সরকারী নিয়মনীতি ও নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে সুসঙ্গ সরকারি মহাবিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগন সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
সূত্রে জানা যায়, কোভিড-১৯ এবং অভিভাবকদের আর্থিক অস্বচ্ছলতার বিষয় বিবেচনা করে দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে উল্লেখিত ফি-যতদুর সম্ভব মওকুফ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, অগ্রীম অভ্যস্তরীন পরীক্ষা ফি বাবদ ৪২০ টাকাসহ যাবতীয় খরচের বিষয় উল্লেখ করে মানবিক ও ব্যবসা শাখায় (ভর্তি ফি সেসন বাবদ ১৫শত) টাকাসহ ২৬৭০ এবং বিজ্ঞানে (ভর্তি ফি সেশন বাবদ ১৫শত) ২৯২০ টাকা প্রদান করতে হবে মর্মে ভর্তির নির্দেশনা দিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান।
শিক্ষা বোর্ডের জারিকৃত ভর্তির প্রজ্ঞাপনে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকায় ১০০০ টাকার বেশি হবে না বলে উল্লেখ থাকলেও শিক্ষা বোর্ডের নিয়মনীতির ও নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত ভর্তি ফি গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে ওই কলেজের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৬৭০/- টাকা গ্রহন করে ২৫২০/- টাকার রশিদ প্রদান করছেন বলে জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়া দেশের অন্যান্য উপজেলা পযার্য়ের সরকারি কলেজ গুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে ৩.০০ বা সর্ব নিম্ন ২.৫০ নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির বিধান থাকলেও অত্র উপজেলায় মাদরাসাসহ আরো ৫াট কলেজে শিক্ষার্থী যাতে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে না পারে সে লক্ষে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ২.০০ নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে অত্র কলেজে।
সারা উপজেলা থেকে প্রায় ১২শ শিক্ষার্থী এসএসসি পাশ করলেও ওই সরকারী কলেজেই ভর্তি করেন প্রায় ১হাজার শিক্ষার্থী।
ভুক্ত ভোগী বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, উপজেলা সদরে অবস্থিত সুসঙ্গ সরকারি মহাবিদ্যালয়ে চলতি বছর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তি ও সেসন ফি বাবদ ১ হাজার ৫’শ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।
এছাড়া পরীক্ষা ফি, অনলাইন প্রসেসিং ফি, ভর্তি ফরম, কলেজ উন্নয়ন, খেলাধুলা বাবদ আরও প্রায় ১২শ টাকা ফি আদায় করা হচ্ছে। কলেজে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসা শিক্ষা বিষয়ে প্রায় ১হাজার শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। কিন্ত বাংলা ইংরেজী ও আইসিটি বিষয়ের ক্লাশ অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় আমরা করতে পারিনা।
এ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্টাফ কাউন্সিলের সিদ্বান্ত মোতাবেক ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাছাড়া বোর্ডের প্রজ্ঞাপনের সাথে কিছুটা অসঙ্গতি থাকলেও এটা আমাদের নানা ভাবে খরচ হয় বলে জানান।
কলেজ অবকাঠামো এবং বিধি বর্হিভুত অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তেমন কোন অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে না বলে তিনি দাবী করেন। অগ্রীম অভ্যস্তরীন পরীক্ষা ফি বাবদ ৪২০ টাকা আদায় করছেন এ নিয়ে কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম বলেন, বর্তমান করোনা প্রেক্ষাপটে কলেজে ভর্তির বিষয়ে কোন প্রকার অনিয়ম সত্যিই দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















