০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আমাকে টিনশেডের নরমাল ঘরে আটকে রেখেছিল: উৎপল

প্রায় দুই মাস ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক উৎপল দাসকে অবশেষে পাওয়া গেছে। তাকে কে বা কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিলো তাদের পরিচয় জানাতে পরেননি তিনি। উৎপলের চোখেমুখে এখনো রয়ে গেছে উৎকণ্ঠার চাপ।

মঙ্গলবার রাত ১২টা ৬ মিনিটে উৎপলকে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলেন উৎপল দাসের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস।

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার আধুরিয়া শাহজালাল সিএনজি স্টেশনে উৎপল দাসকে উদ্ধার করেন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম।

তিনি কিভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন? সেটিও জানিয়েছেন সাংবাদিকদের। তিনি জানান, তাকে ধানমণ্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়।

তার ভাষায়, পেছন থেকে আমাকে ধরে একটি গাড়িতে তোলার পর চোখ বেঁধে ফেলায় কারও চেহারা দেখতে পাইনি। আমাকে নিয়ে টিনশেডের নরমাল একটা ঘরে আটকে রেখেছিল। সেখানে তিন বেলা দরজার নিচ থেকে নরমাল খাবার দেওয়া হতো। ঘরে চৌকি বা খাট ছিল না, ফ্লোরে থাকতে হত। ওই ঘরের সঙ্গে একটা বাথরুম ছিল। সেখানে গোসল করতাম।

উপস্থিত সাংবাদিকদের উৎপল দাস বলেন, আমাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় তিন-চার ঘণ্টা একটা গাড়িতে করে ঘোরানো শেষে এখানে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু আমি জানি না।

তিনি আরো বলেন, আমাকে এখানে নামিয়ে দেওয়ার সময় আমার চোখের বাঁধন খুলে দিয়ে তারা বলেছেন—আমরা যখন গাড়ি টান দেবে তখন তুই চোখ খুলবি। আমি যখন সিএনজি স্টেশনে ঘোরাফেরা করছিলাম, তখন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম গিয়ে আমাকে সিএনজি স্টেশন থেকে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে আমার সাংবাদিক ভাইয়েরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

উৎপল বলেন, তুলে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথম দিকে তাকে চড় থাপ্পড় মারা হয়েছে। তারা আমাকে বলত, তোর অনেক টাকা তুই টাকা দে। আমার মোবাইল ফোন তারা নিয়ে নিয়েছিল।

এই সাংবাদিক বলছেন, মঙ্গলবার রাতে চোখ বাঁধা অবস্থায় তিন-চার ঘণ্টা একটি গাড়িতে করে তাকে ঘোরানো হয়। তারপর নামিয়ে দেওয়া হয় ওই ফিলিং স্টেশনে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

আমাকে টিনশেডের নরমাল ঘরে আটকে রেখেছিল: উৎপল

প্রকাশিত : ১২:৪১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রায় দুই মাস ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক উৎপল দাসকে অবশেষে পাওয়া গেছে। তাকে কে বা কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিলো তাদের পরিচয় জানাতে পরেননি তিনি। উৎপলের চোখেমুখে এখনো রয়ে গেছে উৎকণ্ঠার চাপ।

মঙ্গলবার রাত ১২টা ৬ মিনিটে উৎপলকে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলেন উৎপল দাসের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস।

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার আধুরিয়া শাহজালাল সিএনজি স্টেশনে উৎপল দাসকে উদ্ধার করেন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম।

তিনি কিভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন? সেটিও জানিয়েছেন সাংবাদিকদের। তিনি জানান, তাকে ধানমণ্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়।

তার ভাষায়, পেছন থেকে আমাকে ধরে একটি গাড়িতে তোলার পর চোখ বেঁধে ফেলায় কারও চেহারা দেখতে পাইনি। আমাকে নিয়ে টিনশেডের নরমাল একটা ঘরে আটকে রেখেছিল। সেখানে তিন বেলা দরজার নিচ থেকে নরমাল খাবার দেওয়া হতো। ঘরে চৌকি বা খাট ছিল না, ফ্লোরে থাকতে হত। ওই ঘরের সঙ্গে একটা বাথরুম ছিল। সেখানে গোসল করতাম।

উপস্থিত সাংবাদিকদের উৎপল দাস বলেন, আমাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় তিন-চার ঘণ্টা একটা গাড়িতে করে ঘোরানো শেষে এখানে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু আমি জানি না।

তিনি আরো বলেন, আমাকে এখানে নামিয়ে দেওয়ার সময় আমার চোখের বাঁধন খুলে দিয়ে তারা বলেছেন—আমরা যখন গাড়ি টান দেবে তখন তুই চোখ খুলবি। আমি যখন সিএনজি স্টেশনে ঘোরাফেরা করছিলাম, তখন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম গিয়ে আমাকে সিএনজি স্টেশন থেকে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে আমার সাংবাদিক ভাইয়েরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

উৎপল বলেন, তুলে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথম দিকে তাকে চড় থাপ্পড় মারা হয়েছে। তারা আমাকে বলত, তোর অনেক টাকা তুই টাকা দে। আমার মোবাইল ফোন তারা নিয়ে নিয়েছিল।

এই সাংবাদিক বলছেন, মঙ্গলবার রাতে চোখ বাঁধা অবস্থায় তিন-চার ঘণ্টা একটি গাড়িতে করে তাকে ঘোরানো হয়। তারপর নামিয়ে দেওয়া হয় ওই ফিলিং স্টেশনে।