বিসিক শিল্পনগরী, রাজশাহীতে ঔষধসহ নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও জীবনরক্ষাকারী ঔষধ, হাত জীবানুমুক্ত করার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর রাজশাহী শিল্পনগরীর শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ। শিল্পনগরীর যে সকল কারখানা করোনা প্রতিরোধমূলক সকল স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ ‘শিল্পনগরীর পরিদর্শন টিম’ কর্তৃক নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরীর সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিসিকে মোট ২০৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এই শিল্পনগরীতে ৭১টি শিল্প কারখানা চালু রয়েছে। যেখানে প্রায় ২১০০ জন জনবল কর্মরত আছে।
কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে চালু শিল্প ইউনিটগুলোর মধ্যে রয়েছে টিম ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন বিভিন্ন প্রকরণের ১০,০০০ প্যাকেট ঔষধসহ ১০০ মিলি আকারের ১২-১৫ হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করছে যা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে উৎপাদিন পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।
এছাড়াও স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে শিল্পনগরীর আরও ৩টি প্রতিষ্ঠান অশোকা ল্যাবরেটরি, হকস্ ফার্মা এবং শাহী ল্যাবরেটরি সুনামের সাথে ইউনানী / আয়ুর্বেদিক ঔষধ উৎপাদন করে যাচ্ছে। এছাড়াও উৎপাদনরত অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৪৬টি খাদ্য ও খাদ্য সহায়ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিদ চাল, ডাল, আটা, ময়দা, সুজি, সেমাই, চানাচুর, বিস্কুট, কেক, পাউরুটি, সরিষার তেল, আইসক্রিম, বিশুদ্ধ খাবার পানি, গুড়া মরিচ, গুড়া হলুদ ইত্যাদি উৎপাদন করে যাচ্ছে।
এছাড়াও অন্যান্য সেক্টরে ২৫টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি স্বাস্থ্য বিধি মেনে তাদের কার্যক্রম চালু রাখায় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখাসহ মানুষেল নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ঔষধের চাহিদা পূরণ করতে বিসিক শিল্পনগরী, রাজশাহী নিরলসভাবে কাজ করছে।
বিসিকের শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. ওয়ায়েস কুরুনী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিক শিল্পনগরী রাজশাহীতে মোট ৭১টি কারখানা করোনা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু আছে যার মধ্যে ১২টি রাইস মিলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫০ মে.টন চাল, ৩টি ডাল মিলে প্রতিদিনে গড়ে প্রায় ৩৫০ মে.টন ডাল, ১টি অটোমেটিক ফ্লাওয়ার মিলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০ মে.টন আটা উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সামগ্রী উৎপাদিত হচ্ছে। পণ্যগুলো রাজশাহী ও এর আশেপাশের জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক জাফর বায়েজীদ জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে রাজশাহী শিল্পনগরীতে উৎপাদনরত শিল্পপ্রতিষ্ঠান সমূহে স্বাস্থ্য বিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকেরা পণ্য উৎপাদন করে যাচ্ছেন। নগরীর কারখানাগুলোতে উৎপাদিন পণ্য সমূহের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এর উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ চেইন অব্যাহত রাখার নিমিত্ত বিসিক চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছে।












