০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বরগুনায় ডকইয়ার্ড ব্যবসায় পরিবেশ হুমকির মুখে

বরগুনার যত্রতত্র নিয়ম নীতি না মেনে গড়ে উঠেছে ডকইয়ার্ড। এ ব্যবসা চালানোর জন্য যে সকল লাইসেন্স লাগে তা জানেই না ডকইয়ার্ড ব্যবসায়ীরা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে এই ডকইয়ার্ড। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এসব ডকইয়ার্ড থেকে নির্মিত নৌযানগুলোর ঝুঁকি বাড়চ্ছে দুর্ঘটনার।
পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, জাহাজ নির্মাণ শিল্প পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে এ শিল্প ‘লাল’ শ্রেণীভুক্ত। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পালন সাপেক্ষেই অনুমোদন মেলে এ শিল্পের। কিন্তু বরগুনার বিভিন্ন নদীর তীরের ডকইয়ার্ডগুলোর নেই পরিবেশ ছাড়পত্র।
ডকইয়ার্ড পরিচালনার ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু শর্ত। যেমন অবশ্যই একটি ডকইয়ার্ডে থাকতে হবে একজন নেভাল আর্কিটেক্ট। তিনিই জাহাজের নকশা করবেন এবং সে অনুযায়ী জাহাজ নির্মিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করবেন। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর অনুমোদিত নির্দিষ্টসংখ্যক ওয়েল্ডারও থাকা প্রয়োজন একটি ডকইয়ার্ডে। থাকতে হয় প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী, শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নানা উপকরণ,থাকতে হবে অগ্নি নির্বাপক সামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম। কিন্তু নদীর তীরে গড়ে উঠা ডকইয়ার্ড গুলোতে মানা হচ্ছে না এগুলোর কোনোটিই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পায়রা ও বিষখালী নদীর তীরের ডকইয়ার্ডে চলছে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতকাজ। চারদিকে নানা ধাতবের ছড়াছড়ি। এগুলোর কিছু আবার গিয়ে পড়ছে সরাসরি নদীতে। মেরামতের সময় পুরনো জাহাজে থাকা ডিজেল, লুব্রিক্যান্টসহ জাহাজের তলদেশে থাকা বিভিন্ন বর্জ্য মিশছে পায়রা ও বিষখালী নদীর পানিতে। ডকইয়ার্ডটির বর্জ্য সংরক্ষণ ও শোধনের কোনো ব্যবস্থা নেই, নেই কোনো পৃথক শেড। খোলা আকাশের নিচেই চলছে সবকিছু।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকা বাসী বলেন আমাদের এলাকায় যে ডকইয়ার্ড গড়ে উঠেছে আসলে পরিবেশের জন্য হুমকি এবং কোমল মতি শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় বিজ্ঞ ঘটায়।
ডকইয়ার্ড করতে কি লাইসেন্স ও স্থান লাগে সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে ডকইয়ার্ড মালিক খোকন বলেন আমি দীর্ঘ দিন এ ব্যবসা করে আসছি কোন কাগজ লাগে না এদেশে টাকা পয়সা হলেই সকল ব্যবসা করা যায়।
ডকইয়ার্ড মালিক দুলাল বলেন আমাদের যে বৈধকাগজ পত্র লাগে তা নেই তবে ডিসি স্যারের অনুমতি নিয়ে ডক ব্যবসা চালাই।ডিসি স্যারের অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেন নি ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের আত্মীয় পরিচয় দানকারি মারিয়া ডকইয়ার্ড মালিক শাহজাহান বলেন, এটা বাংলাদেশ, টাকা হলেই সবকিছু চলে।আমার সকল কাগজপত্রই আছে আপনাদের দেখাবোকানো?
বরগুনা জেলা জাহাজ নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিসকাতুল ইসলাম বলেন বরগুনা যে সকল ডকইয়ার্ড রয়েছে কোনটিতেই শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে মালিকরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি বারবার বলার পরও মালিক পক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তার সরঞ্জাম দিচ্ছে না ।
পরিবেশ অধিদপ্তর এর পরিচালকের সাথে যোগাযোগের চেষ্ট করে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বরগুনা নদী বন্দর কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ বলেন বরগুনার কোন ডকইয়ার্ড এর বৈধ কাগজপত্র ও সঠিক নিয়মে ডকইয়ার্ড ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছেনা। তারা যাহাতে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ডকইয়ার্ড ব্যবসা পরিচালনা করে সে ব্যাপারে ডকইয়ার্ড মালিকদের সাথে কথা বলেছি।
জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন ডকইয়ার্ড স্থাপনের জন্য অনুমতি আছেকিনা আমার জানা নেই। আমি বিষয়টি দেখবো। তবে যে সকল স্থানে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে সেটির খবর পেলে জেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিদেশী মদসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১

বরগুনায় ডকইয়ার্ড ব্যবসায় পরিবেশ হুমকির মুখে

প্রকাশিত : ০৯:১৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০

বরগুনার যত্রতত্র নিয়ম নীতি না মেনে গড়ে উঠেছে ডকইয়ার্ড। এ ব্যবসা চালানোর জন্য যে সকল লাইসেন্স লাগে তা জানেই না ডকইয়ার্ড ব্যবসায়ীরা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে এই ডকইয়ার্ড। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এসব ডকইয়ার্ড থেকে নির্মিত নৌযানগুলোর ঝুঁকি বাড়চ্ছে দুর্ঘটনার।
পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, জাহাজ নির্মাণ শিল্প পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে এ শিল্প ‘লাল’ শ্রেণীভুক্ত। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পালন সাপেক্ষেই অনুমোদন মেলে এ শিল্পের। কিন্তু বরগুনার বিভিন্ন নদীর তীরের ডকইয়ার্ডগুলোর নেই পরিবেশ ছাড়পত্র।
ডকইয়ার্ড পরিচালনার ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু শর্ত। যেমন অবশ্যই একটি ডকইয়ার্ডে থাকতে হবে একজন নেভাল আর্কিটেক্ট। তিনিই জাহাজের নকশা করবেন এবং সে অনুযায়ী জাহাজ নির্মিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করবেন। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর অনুমোদিত নির্দিষ্টসংখ্যক ওয়েল্ডারও থাকা প্রয়োজন একটি ডকইয়ার্ডে। থাকতে হয় প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী, শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নানা উপকরণ,থাকতে হবে অগ্নি নির্বাপক সামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম। কিন্তু নদীর তীরে গড়ে উঠা ডকইয়ার্ড গুলোতে মানা হচ্ছে না এগুলোর কোনোটিই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পায়রা ও বিষখালী নদীর তীরের ডকইয়ার্ডে চলছে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতকাজ। চারদিকে নানা ধাতবের ছড়াছড়ি। এগুলোর কিছু আবার গিয়ে পড়ছে সরাসরি নদীতে। মেরামতের সময় পুরনো জাহাজে থাকা ডিজেল, লুব্রিক্যান্টসহ জাহাজের তলদেশে থাকা বিভিন্ন বর্জ্য মিশছে পায়রা ও বিষখালী নদীর পানিতে। ডকইয়ার্ডটির বর্জ্য সংরক্ষণ ও শোধনের কোনো ব্যবস্থা নেই, নেই কোনো পৃথক শেড। খোলা আকাশের নিচেই চলছে সবকিছু।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকা বাসী বলেন আমাদের এলাকায় যে ডকইয়ার্ড গড়ে উঠেছে আসলে পরিবেশের জন্য হুমকি এবং কোমল মতি শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় বিজ্ঞ ঘটায়।
ডকইয়ার্ড করতে কি লাইসেন্স ও স্থান লাগে সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে ডকইয়ার্ড মালিক খোকন বলেন আমি দীর্ঘ দিন এ ব্যবসা করে আসছি কোন কাগজ লাগে না এদেশে টাকা পয়সা হলেই সকল ব্যবসা করা যায়।
ডকইয়ার্ড মালিক দুলাল বলেন আমাদের যে বৈধকাগজ পত্র লাগে তা নেই তবে ডিসি স্যারের অনুমতি নিয়ে ডক ব্যবসা চালাই।ডিসি স্যারের অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেন নি ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের আত্মীয় পরিচয় দানকারি মারিয়া ডকইয়ার্ড মালিক শাহজাহান বলেন, এটা বাংলাদেশ, টাকা হলেই সবকিছু চলে।আমার সকল কাগজপত্রই আছে আপনাদের দেখাবোকানো?
বরগুনা জেলা জাহাজ নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিসকাতুল ইসলাম বলেন বরগুনা যে সকল ডকইয়ার্ড রয়েছে কোনটিতেই শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে মালিকরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি বারবার বলার পরও মালিক পক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তার সরঞ্জাম দিচ্ছে না ।
পরিবেশ অধিদপ্তর এর পরিচালকের সাথে যোগাযোগের চেষ্ট করে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বরগুনা নদী বন্দর কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ বলেন বরগুনার কোন ডকইয়ার্ড এর বৈধ কাগজপত্র ও সঠিক নিয়মে ডকইয়ার্ড ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছেনা। তারা যাহাতে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ডকইয়ার্ড ব্যবসা পরিচালনা করে সে ব্যাপারে ডকইয়ার্ড মালিকদের সাথে কথা বলেছি।
জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন ডকইয়ার্ড স্থাপনের জন্য অনুমতি আছেকিনা আমার জানা নেই। আমি বিষয়টি দেখবো। তবে যে সকল স্থানে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে সেটির খবর পেলে জেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ