০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

লকডাউনের মধ্যেই জানাজায় লাখো মানুষ

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ইসলামি আলোচক আল্লামা মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। সে সময়ে বিষয়টি নিয়ে কিছুই করার ছিল না বলে জানিয়েছেন সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাৎ হোসেন টিটু।

আজ শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আনসারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় লোকজনের উপস্থিতি মাদ্রাসা মাঠ ছাড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুইপাশে ছড়িয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ওই এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদেও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাৎ হোসেন টিটু বলেন, ‘আমরা চিন্তাও করতে পারিনি যে এত লোক হবে। কত লোক হয়েছিল তার তো সঠিক হিসাব নেই। তবে অনেকেই ধারণা করছেন লাখের মতো মানুষ হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গতকালই ওই মাদ্রাসায় গিয়ে বলে এসেছিলাম জানাজায় যেন বেশি লোকের সমাগম না করা হয়। তারা বলেছিল ৫০/৬০ জন যারা মাদ্রাসায় আছেন, শুধু তারাই অংশ নেবেন হুজুরের জানাজায়। বাইরের কাউকে ডাকা হয়নি। কিন্তু সকাল ১০টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকে হঠাৎ হাজার হাজার মানুষ জমা হতে শুরু করে। আমরা দুই থানার কিছু পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু আমাদের কিছুই করার ছিল না।’

যদি আগে থেকে একটু আঁচ করা যেত তাহলে অবশ্যই অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেত বলেও জানান সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

ওসি বলেন, ‘জানাজা শেষ করেই সকল মানুষ ওই স্থান ত্যাগ করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও আশেপাশের জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার এমনকি ঢাকা থেকেও লোকজন এসেছিল। এই লকডাউন অবস্থার মধ্যে কীভাবে এত মানুষ অন্য জেলা থেকে এলো সেটাও ভাবার বিষয়।’

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কাস পাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন যুবায়ের আহমেদ আনসারী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

লকডাউনের মধ্যেই জানাজায় লাখো মানুষ

প্রকাশিত : ০৬:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ইসলামি আলোচক আল্লামা মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। সে সময়ে বিষয়টি নিয়ে কিছুই করার ছিল না বলে জানিয়েছেন সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাৎ হোসেন টিটু।

আজ শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আনসারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় লোকজনের উপস্থিতি মাদ্রাসা মাঠ ছাড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুইপাশে ছড়িয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ওই এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদেও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাৎ হোসেন টিটু বলেন, ‘আমরা চিন্তাও করতে পারিনি যে এত লোক হবে। কত লোক হয়েছিল তার তো সঠিক হিসাব নেই। তবে অনেকেই ধারণা করছেন লাখের মতো মানুষ হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গতকালই ওই মাদ্রাসায় গিয়ে বলে এসেছিলাম জানাজায় যেন বেশি লোকের সমাগম না করা হয়। তারা বলেছিল ৫০/৬০ জন যারা মাদ্রাসায় আছেন, শুধু তারাই অংশ নেবেন হুজুরের জানাজায়। বাইরের কাউকে ডাকা হয়নি। কিন্তু সকাল ১০টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকে হঠাৎ হাজার হাজার মানুষ জমা হতে শুরু করে। আমরা দুই থানার কিছু পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু আমাদের কিছুই করার ছিল না।’

যদি আগে থেকে একটু আঁচ করা যেত তাহলে অবশ্যই অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেত বলেও জানান সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

ওসি বলেন, ‘জানাজা শেষ করেই সকল মানুষ ওই স্থান ত্যাগ করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও আশেপাশের জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার এমনকি ঢাকা থেকেও লোকজন এসেছিল। এই লকডাউন অবস্থার মধ্যে কীভাবে এত মানুষ অন্য জেলা থেকে এলো সেটাও ভাবার বিষয়।’

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কাস পাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন যুবায়ের আহমেদ আনসারী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর