ময়মনসিংহ ভালুকায় এসিল্যান্ড রোমেন শর্মা নামটি এখন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝে এক আস্থার নাম। তাঁর প্রশাসনিক কর্মদক্ষতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে উপজেলার সকল মহলে। রোমেন শর্মা (বিসিএস ৩৪ ব্যাচ) ভালুকায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে গত বছরের ২ এপ্রিল যোগদান করেন। তাঁর যোগদানের পরপরই পাল্টে গেছে ভালুকার ভূমি অফিস চিত্র। ভূমি বিষয়ক যে কোনো কাজ মানেই দালালের দৌরাত্ম্য। দিনের পর দিন হয়রানি।
কর্মচারিদের অবজ্ঞা, বাড়তি খরচ, টেবিল থেকে টেবিলে ঘোরাঘুরি। এই গুলোর সব অবশান ঘটে। অসাধু ব্যবসায়ী ও অবৈধ স্থাপনাকারীদের টনক নড়তে শরু করে। সরকারি আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় হয়। ভ্রাম্যমান আদালতে জেল জরিমানার ভয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা সৎ ভাবে জীবন পরিচালনা করতে শুরু করেছেন। তার অধীনে ভালুকার প্রত্যেকটি খাত এখন উন্নয়নের পথে। কোন প্রকার অবৈধ বা আর্থিক লেনদেন তাকে স্পর্শ করাতে পারেনি। সৎ, দক্ষ, যোগ্যতা ও মানবিক এসিল্যান্ড রোমেন শর্মার সুনাম এখন সর্বজনবিদিত। এসবের ধারাবাহীকতায় সরকারি নির্দেশনা মতে ‘করোনা ভাইরাস’ ইস্যুতে দায়িত্ব আসে তার কাঁধে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান এর নির্দেশনা মতে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল সার্বিক দিক নির্দেশনায় তাঁর কাজ চলমান রয়েছে। এসিল্যান্ড রোমেন শর্মা ‘করোনা ভাইরাসের’ সংক্রমন প্রতিরোধ করতে সারা দেশের ন্যায় জনগনকে হোম-কোয়ারেন্টাইন এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ ঘরে রাখতে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং করে দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার ভিতরের রাখতে কঠোর ভূমিকা পালন করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভালুকা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোমেন শর্মা জানান, ময়মনসিংহের বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান স্যারের সদয় নির্দেশমতে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল স্যারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে জনগন কে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে এক্ষেত্রে বিধি নিষেধ অমান্য করে অল্প কিছু লোক যারা ঘরের বাইরে বের হয়েছিলেন কিংবা কিছু দোকানপাট খোলা রেখেছিলেন তাদের প্রতি সচেতনতার আহবান জানিয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি নির্দেশনা না মানলে তাদের প্রতি প্রচলিত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। ভালুকা করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখানকার জনগণকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার চাদরে বেষ্টিত করতে প্রত্যহ ভোর বেলা থেকে শুরু করে মাঝরাতে অবধি আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ভালুকা থানা পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এছাড়া প্রতিটা এলাকার স্বেচ্ছাসেবক টিম ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরাও আমাদের পাশে থেকে উপজেলা প্রশাসন কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। কেউ যেন এই মহামারী ভাইরাস করোনাতে অকালে মৃত্যুবরণ না করে বা কারোর পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সে লক্ষেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমি ভালুকা বাসীর কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
ভালুকা বাসীকে এ মহামারী থেকে বাচাঁতে পারলেই বর্তমান সরকারের তথা আমাদের সবার এ পরিশ্রম স্বার্থক হবে। আসুন আমরা সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি করি যেন করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান










