১১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুষ্টিয়ায় মোটা চালের হাওয়া!

কুষ্টিয়ার বাজারে টাকা দিয়েও মিলছে না মোটা চাল। দেশের বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকায় উঠেছে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিই মোটা চালের সর্বোচ্চ দাম।

মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে এই মোকামে মোটা চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। বর্তমানে ৩০ টাকার স্বর্ণা ও পাইজাম জাতের ধানের চাল মিলগেটে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এর প্রভার পড়েছে খুচরা বাজারে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) কুষ্টিয়া পৌর বাজারে অধিকাংশ দোকানেই ছিল না মোটা চাল। দু-একটি দোকানে কাজললতা ও পাইজাম ৪৮ টাকা এবং স্বর্ণার চাল ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

দেশের নিম্নআয়ের মানুষ এসব চালের প্রধান ক্রেতা। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশে কর্ম হারিয়ে ঘরবন্দি নিম্নআয়ের মানুষ দিশেহারা। ঠিক সেই মুহুর্তে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা আরো সংকটের মধ্যে পড়েছেন।

কুষ্টিয়া চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, ‘চাল দিতে পারছি এটাই বড় কথা, দাম দেখে লাভ নেই।’

কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন সুখনগর বস্তির বাসিন্দা কলা বিক্রেতা রবি জানান, প্রায় এক মাস যাবত তাকে কোথাও বসতে দেয় হচ্ছে না। উপার্জন হারিয়ে দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে চরম কষ্টে দিনযাপন করছেন। ব্যবসার একমাত্র পুঁজি যা ছিল একমাস বসে খেয়ে সব টাকা শেষ।

তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে ৩৫ টাকা কেজি দামে চাল কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেই একই চাল আজকে ৪৮ টাকা কেজি। কিভাবে সংসার চলাবো আর ভেবে পাচ্ছি না।’

কালিশংকরপুর এলাকার কাঠ মিস্ত্রি মাহবুব বলেন, ‘বড় লোকের চালের দাম বাড়েনি, দাম বেড়েছে আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের চালের। একদিকে করোনায় কারণে কর্ম হারিয়ে ঘরে বন্দি হয়ে করুণ অবস্থায় জীবনযাপন করছি, অন্যদিকে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় না খেয়ে মরার অবস্থা হয়েছে।’

জানা যায়, কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে সবচেয়ে বেশি মোটা চাল উৎপাদন করে স্বর্ণা অটো রাইস মিল ও সুবর্ণা এগ্রো ফুড। এছাড়া জেলার আরো প্রায় ৩৪টি অটো মিলে কমবেশি মোটা চাল উৎপাদন করে। সবচেয়ে বেশি মোটা চাল উৎপাদন করে জেলার প্রায় তিন শতাধিক হাসকিং রাইস মিল। তবে এসব হাসকিং মিল মালিকদের গুদামে বর্তমানে একবস্তা চালও মজুদ নেই। যা চাল আছে সুবর্ণা ও স্বর্ণা অটো রাইস মিলে।

আলিফ-মীম হাসকিং রাইস মিলের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হাসকিং মিল মালিকদের কোন পুঁজি নেই। কোন রকম ধুকে ধুকে চলছে মিলগুলো। তাই ধান অথবা চাল মজুদ করার কোন ক্ষমতা নেই। ধান কিনে চাল উৎপাদনের সাথে সাথে আমাদের বাজারে বিক্রি করতে হয়। তা না হলে পরের চালানে ধান কেনা সম্ভব হয় না।’

একাধিক মিল মালিক জানান, স্বর্ণা ও সুবর্ণা অটো রাইস মিলে এক হাজার টনের উপরে মোটা চাল মজুদ ছিল। কিছুদিন আগেও তারা মিলগেটে মোটা স্বর্ণা চাল ৩০টাকা ও মাঝারি পাইজাম ৩৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করেছে। বর্তমানে সেই চাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তাও সবার কাছে চাল বিক্রি করছেন না। বলছেন মোটা চাল মজুদ নেই।

কুষ্টিয়া জেলা অটো ও হাসকিং চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ও স্বর্ণা রাইস মিলের মালিক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘চাল দিতে পারছি এটাই বড় কথা, দাম দেখে লাভ নেই। বর্তমানে বাজারে মোটা জাতের কোন ধান নেই। এই দামে বিক্রি করেও আমাদের লোকসান হচ্ছে। মিলে কোন মোটা চাল মজুদ নেই। দুইদিন আগে ৪০টাকা কেজি দরে পাইজাম চাল বিক্রি করেছিলাম।

এই চাল ১০দিন আগে কত দামে বিক্রি করেছিলেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘১০দিন আগে আমার মিলে কোন চাল ছিল না।’

কুষ্টিয়ার পৌর বাজারের বড় চাল বিক্রেতা স্বপন জানান, দুই সপ্তাহ আগেও তারা মোটা চাল ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে সেই সব চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়। এসব দামেও মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না। তার দোকানেও মোটা কোন চাল নেই। বাজারের অধিকাংশ দোকানেই মোটা চাল নেই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে চারটিতে ধানের শীষ এবং একটিতে শাপলা কলি বিজয়ী

কুষ্টিয়ায় মোটা চালের হাওয়া!

প্রকাশিত : ১১:৪৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০

কুষ্টিয়ার বাজারে টাকা দিয়েও মিলছে না মোটা চাল। দেশের বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকায় উঠেছে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিই মোটা চালের সর্বোচ্চ দাম।

মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে এই মোকামে মোটা চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। বর্তমানে ৩০ টাকার স্বর্ণা ও পাইজাম জাতের ধানের চাল মিলগেটে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এর প্রভার পড়েছে খুচরা বাজারে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) কুষ্টিয়া পৌর বাজারে অধিকাংশ দোকানেই ছিল না মোটা চাল। দু-একটি দোকানে কাজললতা ও পাইজাম ৪৮ টাকা এবং স্বর্ণার চাল ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

দেশের নিম্নআয়ের মানুষ এসব চালের প্রধান ক্রেতা। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশে কর্ম হারিয়ে ঘরবন্দি নিম্নআয়ের মানুষ দিশেহারা। ঠিক সেই মুহুর্তে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা আরো সংকটের মধ্যে পড়েছেন।

কুষ্টিয়া চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, ‘চাল দিতে পারছি এটাই বড় কথা, দাম দেখে লাভ নেই।’

কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন সুখনগর বস্তির বাসিন্দা কলা বিক্রেতা রবি জানান, প্রায় এক মাস যাবত তাকে কোথাও বসতে দেয় হচ্ছে না। উপার্জন হারিয়ে দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে চরম কষ্টে দিনযাপন করছেন। ব্যবসার একমাত্র পুঁজি যা ছিল একমাস বসে খেয়ে সব টাকা শেষ।

তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে ৩৫ টাকা কেজি দামে চাল কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেই একই চাল আজকে ৪৮ টাকা কেজি। কিভাবে সংসার চলাবো আর ভেবে পাচ্ছি না।’

কালিশংকরপুর এলাকার কাঠ মিস্ত্রি মাহবুব বলেন, ‘বড় লোকের চালের দাম বাড়েনি, দাম বেড়েছে আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের চালের। একদিকে করোনায় কারণে কর্ম হারিয়ে ঘরে বন্দি হয়ে করুণ অবস্থায় জীবনযাপন করছি, অন্যদিকে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় না খেয়ে মরার অবস্থা হয়েছে।’

জানা যায়, কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে সবচেয়ে বেশি মোটা চাল উৎপাদন করে স্বর্ণা অটো রাইস মিল ও সুবর্ণা এগ্রো ফুড। এছাড়া জেলার আরো প্রায় ৩৪টি অটো মিলে কমবেশি মোটা চাল উৎপাদন করে। সবচেয়ে বেশি মোটা চাল উৎপাদন করে জেলার প্রায় তিন শতাধিক হাসকিং রাইস মিল। তবে এসব হাসকিং মিল মালিকদের গুদামে বর্তমানে একবস্তা চালও মজুদ নেই। যা চাল আছে সুবর্ণা ও স্বর্ণা অটো রাইস মিলে।

আলিফ-মীম হাসকিং রাইস মিলের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হাসকিং মিল মালিকদের কোন পুঁজি নেই। কোন রকম ধুকে ধুকে চলছে মিলগুলো। তাই ধান অথবা চাল মজুদ করার কোন ক্ষমতা নেই। ধান কিনে চাল উৎপাদনের সাথে সাথে আমাদের বাজারে বিক্রি করতে হয়। তা না হলে পরের চালানে ধান কেনা সম্ভব হয় না।’

একাধিক মিল মালিক জানান, স্বর্ণা ও সুবর্ণা অটো রাইস মিলে এক হাজার টনের উপরে মোটা চাল মজুদ ছিল। কিছুদিন আগেও তারা মিলগেটে মোটা স্বর্ণা চাল ৩০টাকা ও মাঝারি পাইজাম ৩৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করেছে। বর্তমানে সেই চাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তাও সবার কাছে চাল বিক্রি করছেন না। বলছেন মোটা চাল মজুদ নেই।

কুষ্টিয়া জেলা অটো ও হাসকিং চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ও স্বর্ণা রাইস মিলের মালিক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘চাল দিতে পারছি এটাই বড় কথা, দাম দেখে লাভ নেই। বর্তমানে বাজারে মোটা জাতের কোন ধান নেই। এই দামে বিক্রি করেও আমাদের লোকসান হচ্ছে। মিলে কোন মোটা চাল মজুদ নেই। দুইদিন আগে ৪০টাকা কেজি দরে পাইজাম চাল বিক্রি করেছিলাম।

এই চাল ১০দিন আগে কত দামে বিক্রি করেছিলেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘১০দিন আগে আমার মিলে কোন চাল ছিল না।’

কুষ্টিয়ার পৌর বাজারের বড় চাল বিক্রেতা স্বপন জানান, দুই সপ্তাহ আগেও তারা মোটা চাল ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে সেই সব চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়। এসব দামেও মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না। তার দোকানেও মোটা কোন চাল নেই। বাজারের অধিকাংশ দোকানেই মোটা চাল নেই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান