০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে (কউক)

কক্সবাজার শহর ও কলাতলি হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক, সমুদ্রের আশেপাশের অধিকাংশ এলাকায় একেরপর এক অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে । যার অধিকাংশই কোন অনুমোদন বা দাপ্তরিক ক্লিয়ারেন্স নেই। তাছাড়া এসব ভবনগুলো কেউ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, আবার কেউ অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা দিয়ে কাজ চলমান রেখেছে। গোপনে এসব ভবনে গিয়ে অনুমোদনের তথ্য চাইলে নানা ফিরিস্তি দেখিয়ে ভবণ মালিকরা আড়ালে চলে যায়। এমনকি কেউ কেউ রাজনৈতিক বড় বড় নেতাদের নাম বিক্রি করছেন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ।

এদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এ্যারিয়া (এসিএ) এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নোটিশ দিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। এসব ভবন মালিকরা নোটিশ পেয়েও অনেকেই কাজ চলমান রেখেছে। ডলফিন মোড় হয়ে মেরিন ড্রাইভ ঢুকলেই শতশত অবৈধ ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। যদিওবা কউকের এসব নোটিশকে তারা তোয়াক্কায় করছেনা।

আমরা কক্সবাজারবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ হওয়ার পর থেকেই যে হারে ভবন নির্মাণ হয়েছে, অধিকাংশই অনুমোদন নেই। ইসিএ এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও কোন এক অদৃশ্য শক্তি দিয়ে তারা এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব বন্ধ না হলে পরিবেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এবং পর্যটন নগরীতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার শহরের আশেপাশের এলাকাগুলোর চিত্র দেখলে এক ভয়াবহ অবস্থা, যেখানে বড় বড় পাহাড় ছিল,সেগুলো কেটে এখন অট্টালিকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে একেরপর এক, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন পদক্ষেপ দেখা যায়না, কউক, পরিবেশ মিলেমিশে গোপনে আর্থিক লেনদেনের গন্ধ পাওয়া যায় এসব কাজে। সংশ্লিষ্টরা এইভাবে দায়সারা হলে আগামীতে দপ্তরগুলোর প্রতি আস্থা হারাবে জনগণ। সুতরাং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতামূলক কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইসি এলাকা হওয়ায় সেখানে স্থাপনা নির্মাণে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেকেই অনুমতি ছাড়া ভবন নির্মাণ করছেন। এসব স্থাপনার অধিকাংশেরই কউকের অনুমোদন নেই, এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের আগে পৌরসভার একটি অনুমোদন নিয়েই অনেকেই এসব ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে তারা জানেন না, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পর সেই অনুমোদন আর কার্যকর থাকে না।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে। অনেকেই নোটিশের জবাব দিচ্ছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কক্সবাজারে দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে (কউক)

প্রকাশিত : ০১:৪১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজার শহর ও কলাতলি হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক, সমুদ্রের আশেপাশের অধিকাংশ এলাকায় একেরপর এক অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে । যার অধিকাংশই কোন অনুমোদন বা দাপ্তরিক ক্লিয়ারেন্স নেই। তাছাড়া এসব ভবনগুলো কেউ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, আবার কেউ অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা দিয়ে কাজ চলমান রেখেছে। গোপনে এসব ভবনে গিয়ে অনুমোদনের তথ্য চাইলে নানা ফিরিস্তি দেখিয়ে ভবণ মালিকরা আড়ালে চলে যায়। এমনকি কেউ কেউ রাজনৈতিক বড় বড় নেতাদের নাম বিক্রি করছেন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ।

এদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এ্যারিয়া (এসিএ) এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নোটিশ দিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। এসব ভবন মালিকরা নোটিশ পেয়েও অনেকেই কাজ চলমান রেখেছে। ডলফিন মোড় হয়ে মেরিন ড্রাইভ ঢুকলেই শতশত অবৈধ ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। যদিওবা কউকের এসব নোটিশকে তারা তোয়াক্কায় করছেনা।

আমরা কক্সবাজারবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ হওয়ার পর থেকেই যে হারে ভবন নির্মাণ হয়েছে, অধিকাংশই অনুমোদন নেই। ইসিএ এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও কোন এক অদৃশ্য শক্তি দিয়ে তারা এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব বন্ধ না হলে পরিবেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এবং পর্যটন নগরীতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার শহরের আশেপাশের এলাকাগুলোর চিত্র দেখলে এক ভয়াবহ অবস্থা, যেখানে বড় বড় পাহাড় ছিল,সেগুলো কেটে এখন অট্টালিকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে একেরপর এক, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন পদক্ষেপ দেখা যায়না, কউক, পরিবেশ মিলেমিশে গোপনে আর্থিক লেনদেনের গন্ধ পাওয়া যায় এসব কাজে। সংশ্লিষ্টরা এইভাবে দায়সারা হলে আগামীতে দপ্তরগুলোর প্রতি আস্থা হারাবে জনগণ। সুতরাং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতামূলক কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইসি এলাকা হওয়ায় সেখানে স্থাপনা নির্মাণে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেকেই অনুমতি ছাড়া ভবন নির্মাণ করছেন। এসব স্থাপনার অধিকাংশেরই কউকের অনুমোদন নেই, এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের আগে পৌরসভার একটি অনুমোদন নিয়েই অনেকেই এসব ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে তারা জানেন না, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পর সেই অনুমোদন আর কার্যকর থাকে না।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে। অনেকেই নোটিশের জবাব দিচ্ছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএস./