০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

তাছেরের দরবারে যুবক খুন-গ্রেফতার ৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কল্যানপুরে তাছেরের দরবার নামে পরিচিত এক দরবারের নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার শারীরিক নির্যাতনে যুবক নিহতের ঘটনায় দৌলতপুর থানায় হওয়া হত্যা মামলায় ৬ জন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৬জুন নিহত রাশেদের পিতা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও এ মামলায় অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি হিসাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। আটককৃতরা হলেন, সাইদুর রহমান মিলন, শামসুদ্দিন, আব্দুস সাদী শিমুল, সুমন হোসেন, ইমরান আলী,শফিউল রহমান লিমন। সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকা কড়া নিরাপত্তার দরবার প্রাঙ্গনে গত কয়েকদিনের ফুটেজ আকস্মিক ভাবে উধাও হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুত্র ও প্রত্যাক্ষদর্শীদের বর্ননায় জানা গেছে, রোববার সকালে দরবারে রিসালাত মুজাদ্দেদিয়া দরবারে চরদিয়াড় (অনুসারীদের ভাষায়) -এর কড়া নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় শারীরিক ভাবে নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হোন দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাশেদ। আনুমানিক ৩২ বছর বয়সী রাশেদ ওই দরবারের নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন। দরবারের নির্ধারিত নান্দনিক ভাব সম্পন্ন এলাকায় এখন নিয়মিত বসবাস করেন ১২ থেকে ১৫ জন স্বেচ্ছা সেবক। করোনা কালের কারনে এখানে এখন তুলনামূলক কম মানুষের যাতায়াত। দরবারের মূল ফটকে ঢুকতে জাকের ভাই ( অনুসারিদের সম্বোধন) ছাড়া যে কাউকেই নিরাপত্তা বলয়ের কঠিন পরীক্ষা পার হতে হয় নিয়মিত। এমন পরিবেশের পিছনে নদীর কোলে গড়া আছে তিন-চারটি টিনের ঘর, নীচে বসতে হয় মাটিতে মাদুর পেতে। যেখানে রাতের আয়েশ চলে, চা-সিগারেট আর অন্যান্যে। দরবারে অবস্থানকারীদের বক্তব্যে জানাগেলো এখানেই নির্যাতন করা হয়েছে নিহত রাশেদ কে। তবে আঘাত করতে দেখার কথা সকলেই গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করলেও ওইসময় উপস্থিতদের বক্তব্য অনুসারে, তারা দেখেছেন রক্তাক্ত মুমূর্ষু রাশেদ কে। মোটরসাইকেলে করে যাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে সতীর্থরা, কিন্তু পরে তার মৃত্যু হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে গুরুতর আহতাবস্থায় রাশেদের আশপাশে ও দরবারে থাকা জাকের ভাই ও খাদেমদের নাম। গণমাধ্যমের কাছে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ খোদ রাশেদের পরিবারের। কিন্তু, নিহত ওই যুবককে রক্তাক্ত দেখার কথা না জানালেও, অসুস্থ অবস্থায় দৌলতপুরের পার্শ্ববর্তী উপজেলার হাসপাতালে নিতে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দরবারের হুজুর তাছের। ঘটনা আরেকটু সন্দেহ জাগায় তখন, যখন জানা যায় ১৫টিরও বেশি সিসি টিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকার গত কয়েকদিনের ফুটেজ নাকি মুছে গেছে স্বয়ংক্রিয় ভাবে। রহস্যজনক এ ঘটনা এখন নানান প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে এমন দাবি দরবারের হুজুর তাছেরের নিজেরই। তিনি বলেন, খোদ আমার ভিতরের লোকদেরও সন্দেহের বাইরে রাখছি না।

দরবার সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্র জানায় সম্প্রতি একটি মোবাইল ফোন চুরি আর পারিপার্শ্বিক গন্ডগোলের ঘটনাও রয়েছে দরবারে। প্রচলিত আছে নানা অপরাধে শাস্তির কথা। দুপুরের আগেই ঘটনা শেষের পর দরবারের পক্ষ থেকে পুলিশ কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া হয়েছে বলেও নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে। দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ সময় নিয়ে আলামত নষ্ট করা হয়েছে। অভিমত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দেরও।

ঘটনা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত জানান, তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রয়োজনীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই ঘটনা উন্মোচিত হবে। দোষীদের বিচারের আওতায় নেয়া হবে। ঘটনাস্থল মনিটরিংয়ে রাখা হয়েছে। রাশেদের শরীরে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার দাগ দেখেছেন বলে জানান দরবারের খাদেম হাবিল। একই বক্তব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের। সংগ্রহে আসা আরও তথ্য বলছে, রাশেদকে রোববার সকাল থেকে বেলা ১০টা পর পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়েছে নানা কায়দায়।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মাটিরাঙ্গায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ

তাছেরের দরবারে যুবক খুন-গ্রেফতার ৬

প্রকাশিত : ০৩:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুন ২০২১

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কল্যানপুরে তাছেরের দরবার নামে পরিচিত এক দরবারের নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার শারীরিক নির্যাতনে যুবক নিহতের ঘটনায় দৌলতপুর থানায় হওয়া হত্যা মামলায় ৬ জন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৬জুন নিহত রাশেদের পিতা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও এ মামলায় অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি হিসাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। আটককৃতরা হলেন, সাইদুর রহমান মিলন, শামসুদ্দিন, আব্দুস সাদী শিমুল, সুমন হোসেন, ইমরান আলী,শফিউল রহমান লিমন। সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকা কড়া নিরাপত্তার দরবার প্রাঙ্গনে গত কয়েকদিনের ফুটেজ আকস্মিক ভাবে উধাও হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুত্র ও প্রত্যাক্ষদর্শীদের বর্ননায় জানা গেছে, রোববার সকালে দরবারে রিসালাত মুজাদ্দেদিয়া দরবারে চরদিয়াড় (অনুসারীদের ভাষায়) -এর কড়া নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় শারীরিক ভাবে নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হোন দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাশেদ। আনুমানিক ৩২ বছর বয়সী রাশেদ ওই দরবারের নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন। দরবারের নির্ধারিত নান্দনিক ভাব সম্পন্ন এলাকায় এখন নিয়মিত বসবাস করেন ১২ থেকে ১৫ জন স্বেচ্ছা সেবক। করোনা কালের কারনে এখানে এখন তুলনামূলক কম মানুষের যাতায়াত। দরবারের মূল ফটকে ঢুকতে জাকের ভাই ( অনুসারিদের সম্বোধন) ছাড়া যে কাউকেই নিরাপত্তা বলয়ের কঠিন পরীক্ষা পার হতে হয় নিয়মিত। এমন পরিবেশের পিছনে নদীর কোলে গড়া আছে তিন-চারটি টিনের ঘর, নীচে বসতে হয় মাটিতে মাদুর পেতে। যেখানে রাতের আয়েশ চলে, চা-সিগারেট আর অন্যান্যে। দরবারে অবস্থানকারীদের বক্তব্যে জানাগেলো এখানেই নির্যাতন করা হয়েছে নিহত রাশেদ কে। তবে আঘাত করতে দেখার কথা সকলেই গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করলেও ওইসময় উপস্থিতদের বক্তব্য অনুসারে, তারা দেখেছেন রক্তাক্ত মুমূর্ষু রাশেদ কে। মোটরসাইকেলে করে যাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে সতীর্থরা, কিন্তু পরে তার মৃত্যু হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে গুরুতর আহতাবস্থায় রাশেদের আশপাশে ও দরবারে থাকা জাকের ভাই ও খাদেমদের নাম। গণমাধ্যমের কাছে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ খোদ রাশেদের পরিবারের। কিন্তু, নিহত ওই যুবককে রক্তাক্ত দেখার কথা না জানালেও, অসুস্থ অবস্থায় দৌলতপুরের পার্শ্ববর্তী উপজেলার হাসপাতালে নিতে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দরবারের হুজুর তাছের। ঘটনা আরেকটু সন্দেহ জাগায় তখন, যখন জানা যায় ১৫টিরও বেশি সিসি টিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকার গত কয়েকদিনের ফুটেজ নাকি মুছে গেছে স্বয়ংক্রিয় ভাবে। রহস্যজনক এ ঘটনা এখন নানান প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে এমন দাবি দরবারের হুজুর তাছেরের নিজেরই। তিনি বলেন, খোদ আমার ভিতরের লোকদেরও সন্দেহের বাইরে রাখছি না।

দরবার সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্র জানায় সম্প্রতি একটি মোবাইল ফোন চুরি আর পারিপার্শ্বিক গন্ডগোলের ঘটনাও রয়েছে দরবারে। প্রচলিত আছে নানা অপরাধে শাস্তির কথা। দুপুরের আগেই ঘটনা শেষের পর দরবারের পক্ষ থেকে পুলিশ কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া হয়েছে বলেও নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে। দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ সময় নিয়ে আলামত নষ্ট করা হয়েছে। অভিমত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দেরও।

ঘটনা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত জানান, তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রয়োজনীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই ঘটনা উন্মোচিত হবে। দোষীদের বিচারের আওতায় নেয়া হবে। ঘটনাস্থল মনিটরিংয়ে রাখা হয়েছে। রাশেদের শরীরে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার দাগ দেখেছেন বলে জানান দরবারের খাদেম হাবিল। একই বক্তব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের। সংগ্রহে আসা আরও তথ্য বলছে, রাশেদকে রোববার সকাল থেকে বেলা ১০টা পর পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়েছে নানা কায়দায়।