০৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

স্বপরিবারে সন্ত্রাসী হামলার শিকার ববি শিক্ষার্থী

সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ( ববি) শিক্ষার্থী আমির হামজা ও তাঁর পরিবার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। হামলায় তাঁর মা ও বোনের অবস্থা আংশঙ্কাজনক। তাঁর মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে যশোর নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। তাঁর বাড়ি যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার কুলিয়া গ্রামে। সেখানেই এ হামলার শিকার হন তিনি ও তার পরিবার।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হামলার শিকার আমির হামজা বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে একটি অব্যবহৃত ঘরে গ্রামের বেশকিছু প্রভাবশালী মাদকাসক্ত কিশোর- যুবক ইয়াবা – গাঁজা সেবন করতো। আমরা এর বিরোধীতা করলে আমাদের কে মারার হুমকি দেয়।
উপায়ন্তর না থেকে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দেই। তিনি তাঁদের দমন করেন কিন্তু সম্প্রতি ইউএনও বদলি হয়ে গেলে তারা আমাদের টার্গেট করে পরিকল্পিত এ হামলা চালায়। তিনি আরো বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইচ্ছা করে আমার মার গায়ে ফুটবল মারে( স্বাভাবিকভাবে মায়ের বসার জায়গায় বল যাওয়ার কথা না)।
মা বল নিয়ে মাফ না চাইলে বল দেব না বলার সাথে ১৫-২০ জন লোক লাঠি ও অনান্য অস্ত্র নিয়ে মায়ের ওপর এলোপাতাড়ি মার শুরু করে। মার মাথা ফেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। মাকে বাঁচাতে গেলে আমার মেজো বোনকেও ( সরকারি এম এম কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস) তারা বুট দিয়ে এলোপাথাড়ি লাথি মেরে বোনের হাড়-পাঁজর ভেঙে দেয়।
ভাই এগিয়ে গেলে তাঁরও মাথা ফাটিয়ে দেয় তারা। আমাকে বেধে পায়ে লাঠিদিয়ে মারে তারা। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে আমাদের ওপর হামলা চালায় তারা। কেউ এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দিতে গেলে তারা আমাদেরকে পাগলের ছেলেমেয়ে হাসি তামাশা করে।
আমির হামজা বলেন, ৩০ মিনিট পর মাকে আংশাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু মায়ের অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ার তাকে ঢাকা রেফার করেছে। নিজের উপবৃত্তির তিন হাজার টাকা ছিল। তা এখন খরচ হয়ে গেল।
বাবা মানসিক বিকারগ্রস্ত। পরিবারের আয়ের কেউ নেই । আমাকে বাঁচাতে এখন অনেক টাকা লাগবে। একদিনে ফার্মেসীতে ৭ হাজার টাকা বিল আসছে। কিন্তু আমার কাছে এখন কোন টাকা -পয়সা নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান তার নিকট অভিযোগ আসেনি বলে জানান, যারা এসকল কর্মকান্ড করেছে তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছে অভিযোগের ভিত্তিতে সে অনুযায়ী পুলিশি সহযোগিতা এবং নির্যাতিতদের চিকিৎসা সহোযোগিতা করা হবে জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন ” আমি সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করেছি। সিনিয়র এ এসপির সাথে আমার কথা হয়েছে। সে আমাকে পরবর্তীতে ম্যাসেজও করেছে বিষয়টি সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দেওয়া হবে। তার যদি মনে হয় সে কোথাও আইনীয় সহায়তা পাচ্ছে না তাহলে এ বিষয়ে আরো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।এছাড়াও বিষয়টি অবহিত হওয়ার সাথে সাথে তাৎক্ষণিক কিছুটা আর্থিক সহায়তা করেছেন বলেও জানান তিনি।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলস্টেশন থেকে গুলিসহ একটি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৯

স্বপরিবারে সন্ত্রাসী হামলার শিকার ববি শিক্ষার্থী

প্রকাশিত : ১০:৩২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২০
সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ( ববি) শিক্ষার্থী আমির হামজা ও তাঁর পরিবার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। হামলায় তাঁর মা ও বোনের অবস্থা আংশঙ্কাজনক। তাঁর মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে যশোর নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। তাঁর বাড়ি যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার কুলিয়া গ্রামে। সেখানেই এ হামলার শিকার হন তিনি ও তার পরিবার।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হামলার শিকার আমির হামজা বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে একটি অব্যবহৃত ঘরে গ্রামের বেশকিছু প্রভাবশালী মাদকাসক্ত কিশোর- যুবক ইয়াবা – গাঁজা সেবন করতো। আমরা এর বিরোধীতা করলে আমাদের কে মারার হুমকি দেয়।
উপায়ন্তর না থেকে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দেই। তিনি তাঁদের দমন করেন কিন্তু সম্প্রতি ইউএনও বদলি হয়ে গেলে তারা আমাদের টার্গেট করে পরিকল্পিত এ হামলা চালায়। তিনি আরো বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইচ্ছা করে আমার মার গায়ে ফুটবল মারে( স্বাভাবিকভাবে মায়ের বসার জায়গায় বল যাওয়ার কথা না)।
মা বল নিয়ে মাফ না চাইলে বল দেব না বলার সাথে ১৫-২০ জন লোক লাঠি ও অনান্য অস্ত্র নিয়ে মায়ের ওপর এলোপাতাড়ি মার শুরু করে। মার মাথা ফেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। মাকে বাঁচাতে গেলে আমার মেজো বোনকেও ( সরকারি এম এম কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস) তারা বুট দিয়ে এলোপাথাড়ি লাথি মেরে বোনের হাড়-পাঁজর ভেঙে দেয়।
ভাই এগিয়ে গেলে তাঁরও মাথা ফাটিয়ে দেয় তারা। আমাকে বেধে পায়ে লাঠিদিয়ে মারে তারা। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে আমাদের ওপর হামলা চালায় তারা। কেউ এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দিতে গেলে তারা আমাদেরকে পাগলের ছেলেমেয়ে হাসি তামাশা করে।
আমির হামজা বলেন, ৩০ মিনিট পর মাকে আংশাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু মায়ের অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ার তাকে ঢাকা রেফার করেছে। নিজের উপবৃত্তির তিন হাজার টাকা ছিল। তা এখন খরচ হয়ে গেল।
বাবা মানসিক বিকারগ্রস্ত। পরিবারের আয়ের কেউ নেই । আমাকে বাঁচাতে এখন অনেক টাকা লাগবে। একদিনে ফার্মেসীতে ৭ হাজার টাকা বিল আসছে। কিন্তু আমার কাছে এখন কোন টাকা -পয়সা নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান তার নিকট অভিযোগ আসেনি বলে জানান, যারা এসকল কর্মকান্ড করেছে তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছে অভিযোগের ভিত্তিতে সে অনুযায়ী পুলিশি সহযোগিতা এবং নির্যাতিতদের চিকিৎসা সহোযোগিতা করা হবে জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন ” আমি সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করেছি। সিনিয়র এ এসপির সাথে আমার কথা হয়েছে। সে আমাকে পরবর্তীতে ম্যাসেজও করেছে বিষয়টি সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দেওয়া হবে। তার যদি মনে হয় সে কোথাও আইনীয় সহায়তা পাচ্ছে না তাহলে এ বিষয়ে আরো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।এছাড়াও বিষয়টি অবহিত হওয়ার সাথে সাথে তাৎক্ষণিক কিছুটা আর্থিক সহায়তা করেছেন বলেও জানান তিনি।