এবার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভিন্নরকম পন্থা বেছে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্নপত্র নিয়ে ফেসবুকে দেয়া কোনো পোস্টের জড়িতকে ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার প্রস্তাব করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।
রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মনিটরিং এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির জরুরি সভার শুরুতে এ প্রস্তাব করেন সচিব। চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা বিষয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার শুরুতে কিছু প্রস্তাব করে সোহরাব হোসাইন বলেন, “প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে শিক্ষামন্ত্রী এবং আমি বলেছি পরীক্ষা বাতিল হবে। এ বিষয়টি নিয়ে বিশাল চাপ।”
সচিব বলেন, “কোনো শিক্ষক বা কারও কাছে কেন্দ্রে মোবাইল ফোন পেলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা পর কেন্দ্রে ঢুকতে আর কোনো শিথিলতা গ্রহণ করা হবে না।”
প্রশ্নফাঁসের পোস্ট দিলে জড়িতদের ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সচিব বলেন, “ফেসবুকে যদি কেউ পোস্ট দেয়, সেটি আসল বা ভুয়া হোক, তাকে প্রমাণসহ ধরিয়ে দিতে পারলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা দেওয়া যায় কি-না? এতে যিনি দেবেন, তিনিও ভয় পাবেন।”
কোনো পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হলে সেটির পর্যালোচনায় কমিটি গঠন করে পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি আলোচনায় আনেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব।
এছাড়া আগামীতে এমসিকিউ প্রশ্ন পুরোপুরি বন্ধ করা, প্রয়োজনে ৫০ সেট প্রশ্ন তৈরি করে পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষাবিদদের নিয়ে সেমিনার করে প্রশ্ন ফাঁসরোধে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা দেন সোহরাব হোসাইন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে সভায় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান ও এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের) মহাপরিচালকসহ সভায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ, পুলিশ, র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদেরও ডাকা হয়।

























