তিস্তায় জেগে উঠা ফুটন্ত বালুচর এখন কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাড়িঁয়েছে। চরের বুকে এখন ফলানো হচ্ছে বাদাম, সরিষা, লাউ, গম, ভুট্টা, ধান, মরিচ ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি। চারদিকে এখন সবজির সমারোহ। চরের ফসলের গুণগত মান ভাল হওয়ায় বাজারে চাহিদা ও দামও বেশী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তিস্তার চরের বাসিন্দাদের জীবন এক সময় অভিশপ্ত ছিল। তারা সবসময় দুর্বিষহ জীবনযাপন করতেন। এখন তারা চরের ফুটন্ত বালুতে সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিবছর খর¯্রােতা তিস্তার দুই পাড়ের মানুষ বন্যায় ফসলহানী ও নদী ভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। ধুধু বালুচরে তেমন কোনও চাষাবাদ করা যেতো না। ফলে তিস্তার দুই’পাড়ের বাসিন্দাদের দুর্বিষহ দিনাতিপাত করতেন।
অনেকে সহায় সম্বল হারিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বসবাস করতেন। সেই অভিশপ্ত তিস্তা এখন মানুষের আশীর্বাদে রূপান্তরিত হয়েছে। চরের বালু চাষাবাদে এখন সোনায় পরিনত হয়েছে।
তিস্তার চরে চাষাবাদ করা কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ খর¯্রােতা তিস্তার কারণে অনেকে এলাকা ছেড়েছেন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যা আর নদী ভাঙন ও শুষ্ক মৌসমে ধুধু বালু চরের কারণে অনেকে নিঃস্ব হয়েছে। লোকজন তিস্তার হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেক দূরে গিয়ে বসতি ও স্থাপনা গড়েছেন। এখন তিস্তা মরা খালে পরিণত হওয়ায় প্রচুর চর ভেসে উঠেছে। চরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করছে তিস্তার পাড়ের মানুষজন।
তিস্তার উত্তপ্ত বালুতে চাষ করা আলু ক্ষেত পরিচর্যাকারী লোকমান হোসেন জানান, তিস্তার চরে এখন সোনা ফলছে। এই চরে সব ধরনের ফসলের চাষাবাদ করা হচ্ছে। তবে ফসল উৎপাদনে প্রচুর পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
রংপুর জেলার তিন উপজেলা গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার উপর দিয়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এ তিন উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। নদীর দুই তীর প্লাবিত হয়ে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। শত শত একর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়। একই সাথে তীব্র নদী ভাঙনের ফলে অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, মরা তিস্তা শুস্ক মৌসুমে কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তিস্তার চরে এখন সব ধরনের ফসল চাষাবাদ হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রণোদনাসহ পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন।
রংপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, চরের জমিতে প্রতিবছর সরিষা, ভুট্টা, বাদাম, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, কুমড়া, ধান ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হচ্ছে। পলিমাটি থাকায় ফলনও ভালো পাচ্ছেন কৃষকেরা। তবে নদী শাসনের মাধ্যমে চরের এসব ফসলি জমিতে পরিকল্পিত চাষাবাদ করা গেলে রংপুরের কৃষি অর্থনীতি আরও বেশি সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















