০২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

এএসপি স্পীনা রানীর জন্য কাঁদছেন সাধারণ মানুষ

লক্ষ্মীপুরের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) (রায়পুর ও রামগঞ্জ সার্কেল) স্পীনা রানী প্রামানিকের ভালোবাসা ও চোখের জলে বিদায় জানালেন সহকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার সন্ধায় লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়, রায়পুর থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ও শুক্রবার সকালে এএসপি নীজের কার্যালয়, রামগঞ্জ থানায় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এএসপি স্পীনা রানীর জন্য কাঁদতে দেখা যায় সহকর্মীদের। এ সময় সাধারণ মানুষও আবেগাপ্লুত হন। পাশাপাশি থানার সামনে অসহায় এক নারীকে কাঁদতে দেখা যায়। সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নেন স্পীনা রানী। সম্প্রতি এএসপি স্পীনা রানীকে লক্ষ্মীপুর থেকে বদলি করে কুমিল্লা ও হোমনা থানার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার হিসেবে বিদায় দেয়া হয়।। বৃহস্পতিবার রাতে (২৪ জুন) লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়, রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল ও রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরীর কার্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসময় বিদায়ে জড়ো হন সহকর্মিরা। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) রাতে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন এএসপি স্পীনা রানী প্রামানিক। পরে তার স্ট্যাটাসটি অনেকেই শেয়ার করে অভিনন্দন এবং শুভকামনা জানান। থানা ও নীজের কার্যালয়ে এএসপি স্পীনা রানীর জন্য কাঁদতে দেখা যায় সহকর্মীদের ‘প্রিয় রায়পুর ও রামগঞ্জ, ৭৮৬ দিনের গল্প ফুরোলো আজ। “শেষ বিউগলে ফিরে যাচ্ছি “শিরোনামে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসপি স্পীনা রানী লিখেছেন, ‘বৃহস্পতিবার ৭’ ৪৫ মিনিটে। ২০১৯ সালে আমার ব্যস্তবাগীশ ঢাকার নাগরিক সভ্যতা ছেড়ে যেদিন প্রথম এসেছিলাম তোমার কাছে, সেদিন অট্টালিকা আর রশনাই-বিহীন তোমাকে মনে হয়েছিলো ভীষণ ম্লান আর নিস্তরঙ্গ। নীরবতা আর অন্ধকারের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি সুপুরি-বাগান আর এর ফাঁক গলিয়ে আসা আলো দেখে মনে হতো যেন একেকটি বারকোড, যাকে ডিকোড করা প্রায় অসম্ভব। আজ বিদায় বেলায় সেই বারকোডকে ডিসাইফার করে জানলাম, প্রথম বেলায় তোমায় নিছক বুনোফুল ভেবে সত্যিই বড় ভুল করেছিলাম। বড় শহরের চোখ ধাঁধানো জৌলুস না থাকলেও রূপে-গুণে-ভালোবাসায়-মুগ্ধতায় তুমি অনন্য। রায়পুর ও রামগঞ্জবাসী, শুক্রবার (২৫ জুন) আমার শেষ কর্মদিবস। দুই বছরের অধিক সময় এই সার্কেলে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন ও মামলা তদারকির পাশাপাশি সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষের সমস্যার কথা শুনে তার যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করেছি। সবসময়ই যে সফল হয়েছি, সেটি দাবি করার মতো দুঃসাহস দেখাবো না। তবে চেষ্টা ও আন্তরিকতার কোন কমতি ছিলো না- এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলছি। আমার কোন আচরণ বা সিদ্ধান্তে কেউ আহত হলে আমি অবনত মস্তকে ক্ষমা চাইছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা

এএসপি স্পীনা রানীর জন্য কাঁদছেন সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত : ০৯:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১

লক্ষ্মীপুরের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) (রায়পুর ও রামগঞ্জ সার্কেল) স্পীনা রানী প্রামানিকের ভালোবাসা ও চোখের জলে বিদায় জানালেন সহকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার সন্ধায় লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়, রায়পুর থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ও শুক্রবার সকালে এএসপি নীজের কার্যালয়, রামগঞ্জ থানায় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এএসপি স্পীনা রানীর জন্য কাঁদতে দেখা যায় সহকর্মীদের। এ সময় সাধারণ মানুষও আবেগাপ্লুত হন। পাশাপাশি থানার সামনে অসহায় এক নারীকে কাঁদতে দেখা যায়। সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নেন স্পীনা রানী। সম্প্রতি এএসপি স্পীনা রানীকে লক্ষ্মীপুর থেকে বদলি করে কুমিল্লা ও হোমনা থানার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার হিসেবে বিদায় দেয়া হয়।। বৃহস্পতিবার রাতে (২৪ জুন) লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়, রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল ও রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরীর কার্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসময় বিদায়ে জড়ো হন সহকর্মিরা। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) রাতে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন এএসপি স্পীনা রানী প্রামানিক। পরে তার স্ট্যাটাসটি অনেকেই শেয়ার করে অভিনন্দন এবং শুভকামনা জানান। থানা ও নীজের কার্যালয়ে এএসপি স্পীনা রানীর জন্য কাঁদতে দেখা যায় সহকর্মীদের ‘প্রিয় রায়পুর ও রামগঞ্জ, ৭৮৬ দিনের গল্প ফুরোলো আজ। “শেষ বিউগলে ফিরে যাচ্ছি “শিরোনামে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসপি স্পীনা রানী লিখেছেন, ‘বৃহস্পতিবার ৭’ ৪৫ মিনিটে। ২০১৯ সালে আমার ব্যস্তবাগীশ ঢাকার নাগরিক সভ্যতা ছেড়ে যেদিন প্রথম এসেছিলাম তোমার কাছে, সেদিন অট্টালিকা আর রশনাই-বিহীন তোমাকে মনে হয়েছিলো ভীষণ ম্লান আর নিস্তরঙ্গ। নীরবতা আর অন্ধকারের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি সুপুরি-বাগান আর এর ফাঁক গলিয়ে আসা আলো দেখে মনে হতো যেন একেকটি বারকোড, যাকে ডিকোড করা প্রায় অসম্ভব। আজ বিদায় বেলায় সেই বারকোডকে ডিসাইফার করে জানলাম, প্রথম বেলায় তোমায় নিছক বুনোফুল ভেবে সত্যিই বড় ভুল করেছিলাম। বড় শহরের চোখ ধাঁধানো জৌলুস না থাকলেও রূপে-গুণে-ভালোবাসায়-মুগ্ধতায় তুমি অনন্য। রায়পুর ও রামগঞ্জবাসী, শুক্রবার (২৫ জুন) আমার শেষ কর্মদিবস। দুই বছরের অধিক সময় এই সার্কেলে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন ও মামলা তদারকির পাশাপাশি সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষের সমস্যার কথা শুনে তার যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করেছি। সবসময়ই যে সফল হয়েছি, সেটি দাবি করার মতো দুঃসাহস দেখাবো না। তবে চেষ্টা ও আন্তরিকতার কোন কমতি ছিলো না- এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলছি। আমার কোন আচরণ বা সিদ্ধান্তে কেউ আহত হলে আমি অবনত মস্তকে ক্ষমা চাইছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর