০১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে ক্লুলেস হত্যাকান্ডের মূল হোতাসহ ৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৭

নগরীর কর্ণফুলীর শিকলবাহা এলাকার চাঞ্চলকর ক্লুলেস শায়ের মোহাম্মদ সাগর (৩৮) হত্যাকান্ডের মূল হোতা মোঃ মহিউদ্দিন (২২) সহ ৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৭। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ) রাতে কর্ণফুলী থানার ইয়ানগর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। আটকৃতরা হলেন কর্ণফুলী থানার ইছানগরের মোহাম্মদ মিঞার পুত্র মোঃ মহিউদ্দিন (২২), ও তার ছোট ভাই মোঃ রাব্বি (২১), একই এলাকার মোঃ মোঃ জলিল আহম্মেদ এর পুত্র মোঃ কাইয়ুম (১৯),একই থানার মৌলভীপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল সালামের পুত্র মোঃ ইরফান (১৯), আব্দুর রহিম মেম্বারের বাড়ির মোঃ ইয়াসিনের পুত্র নাঈমুল হক সাকিব (১৯), ও সন্দ্বীপ থানার কেঞ্জাতলী লালখান পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল বাতেনের পুত্র আব্দুল করিম রিফাত (১৯), বর্তমানে সে কর্ণফুলী থানার ইছানগরে বসবাস করেন। র‌্যাব-৭ এর গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক (সহকারী পুলিশ সুপার) মোঃ মাহমুদুল হাসান মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান গত ১৯ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখ সন্ধ্যার সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা এলাকায় কবিরাজ শায়ের মোহাম্মদ সাগর (৩৮) কে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে মৃত বলে ঘোষনা করে। পরবর্তীতে নিহতের ভাই গত ২০ এপ্রিল কর্ণফুলী থানায় অজ্ঞাতনামা ৭ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের পর থেকেই র‌্যাব-৭ উক্ত ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। গোয়েন্দা নজরদারির এক পর্যায়ে র‌্যাব-৭ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে উক্ত হত্যা মামলার আসামীগন কর্ণফুলী থানার ইছানগর এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল । গ্রেফতারকৃত আসামীরা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানানিয়ে তিনি আরো বলেন আসামীদের স্বীকরোক্তি ও দেখানো মতে চরলক্ষ্যা এলাকায় একটি গোয়ালঘর থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ০৩ টি মোটা লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায় যে, হত্যাকান্ডের মূল হোতা মোঃ মহিউদ্দিনের সাথে ঐ এলাকার জনৈক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য মেয়ের মা মেয়েকে বেশ কয়েক বার কবিরাজের কাছে ঝাড়ফুঁকের জন্য নিয়ে যায়। কিছুদিন পর মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে মহিউদ্দিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তারপর মেয়েটি কবিরাজের ঘটনা মহিউদ্দিনকে খুলে বললে সে ভিকটিমকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করে। গত ১৯ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখ মোঃ মহিউদ্দিন তার চাচীর পেটে ব্যথার কথা বলে ভিকটিমকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং সুযোগ বুঝে গোয়ালপাড়া এলাকায় নিয়ে সন্ধ্যার সময় তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে মৃত বলে ঘোষনা করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্ণফুলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগ :

ইরানে বোমা অপসারণের সময় বিস্ফোরণে ১৪ আইআরজিসি সদস্য নিহত

চট্টগ্রামে ক্লুলেস হত্যাকান্ডের মূল হোতাসহ ৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৭

প্রকাশিত : ০২:১৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

নগরীর কর্ণফুলীর শিকলবাহা এলাকার চাঞ্চলকর ক্লুলেস শায়ের মোহাম্মদ সাগর (৩৮) হত্যাকান্ডের মূল হোতা মোঃ মহিউদ্দিন (২২) সহ ৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৭। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ) রাতে কর্ণফুলী থানার ইয়ানগর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। আটকৃতরা হলেন কর্ণফুলী থানার ইছানগরের মোহাম্মদ মিঞার পুত্র মোঃ মহিউদ্দিন (২২), ও তার ছোট ভাই মোঃ রাব্বি (২১), একই এলাকার মোঃ মোঃ জলিল আহম্মেদ এর পুত্র মোঃ কাইয়ুম (১৯),একই থানার মৌলভীপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল সালামের পুত্র মোঃ ইরফান (১৯), আব্দুর রহিম মেম্বারের বাড়ির মোঃ ইয়াসিনের পুত্র নাঈমুল হক সাকিব (১৯), ও সন্দ্বীপ থানার কেঞ্জাতলী লালখান পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল বাতেনের পুত্র আব্দুল করিম রিফাত (১৯), বর্তমানে সে কর্ণফুলী থানার ইছানগরে বসবাস করেন। র‌্যাব-৭ এর গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক (সহকারী পুলিশ সুপার) মোঃ মাহমুদুল হাসান মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান গত ১৯ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখ সন্ধ্যার সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা এলাকায় কবিরাজ শায়ের মোহাম্মদ সাগর (৩৮) কে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে মৃত বলে ঘোষনা করে। পরবর্তীতে নিহতের ভাই গত ২০ এপ্রিল কর্ণফুলী থানায় অজ্ঞাতনামা ৭ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের পর থেকেই র‌্যাব-৭ উক্ত ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। গোয়েন্দা নজরদারির এক পর্যায়ে র‌্যাব-৭ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে উক্ত হত্যা মামলার আসামীগন কর্ণফুলী থানার ইছানগর এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল । গ্রেফতারকৃত আসামীরা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানানিয়ে তিনি আরো বলেন আসামীদের স্বীকরোক্তি ও দেখানো মতে চরলক্ষ্যা এলাকায় একটি গোয়ালঘর থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ০৩ টি মোটা লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায় যে, হত্যাকান্ডের মূল হোতা মোঃ মহিউদ্দিনের সাথে ঐ এলাকার জনৈক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য মেয়ের মা মেয়েকে বেশ কয়েক বার কবিরাজের কাছে ঝাড়ফুঁকের জন্য নিয়ে যায়। কিছুদিন পর মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে মহিউদ্দিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তারপর মেয়েটি কবিরাজের ঘটনা মহিউদ্দিনকে খুলে বললে সে ভিকটিমকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করে। গত ১৯ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখ মোঃ মহিউদ্দিন তার চাচীর পেটে ব্যথার কথা বলে ভিকটিমকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং সুযোগ বুঝে গোয়ালপাড়া এলাকায় নিয়ে সন্ধ্যার সময় তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে মৃত বলে ঘোষনা করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্ণফুলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।