চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদরে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পরিবারের সদস্যরা পৌঁছে দিচ্ছে মানবিক সহায়তার ত্রাণ সামগ্রী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক তালিকা করে গরীব অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে ত্রাণ সরবরাহ টিমের সদস্যরা। এছাড়া উপজেলার যেখান থেকে ফোন আসছে সেখানে পৌঁছে যাচ্ছে খাদ্য সামগ্রীসহ হুইপের ত্রাণ সরবরাহকারী টিম।
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। এলাকার গরীব অসহায় মানুষকে ত্রাণ সামগ্রী দিতে গিয়ে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ও তার ছেলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কর্মাসের পরিচালক নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন ও হুইপের ভাই মুজিবুল হক চৌধুরী নবাবকে এলাকার নোংরা রাজনীতির শিকার হতে হচ্ছে বলেও হুইপ পরিবারের অভিযোগ। যেখানে ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হুইপ পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন। কর্মহীন, গরীব, অসহায়, মধ্যবিত্ত পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। যতদিন করোনা ভাইরাসের প্রভাব স্বভাবিক হবে না ততদিন পটিয়াবাসীকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন।এর ধারাবাহিকতায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা, পাড়া মহল্লায় হুইপের পক্ষ থেকে গরীব অসহায় মানুষকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে আসছেন।পটিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী নিজ অর্থায়নে উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও পটিয়া পৌরসভায় ইতোমধ্যে ৫০ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপির ত্রাণ সহায়তা টিম চাল, ডাল, আলু, সাবান, মাস্ক ও হেক্সিসল বিতরণ করছেন। হুইপের এমন সিদ্ধান্ত পটিয়ারবাসীর কাছে প্রশংশিত হয়েছে। পটিয়া আশিয়া এলাকার রাবিয়া বেগম নামের এক অসহায় মহিলা হুইপের ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন,কান্না করতে করতে বলেন, আমার জন্য চাল ডাল যারা পাঠিয়েছে আল্লাহ তুমি তাদের মঙ্গল কর।
জঙ্গলখাইন ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহদাত হোসেন সবুজের সাথে ১৫/২০দিন আগের একটি ব্যক্তিগত ঘটনাকে জড়িয়ে ত্রাণ বিতরণের ঘটনা বলে হুইপ ও তার পরিবারকে জড়িয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে উক্ত ইউপি সদস্য।
হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপির ত্রাণ সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে ত্রাণ সরবাহকারী টিমের প্রধান সমন্বয়ক মুজিবুল হক চৌধুরী নবাব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দীনসহ প্রশাসনের একটি টিমও।
অন্যদিকে পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পটিয়ার নির্বাচিত সদস্য দেবব্রত দাশ দেবু ও কিছু কিছু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করোনা ভাইরাসের প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষের পাশে কোন ধরণের ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে দাড়াতে দেখা যায়নি।এটা নিয়েও চলছে পটিয়াবাসীর মধ্যে সমালোচনা। তবে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় পটিয়ায় ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সহায়তা দিতে পারছে না বলে জানান পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দেবব্রত দাশ দেবু।
এ বিষয়ে পটিয়ায় হুুইপের ত্রাণ সরবরাহকারী টিমের প্রধান সমন্বয়ক মুজিবুল হক চৌধুরী নবাব বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে মানবিক কারণে পটিয়াবাসীকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। একটি চক্র সেখানে আমার পরিবার ও হুইপকে হেয় করার জন্য নোংরা রাজনীতি করছে। অথচ যারা করছে তারা এলাকার গরীব অসহায় কোন ব্যক্তিকে এক কেজি চাল কিনে দিয়ে সহযোগিতা করতে দেখিনি, এসব কারা করতেছে পটিয়াবাসী সব জেনে গেছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিজন চক্রবর্ত্তী বলেন, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি মহোদয় একজন মানবিক মানুষ, পটিয়াবাসীর বিপদের সময়ে উনার পরিবারের সবাই ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে পাশে দাড়িয়ে ঘরে ঘরে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আগামী ঈদ পর্যন্ত সহায়তা দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উনার ভাল কাজে উৎসাহিত না করে যারা সমালোচনা করছে তারা পটিয়াবাসীর জন্য বিপদের সময়ে কি করছে সেটা প্রশ্ন পটিয়াবাসীর?
বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক










