০৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

গৃহবধূকে ফেরালেন কনস্টেবল রানু

অল্প বয়সেই বিয়ে হয় তন্নীর (৩০)। সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে স্বামী মাদকাসক্ত হওয়ায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে হচ্ছে বছরের পর বছর। জীবনের প্রতি তার এখন চরম বিরক্তি। স্বজনদের প্রতি তার অনেক অভিমান।

নানা ঝক্কি ঝামেলায় সম্প্রতি তার গর্ভের ৪ মাসের একটি সন্তানও নষ্ট হয়ে যায়। সব কিছু মিলিয়ে তিনি নিজের জীবনের ঘানি আর টানতে চাননি। ট্রেনের নিচে মাথা দিয়ে জীবনের লেনাদেনা মিটিয়ে দিতে হাজির হন ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় প্লাটফর্মে বসে ছিলেন। এ সময় রহমপুর থেকে মহানন্দা এক্সপ্রেস আসছিল। ওই ট্রেনের নিচেই মাথা দেয়ার প্রস্তুতি নেন তন্নী। প্লাটফর্মে ট্রেন ধীর গতিতে আসছিল। এ সময় তন্নী প্লাটফর্ম থেকে নিচে নেমে যান। মাথা নিচু করে ট্রেনের চাকার দিকে চলেও যান। আর বড়জোর ৫ সেকেন্ড, ট্রেনে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যেতেন তখনই। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হন ঈশ্বরদীর জিআরপি থানার কনস্টেবল আব্দুর রহমান রানু। চোখের নিমিষে তন্নীকে হেঁচকা টানে বের করে আনেন। আত্মহত্যার মতো মহাপাপ থেকে বেঁচে যান তন্নী।

আব্দুর রহমান রানুর এমন কর্মে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সহকর্মীরা আবেগাপ্লুত। তন্নীকে অসুস্থ অবস্থায় বুধবার ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

গৃহবধূকে ফেরালেন কনস্টেবল রানু

প্রকাশিত : ০৩:১৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর ২০২০

অল্প বয়সেই বিয়ে হয় তন্নীর (৩০)। সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে স্বামী মাদকাসক্ত হওয়ায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে হচ্ছে বছরের পর বছর। জীবনের প্রতি তার এখন চরম বিরক্তি। স্বজনদের প্রতি তার অনেক অভিমান।

নানা ঝক্কি ঝামেলায় সম্প্রতি তার গর্ভের ৪ মাসের একটি সন্তানও নষ্ট হয়ে যায়। সব কিছু মিলিয়ে তিনি নিজের জীবনের ঘানি আর টানতে চাননি। ট্রেনের নিচে মাথা দিয়ে জীবনের লেনাদেনা মিটিয়ে দিতে হাজির হন ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় প্লাটফর্মে বসে ছিলেন। এ সময় রহমপুর থেকে মহানন্দা এক্সপ্রেস আসছিল। ওই ট্রেনের নিচেই মাথা দেয়ার প্রস্তুতি নেন তন্নী। প্লাটফর্মে ট্রেন ধীর গতিতে আসছিল। এ সময় তন্নী প্লাটফর্ম থেকে নিচে নেমে যান। মাথা নিচু করে ট্রেনের চাকার দিকে চলেও যান। আর বড়জোর ৫ সেকেন্ড, ট্রেনে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যেতেন তখনই। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হন ঈশ্বরদীর জিআরপি থানার কনস্টেবল আব্দুর রহমান রানু। চোখের নিমিষে তন্নীকে হেঁচকা টানে বের করে আনেন। আত্মহত্যার মতো মহাপাপ থেকে বেঁচে যান তন্নী।

আব্দুর রহমান রানুর এমন কর্মে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সহকর্মীরা আবেগাপ্লুত। তন্নীকে অসুস্থ অবস্থায় বুধবার ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর