০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

বাংলাদেশের স্পাইন সার্জারির ক্ষেত্রে এক নতুন ইতিহাস গড়লেন ডা. শরীফ আহমেদ জুনায়েদ। তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর)-এর স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। প্রথম বাংলাদেশি চিকিৎসক হিসেবে তিনি স্কোলিওসিস রিসার্চ সোসাইটি (SRS) কর্তৃক প্রদত্ত ‘২০২৬ রবার্ট বি. উইন্টার গ্লোবাল আউটরিচ ফেলোশিপ’-এ মনোনীত হয়েছেন।এই ফেলোশিপটি বিশ্বব্যাপী স্কোলিওসিস (মেরুদণ্ডের বক্রতা) চিকিৎসায় অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের প্রতিশ্রুতিশীল সার্জনদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ দেওয়া হয়।

ফেলোশিপের গুরুত্ব:

স্কোলিওসিস রিসার্চ সোসাইটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা মেরুদণ্ডের জটিল বক্রতা সম্পর্কিত রোগ নিয়ে কাজ করে। ডা. জুনায়েদ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহব্যাপী এই ফেলোশিপে অংশ নেবেন। এ সময় ভ্রমণ, আবাসন ও খাবারের জন্য প্রায় ১২,০০০ মার্কিন ডলার ব্যয় বহন করবে সংস্থাটি।

কৃতজ্ঞতা ও উৎসর্গ:

ডা. জুনায়েদ তার এই অর্জনের জন্য দেশি-বিদেশি শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, ভারত ও বাংলাদেশের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞরা। তিনি এই সম্মান স্কোলিওসিসে আক্রান্ত রোগী, তাদের পরিবার এবং নিটোরের সহকর্মীদের উৎসর্গ করেছেন।সীমিত সম্পদেও সাফল্য:নিটোর দেশের বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতালগুলোর একটি। সীমিত যন্ত্রপাতি ও বিপুল রোগীর চাপের মধ্যেও ডা. জুনায়েদের নেতৃত্বে দলটি নিয়মিত জটিল স্কোলিওসিস অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করে আসছে।সহযোগিতার আহ্বান:স্কোলিওসিস চিকিৎসা আরও উন্নত করতে তিনি ব্যক্তি, দাতব্য সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে অসহায় রোগীদের অপারেশনের খরচ বহন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং একটি বিশেষায়িত স্কোলিওসিস ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।এই অর্জন বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

প্রকাশিত : ০৮:৩২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের স্পাইন সার্জারির ক্ষেত্রে এক নতুন ইতিহাস গড়লেন ডা. শরীফ আহমেদ জুনায়েদ। তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর)-এর স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। প্রথম বাংলাদেশি চিকিৎসক হিসেবে তিনি স্কোলিওসিস রিসার্চ সোসাইটি (SRS) কর্তৃক প্রদত্ত ‘২০২৬ রবার্ট বি. উইন্টার গ্লোবাল আউটরিচ ফেলোশিপ’-এ মনোনীত হয়েছেন।এই ফেলোশিপটি বিশ্বব্যাপী স্কোলিওসিস (মেরুদণ্ডের বক্রতা) চিকিৎসায় অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের প্রতিশ্রুতিশীল সার্জনদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ দেওয়া হয়।

ফেলোশিপের গুরুত্ব:

স্কোলিওসিস রিসার্চ সোসাইটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা মেরুদণ্ডের জটিল বক্রতা সম্পর্কিত রোগ নিয়ে কাজ করে। ডা. জুনায়েদ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহব্যাপী এই ফেলোশিপে অংশ নেবেন। এ সময় ভ্রমণ, আবাসন ও খাবারের জন্য প্রায় ১২,০০০ মার্কিন ডলার ব্যয় বহন করবে সংস্থাটি।

কৃতজ্ঞতা ও উৎসর্গ:

ডা. জুনায়েদ তার এই অর্জনের জন্য দেশি-বিদেশি শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, ভারত ও বাংলাদেশের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞরা। তিনি এই সম্মান স্কোলিওসিসে আক্রান্ত রোগী, তাদের পরিবার এবং নিটোরের সহকর্মীদের উৎসর্গ করেছেন।সীমিত সম্পদেও সাফল্য:নিটোর দেশের বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতালগুলোর একটি। সীমিত যন্ত্রপাতি ও বিপুল রোগীর চাপের মধ্যেও ডা. জুনায়েদের নেতৃত্বে দলটি নিয়মিত জটিল স্কোলিওসিস অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করে আসছে।সহযোগিতার আহ্বান:স্কোলিওসিস চিকিৎসা আরও উন্নত করতে তিনি ব্যক্তি, দাতব্য সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে অসহায় রোগীদের অপারেশনের খরচ বহন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং একটি বিশেষায়িত স্কোলিওসিস ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।এই অর্জন বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।