জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ইরানকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের কাছে অস্ত্র পাঠিয়েছে। এ ছাড়া, পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তাও ইরান লঙ্ঘন করেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ তাৎক্ষণিকভাবে এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত নতুন কোনো কথা বলেননি বরং তিনি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইরান বিদ্বেষী প্রচারণার পুনরাবৃত্তি করেছেন মাত্র।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন কেন ইরান বিরোধিতায় কোমর বেধে নেমেছে সে সম্পর্কে একাধিক কারণ তুলে ধরেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে,
সম্প্রতি জেরুজালেমকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন তার প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ সমর্থন জানায়নি। এ বিষয়টি ওয়াশিংটনে হতাশা তৈরি করেছে। এই হতাশা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নিজের মিত্র দেশগুলোকে খুশি করার জন্য ওয়াশিংটন ইরান বিরোধী অভিযোগ এনেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের মাধ্যমে ইরানের পরমাণু সমঝোতা বানচাল করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন এই সমঝোতা থেকে ওয়াশিংটনকে বের করে নেয়ার জন্য উপযুক্ত অজুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এ কারণে তার সরকার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে যাতে এই বিষয়টিকে পরমাণু সমঝোতার অন্তর্ভূক্ত করা যায়।
ইয়েমেনের শিশু হত্যায় সৌদি আরবকে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আমেরিকা যে অপরাধ করছে তা থেকে বিশ্ব জনমতকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায় ওয়াশিংটন। নিজের অপরাধ ঢাকা দিতে মার্কিন সরকার এখন আন্তর্জাতিক পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে।
এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগের পাশাপাশি ট্রাম্পের নানা ব্যর্থতার কারণে সম্প্রতি কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হেরে গেছেন। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এই পরাজয় থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে রাখার লক্ষ্যে মার্কিন সরকার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বড় করে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
কিন্তু নিকি হ্যালির বক্তব্যকে বিশ্বের কোনো দেশ স্বাগত জানায়নি। এমনকি নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের মতো মার্কিন গণমাধ্যমগুলো প্রশ্ন তুলেছে, কোন দলিলেও ওপর ভিত্তি করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যালি ইরানকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন?
এদিকে, অতীত সরকারগুলোর বিপরীতে ট্রাম্প জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি বহির্বিশ্বের চেয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেশি মনযোগী হবেন। কাজেই বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি দেশে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখে পরবর্তী নির্বাচনেও জয়ী হতে চান তাহলে তাকে ইরান-বিদ্বেষী অপপ্রচার বাদ দিয়ে অভ্যন্তরীণ সংকটের পাহাড় থেকে মার্কিন জনগণকে মুক্তি দিতে হবে।

























