খাদ্য মানুষের সুস্থ্য থাকার জন্য প্রথম মৌলিক উপাদান। নিরাপদ খাদ্য সকলের জন্য নিশ্চিত করা এখন একটি অন্যতম অপরিহার্য বিষয়।
বেঁচে থাকার প্রয়োজন যেমন নিরাপদ খাদ্যের তেমনি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ফসল বিষমুক্ত রেখে খাবার উপযোগী করাও এখন সময়ের দাবি। শস্য উৎপাদনে বালাই দমন ব্যবস্থাপনার আওতায় বালাই ও পোকামাকড় দমনের জন্য রাসায়নিক বালাই নাশকের ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ,মানুষ ও প্রাণীকুলের জীবন ধারণের ঝুৃঁকিও খাদ্যে বিষক্রিয়াসহ নানামুখি সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে মানব সমাজকে। যে কারনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন কর্মসুচিও এখন সময় উপযোগী বিষয়।
এরই প্রেক্ষিতে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের তত্বাবধানে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত কল্পে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর দলবাড়ী গ্রামে করা হচ্ছে নিরাপদ সবজি চাষ । এরই আলোকে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সবজি গ্রাম। এ কর্মসুচি এখনও প্রাথমিক অবস্থায় থাকলেও মাঠে দৃশ্যমান শীতকালীন সবজি ক্ষেতের মধ্যে টমেটো ফসলের ক্ষেতগুলোকে নিরাপদ রাখতে পোকা ও বালাই দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও জৈববালাই ব্যবস্থাপনার ব্যবহার। নিরাপদ সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যার ব্যবহারের বাস্তবচিত্র দৃশ্যমান। এছাড়াও গ্রীস্মকালীন আগাম সবজি চাষের আগাম প্রস্তুতি হিসাবে বিভিন্ন সবজির বীজতলা ও রোপিত চারাগুলোকে পোকামাকড় ও বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে জৈববালাই নাশকের ও জালদ্বারা বীজতলা ঘিরে রাখার ব্যবস্থাও নিরাপদ সবজি উৎপাদনের বাস্তবতা ফুঁটে উঠেছে।

নিরাপদ সবজি গ্রামটিতে কেঁচোসার উৎপাদন, জৈবসার ও তরল জৈবসার উৎপাদন এবং জৈব বালাই নাশক ও তরল জৈব বালাইনাশক তৈরীর উপকরনসহ ঘরোয়াভাবে কোন কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিরাপদ সবজি উৎপাদন কার্যক্রমে এলাকার কৃষকের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
নিরাপদ সবজি গ্রামের কৃষক পিযুষ রায়ের সাথে কথা হলে নিরাপদ সবজি চাষে তাদের আগ্রহের বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। তিনি জানান এ গ্রামের ত্রিশজন চাষী উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নিরাপদ সবজি চাষের প্রশিক্ষন পেয়েছে। কেঁচো সার উৎপাদনের উপকরন, জৈবসার ও তরল জৈবসার উৎপাদন এবং জৈব বালাই নাশক ও তরল জৈব বালাই নাশক তৈরীর নানা উপকরন উপজেলা কৃষি অফিস ইতোমধ্যে ত্রিশজন চাষীকে সরবরাহ দিয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রফিক হাতে কলমে এগুলোর ব্যবহার ও নিরাপদ সবজি চাষের বিষয়ে প্রতিদিনই পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ একাধিকবার এ নিরাপদ সবজী গ্রাম পরিদর্শনে এসেছেন এবং নিরাপদ সবজি চাষে প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা প্রদানের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি অফিসে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তুষার কাুিন্ত রায় বলেন নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য নিরাপদ সবজি গ্রাম গঠন মহাপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এর একটি বিশেষ কর্মসূচি। যা উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ উপজেলায় নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত কল্পে কৃষি বিভাগ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন মাঠ পর্যায় কর্মরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্ম এলাকায় নিরাপদ সবজি উৎপাদনে চাষীদের পরামর্শদানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের আওতায় নিয়ে আসা। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন আগামীতে এ উপজেলায় কৃষি প্রযুক্তির বিজ্ঞান সমর্থিত বিকাশ ঘটিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করাই হবে উপজেলা কৃষি অফিস,কিশোরগঞ্জ এর একমাত্র লক্ষ্য।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান










