০১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এক সপ্তাহে দুই খুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে গত এক সাপ্তাহের ব্যবধানে মাওলানা সায়ের মোহাম্মদ সাগর ও শনিবার আরিফ দোভাষ নামের এক যুবকসহ দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটায় একায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশব্যাপী লকডাউন শুরু হলে পুলিশ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাঠে ময়দানে ব্যস্ত হয়ে পড়লে এই সুযোগে অপরাধিরা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সিএমপির আওতাধিন কর্ণফুলী এলাকায় ইতোমধ্যে প্রতিদিন ঘটছে মারামারির ঘটনা, দুর্ঘটনা, হত্যা, জায়গা দখল, মাদক, ইয়াবা ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ। পুলিশ শত চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না বলেও জানা যায়।
জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্য এলাকায় শালিসী বৈঠকে কথা কাটকাটির জের ধরে ছুরিকাঘাতে এক যুবককে গত শনিবার দুপুরে খুন করা হয়েছে। নিহত যুবক আরিফ দোভাষ (২০), সে উপজেলার চরলক্ষ্য এলাকার ক্ষুইদ্দের টেক এলাকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার বেলা ১২ টায় এ ঘটনা ঘটে। যুবকটি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ৩ টায় মারা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ওসি মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি জানান, ‘একটি শালিসী বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় কাউসার নামের এক যুবক আরিফ দোভাষকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
পরে গুরতর আহতবস্থায় আরিফকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারনে আরিফের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পলাতক থাকা ঘটনার মূল হোতা কাউসারকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় বর্তমানে উক্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অন্যদিকে গত ১৯ এপ্রিল কর্ণফুলীর শিকলবাহার কবিরাজ মাওলানা সায়ের মোহাম্মদ সাগর (৩৮) কে খুন করা হয়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার কর্ণফুলীর ইছানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে ৬জনকে আটক করেছে র‌্যাব। প্রেম গঠিত ঘটনায় খুন করেছে বলে আসামিরা স্বীকার করেছে বলে দাবী করেছেন র‌্যাব। খুন হওয়া মাওলানা সায়ের মোহাম্মদ সাগরের কাছে প্রেমিকা প্রেমিককে বসে আনতে ঝাঢ়ফুঁক করতে গেলে এ সময় কবিরাজ প্রেমিকার গায়ে হাত দেয় বলে প্রেমিকের কাছে প্রেমিকা অভিযোগ করেন। প্রেমিকার গায়ে হাত দেয়ার প্রতিশোধ নিতে কবিরাজকে খুন করেছে বলে র‌্যাবের কাছে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন বলে জানায়। এ চট্টগ্রাম র‌্যাব -৭ এর সিনিয়র এএসপি কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, ঘটনার মূল হোতা মো. মহিউদ্দিনের সাথে একই এলাকার ইছানগরের একটি মেয়ের প্রেম নিবেদন ছিল। মেয়ের মা বিষয়টি জানার পর মেনে নেননি। মেয়েকে নিয়ে তিনি কবিরাজ সায়ের মোহাম্মদ সাগরের কাছে যান। মহিউদ্দিনকে ভুলতে কবিরাজ মেয়েটিকে ঝাড়ফুঁক করেন। ওই ঘটনার ১০-১২ দিন পরে মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে মহিউদ্দিনকে বিয়ে করে। বিয়ের পর মেয়েটি তার স্বামী মহিউদ্দিনকে ঝাড়ফুঁকের বিষয়টি জানায়। এটা জানার পর মহিউদ্দীন তার বন্ধু বান্ধব নিয়ে কবিরাজকে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, অপরাধিরা সব সময়ে পুলিশের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগাতে চান, কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও পুলিশের অবহেলা কিংবা দুর্বলতার কারণে কোন ঘটনা এবং অপরাধ হচ্ছে না। এলাকার আইন শৃঙ্খলা পুলিশের শতভাগ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি ।

ট্যাগ :

ইরানে বোমা অপসারণের সময় বিস্ফোরণে ১৪ আইআরজিসি সদস্য নিহত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এক সপ্তাহে দুই খুন

প্রকাশিত : ০২:২০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে গত এক সাপ্তাহের ব্যবধানে মাওলানা সায়ের মোহাম্মদ সাগর ও শনিবার আরিফ দোভাষ নামের এক যুবকসহ দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটায় একায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশব্যাপী লকডাউন শুরু হলে পুলিশ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাঠে ময়দানে ব্যস্ত হয়ে পড়লে এই সুযোগে অপরাধিরা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সিএমপির আওতাধিন কর্ণফুলী এলাকায় ইতোমধ্যে প্রতিদিন ঘটছে মারামারির ঘটনা, দুর্ঘটনা, হত্যা, জায়গা দখল, মাদক, ইয়াবা ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ। পুলিশ শত চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না বলেও জানা যায়।
জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্য এলাকায় শালিসী বৈঠকে কথা কাটকাটির জের ধরে ছুরিকাঘাতে এক যুবককে গত শনিবার দুপুরে খুন করা হয়েছে। নিহত যুবক আরিফ দোভাষ (২০), সে উপজেলার চরলক্ষ্য এলাকার ক্ষুইদ্দের টেক এলাকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার বেলা ১২ টায় এ ঘটনা ঘটে। যুবকটি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ৩ টায় মারা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ওসি মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি জানান, ‘একটি শালিসী বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় কাউসার নামের এক যুবক আরিফ দোভাষকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
পরে গুরতর আহতবস্থায় আরিফকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারনে আরিফের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পলাতক থাকা ঘটনার মূল হোতা কাউসারকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় বর্তমানে উক্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অন্যদিকে গত ১৯ এপ্রিল কর্ণফুলীর শিকলবাহার কবিরাজ মাওলানা সায়ের মোহাম্মদ সাগর (৩৮) কে খুন করা হয়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার কর্ণফুলীর ইছানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে ৬জনকে আটক করেছে র‌্যাব। প্রেম গঠিত ঘটনায় খুন করেছে বলে আসামিরা স্বীকার করেছে বলে দাবী করেছেন র‌্যাব। খুন হওয়া মাওলানা সায়ের মোহাম্মদ সাগরের কাছে প্রেমিকা প্রেমিককে বসে আনতে ঝাঢ়ফুঁক করতে গেলে এ সময় কবিরাজ প্রেমিকার গায়ে হাত দেয় বলে প্রেমিকের কাছে প্রেমিকা অভিযোগ করেন। প্রেমিকার গায়ে হাত দেয়ার প্রতিশোধ নিতে কবিরাজকে খুন করেছে বলে র‌্যাবের কাছে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন বলে জানায়। এ চট্টগ্রাম র‌্যাব -৭ এর সিনিয়র এএসপি কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, ঘটনার মূল হোতা মো. মহিউদ্দিনের সাথে একই এলাকার ইছানগরের একটি মেয়ের প্রেম নিবেদন ছিল। মেয়ের মা বিষয়টি জানার পর মেনে নেননি। মেয়েকে নিয়ে তিনি কবিরাজ সায়ের মোহাম্মদ সাগরের কাছে যান। মহিউদ্দিনকে ভুলতে কবিরাজ মেয়েটিকে ঝাড়ফুঁক করেন। ওই ঘটনার ১০-১২ দিন পরে মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে মহিউদ্দিনকে বিয়ে করে। বিয়ের পর মেয়েটি তার স্বামী মহিউদ্দিনকে ঝাড়ফুঁকের বিষয়টি জানায়। এটা জানার পর মহিউদ্দীন তার বন্ধু বান্ধব নিয়ে কবিরাজকে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, অপরাধিরা সব সময়ে পুলিশের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগাতে চান, কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও পুলিশের অবহেলা কিংবা দুর্বলতার কারণে কোন ঘটনা এবং অপরাধ হচ্ছে না। এলাকার আইন শৃঙ্খলা পুলিশের শতভাগ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি ।