০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ, রংপুর মেডিকেলে ৬ শিশু ভর্তি

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক)-হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে বাড়তি সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত এসব শিশুর ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।তিনি জানান,আক্রান্ত সন্দেহে শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।একই সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে আসা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে ৬ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে লালমনিরহাট সদর উপজেলার আট মাস বয়সী আমাতুল্লাহ জান্নাত, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সাত মাস বয়সী প্রজ্ঞা রায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দুই বছর বয়সী আরাফাত এবং রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকার নয় মাস বয়সী সাইয়েম আহম্মেদসহ আরও কয়েকজন শিশু রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, এসব শিশুর শরীরে জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো হামের সাধারণ উপসর্গ দেখা গেছে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না তারা হামে আক্রান্ত কি না। এ জন্য আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তারা।

রংপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ জানান, এখন পর্যন্ত মোট ১৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও কারও শরীরে হামের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।তবুও সতর্কতার অংশ হিসেবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,“হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা নিলে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তাই আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ভাইরাল সংক্রমণ বেড়ে যায়, যা অনেক সময় হামের উপসর্গের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। এ কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে তা মোকাবিলায় অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।আইসোলেশন ওয়ার্ডে বিশেষ নজরদারি চালানোর পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিভাবকদের উদ্দেশে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে। একই সঙ্গে শিশুদের ভিড়পূর্ণ স্থান থেকে দূরে রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।এখন পর্যন্ত কারও শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি, তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে আমরা কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানাই-উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় রংপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আমার ভাইকে বাঁচান’ সেলিম প্রধানের মুক্তির দাবিতে বোনের কান্না

রংপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ, রংপুর মেডিকেলে ৬ শিশু ভর্তি

প্রকাশিত : ০৪:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক)-হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে বাড়তি সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত এসব শিশুর ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।তিনি জানান,আক্রান্ত সন্দেহে শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।একই সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে আসা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে ৬ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে লালমনিরহাট সদর উপজেলার আট মাস বয়সী আমাতুল্লাহ জান্নাত, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সাত মাস বয়সী প্রজ্ঞা রায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দুই বছর বয়সী আরাফাত এবং রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকার নয় মাস বয়সী সাইয়েম আহম্মেদসহ আরও কয়েকজন শিশু রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, এসব শিশুর শরীরে জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো হামের সাধারণ উপসর্গ দেখা গেছে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না তারা হামে আক্রান্ত কি না। এ জন্য আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তারা।

রংপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ জানান, এখন পর্যন্ত মোট ১৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও কারও শরীরে হামের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।তবুও সতর্কতার অংশ হিসেবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,“হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা নিলে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তাই আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ভাইরাল সংক্রমণ বেড়ে যায়, যা অনেক সময় হামের উপসর্গের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। এ কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে তা মোকাবিলায় অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।আইসোলেশন ওয়ার্ডে বিশেষ নজরদারি চালানোর পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিভাবকদের উদ্দেশে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে। একই সঙ্গে শিশুদের ভিড়পূর্ণ স্থান থেকে দূরে রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।এখন পর্যন্ত কারও শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি, তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে আমরা কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানাই-উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় রংপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডিএস./