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবিতে টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ‘আমরণ অনশন’ চালিয়ে চাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকাল ১০ টা থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সামনে ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগ নামে নামকরণের দাবিতে আমরণ অনশন করে আসছে তারা। এতে এ পযর্ন্ত প্রায় ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। অসুস্থদের রাবির মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা

শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন তপশ্রী শারনাল, সোহাগ, নিশি খাতুন, মোবাশশির উল্লাহ, আবির হাসান, আয়নাল, সাগর নাঈম, ফারজানা ইয়াসমিন লিজা, অর্পিতা পূজা, শুলেখা খাতুনসহ প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে।

এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সরেজমিন দেখা যায়, সমস্যায় জর্জরিত বিভাগের নামের, সময় এসেছে পরিবর্তনের এমন ব্যানার ঝুলিয়ে তার সামনে শুয়ে অবস্থান করছে শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্যে অনেকের শরীরে স্যালাইন ঝুলানো রয়েছে। আবার অনেকেই কাতরাতে কাতরাতে বিভাগের নাম পরিবর্তন চাই, পরিবর্তন চাই এমন ¯স্লোগান দিচ্ছে। জীবন শেষ হয়ে গেলেও বিভাগের নাম পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি থেকে ফিরে আসবেন না বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপাচার্যদ্বয়, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি এবং অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা তাতে সম্মত হননি। অনশনকারীদের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, কোনো বিভাগ নতুন শুরু করার একটা মাধ্যম রয়েছে। তোমাদের জন্য কোনটা মঙ্গলময় সেটিকে আমি বিবেচনায় নিব। সেজন্য সকল বিভাগীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের এবং প্রশাসনের বাইরেও যারা শিক্ষক আছেন, তাদেরকে নিয়ে আগামী ২ মার্চ সিনেট ভবনে একটা মিটিং করবো। তোমাদের বিষয়কোডের ব্যাপারে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়েছে। সেটা খুব সম্ভবত কার্যকর হবে। কিন্তু বিভাগের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে আমি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছিনা। আমরা দুপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসতে পারি।

উক্ত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো নজরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, ভিসি স্যার ইতিমধ্যে দেখা করে গেছেন। শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেন। আগামী ২ মার্চ সিনেট ভবনে শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের দাবির সমাধান করার আহবান করেন। প্রশাসনের নির্দেশ ছাড়া আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবো না। শিক্ষার্থীরা জানান,ভিসি স্যার বলেছেন বিভাগের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষকের সাথে মার্চের ২ তারিখ বসবেন ,তাহলে কি উনার সন্তানরা সপ্তাহ খানেক না খেয়ে থাকবো?অনশনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল থেকে আমরা না খেয়ে আছি। কয়েকজনকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে প্রক্টর এবং সহকারী প্রক্টর ছিলেন ,কিন্তু বিভাগের কোনো শিক্ষক ছিলেন না। আমরা কি তাদের সন্তান সমতুল্য হতে পারিনি? শিক্ষকদের পরিবার আছে, আমাদের পরিবার নেই? শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, পিএসসি’তে বিষয় কোড অন্তর্ভুক্তের দাবি জানিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে বর্তমানে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে তারা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিআর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

রাবিতে অনশন, অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত : ০৮:২৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবিতে টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ‘আমরণ অনশন’ চালিয়ে চাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকাল ১০ টা থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সামনে ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগ নামে নামকরণের দাবিতে আমরণ অনশন করে আসছে তারা। এতে এ পযর্ন্ত প্রায় ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। অসুস্থদের রাবির মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা

শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন তপশ্রী শারনাল, সোহাগ, নিশি খাতুন, মোবাশশির উল্লাহ, আবির হাসান, আয়নাল, সাগর নাঈম, ফারজানা ইয়াসমিন লিজা, অর্পিতা পূজা, শুলেখা খাতুনসহ প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে।

এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সরেজমিন দেখা যায়, সমস্যায় জর্জরিত বিভাগের নামের, সময় এসেছে পরিবর্তনের এমন ব্যানার ঝুলিয়ে তার সামনে শুয়ে অবস্থান করছে শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্যে অনেকের শরীরে স্যালাইন ঝুলানো রয়েছে। আবার অনেকেই কাতরাতে কাতরাতে বিভাগের নাম পরিবর্তন চাই, পরিবর্তন চাই এমন ¯স্লোগান দিচ্ছে। জীবন শেষ হয়ে গেলেও বিভাগের নাম পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি থেকে ফিরে আসবেন না বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপাচার্যদ্বয়, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি এবং অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা তাতে সম্মত হননি। অনশনকারীদের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, কোনো বিভাগ নতুন শুরু করার একটা মাধ্যম রয়েছে। তোমাদের জন্য কোনটা মঙ্গলময় সেটিকে আমি বিবেচনায় নিব। সেজন্য সকল বিভাগীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের এবং প্রশাসনের বাইরেও যারা শিক্ষক আছেন, তাদেরকে নিয়ে আগামী ২ মার্চ সিনেট ভবনে একটা মিটিং করবো। তোমাদের বিষয়কোডের ব্যাপারে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়েছে। সেটা খুব সম্ভবত কার্যকর হবে। কিন্তু বিভাগের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে আমি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছিনা। আমরা দুপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসতে পারি।

উক্ত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো নজরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, ভিসি স্যার ইতিমধ্যে দেখা করে গেছেন। শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেন। আগামী ২ মার্চ সিনেট ভবনে শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের দাবির সমাধান করার আহবান করেন। প্রশাসনের নির্দেশ ছাড়া আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবো না। শিক্ষার্থীরা জানান,ভিসি স্যার বলেছেন বিভাগের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষকের সাথে মার্চের ২ তারিখ বসবেন ,তাহলে কি উনার সন্তানরা সপ্তাহ খানেক না খেয়ে থাকবো?অনশনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল থেকে আমরা না খেয়ে আছি। কয়েকজনকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে প্রক্টর এবং সহকারী প্রক্টর ছিলেন ,কিন্তু বিভাগের কোনো শিক্ষক ছিলেন না। আমরা কি তাদের সন্তান সমতুল্য হতে পারিনি? শিক্ষকদের পরিবার আছে, আমাদের পরিবার নেই? শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, পিএসসি’তে বিষয় কোড অন্তর্ভুক্তের দাবি জানিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে বর্তমানে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে তারা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিআর