১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

মিয়ানমারের ইয়াবা ঢুকছে ২০ পয়েন্ট দিয়ে

কক্সবাজার ও বান্দরবানের ২৭২ কিলোমিটার সীমান্তের অন্তত ২০টি পয়েন্ট দিয়ে `বানের জলের’ মতো দেশে ঢুকছে ইয়াবা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমান্ত এলাকার ৩৭টি কারখানায় তৈরি ইয়াবা ‘পূঁজি ছাড়াই’ অনুপ্রবেশ করানো হচ্ছে বাংলাদেশে। এটি পাচারে রাতারাতি বড়লোক হবার ‘টোপে’ ব্যবহার হচ্ছে নিরীহ সব মানুষ। কৌশলে বাড়ানো হচ্ছে সেবনকারীও। চলতি বছরে প্রায় এক কোটি ইয়াবা জব্দ ও পাঁচ শতাধিক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছেন সীমান্ত রক্ষী ও বিভিন্ন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

প্রজন্ম ধ্বংসের লক্ষ্যে বৈশ্বিক চালে ‘আধুনিক নেশা’ ইয়াবা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে মনে করছেন বোদ্ধা মহল। শুধু জব্দ ও আটকে নয়, ইয়াবার আগ্রাসন কমাতে হলে উচ্চ মহল থেকে তৃণমূল সবখানেই আত্ম ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন তারা।

ইয়াবার আগ্রাসন কমাতে, কঠোর অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েকশ মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। যদিও কিছু ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও নিহতের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এতসব কিছুর পরও কোনো অংশেই কমেনি ইয়াবা অনুপ্রবেশ ও দেশময় সরবরাহ।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনহা হত্যাকেও মাদক উদ্ধার ঘটনার সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চেষ্টা চালানোর ফন্দি প্রকাশ পাবার পর বলতে গেলে ইয়াবা প্রতিরোধে কমে গেছে কঠোরতা। ফলে করোনাকালেও রমরমা ইয়াবা অনুপ্রবেশ ও বিপণন। এতে, বাড়ছে মাদকসেবীদের সংখ্যা। যার সিংহভাগই যুবক।

এক পরিসংখ্যানে বলছে, চলমান সময়ে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৮০ লাখের উপরে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশই ইয়াবাসেবী। অন্য যেকোনো মাদকের চেয়ে সহজলভ্যতা, সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। ইদানিং অনলাইনে ইয়াবা বেচা-কেনা ও হোম ডেলিভারিও মিলছে। তাই আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ইয়াবাসেবীদের সংখ্যা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি বছরে জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একদিনে ১৭ লাখসহ এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার ও দুই শতাধিক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব-১৫) চলতি বছরে প্রায় ২২ লাখ ইয়াবাসহ ২৬৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। একইভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি জব্দ করেছে ২০ লাখ ইয়াবা।

এ ছাড়া কোস্টগার্ড ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এপিবিএন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে অন্তত ২০ লাখ ইয়াবা। সব মিলিয়ে বছরের এ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ইয়াবা জব্দ হয়েছে। যা রেকর্ড।

দেখা গেছে, কখনো পেটের ভেতর, সংবাদপত্র স্টিকারে গাড়িতে, কখনো ল্যাপটপ ও মোবাইল বক্সে, দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি বা গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর ঢুকিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হচ্ছে ইয়াবা। নারীরাও বিশেষ পদ্ধতিতে এসব পাচারে জড়িত। কিছু চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করলেও বেশিরভাগই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এভাবে কোটিপতি বনে যাচ্ছেন কারবারি ও সহযোগীরা।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

মিয়ানমারের ইয়াবা ঢুকছে ২০ পয়েন্ট দিয়ে

প্রকাশিত : ০৩:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুন ২০২১

কক্সবাজার ও বান্দরবানের ২৭২ কিলোমিটার সীমান্তের অন্তত ২০টি পয়েন্ট দিয়ে `বানের জলের’ মতো দেশে ঢুকছে ইয়াবা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমান্ত এলাকার ৩৭টি কারখানায় তৈরি ইয়াবা ‘পূঁজি ছাড়াই’ অনুপ্রবেশ করানো হচ্ছে বাংলাদেশে। এটি পাচারে রাতারাতি বড়লোক হবার ‘টোপে’ ব্যবহার হচ্ছে নিরীহ সব মানুষ। কৌশলে বাড়ানো হচ্ছে সেবনকারীও। চলতি বছরে প্রায় এক কোটি ইয়াবা জব্দ ও পাঁচ শতাধিক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছেন সীমান্ত রক্ষী ও বিভিন্ন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

প্রজন্ম ধ্বংসের লক্ষ্যে বৈশ্বিক চালে ‘আধুনিক নেশা’ ইয়াবা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে মনে করছেন বোদ্ধা মহল। শুধু জব্দ ও আটকে নয়, ইয়াবার আগ্রাসন কমাতে হলে উচ্চ মহল থেকে তৃণমূল সবখানেই আত্ম ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন তারা।

ইয়াবার আগ্রাসন কমাতে, কঠোর অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েকশ মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। যদিও কিছু ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও নিহতের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এতসব কিছুর পরও কোনো অংশেই কমেনি ইয়াবা অনুপ্রবেশ ও দেশময় সরবরাহ।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনহা হত্যাকেও মাদক উদ্ধার ঘটনার সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চেষ্টা চালানোর ফন্দি প্রকাশ পাবার পর বলতে গেলে ইয়াবা প্রতিরোধে কমে গেছে কঠোরতা। ফলে করোনাকালেও রমরমা ইয়াবা অনুপ্রবেশ ও বিপণন। এতে, বাড়ছে মাদকসেবীদের সংখ্যা। যার সিংহভাগই যুবক।

এক পরিসংখ্যানে বলছে, চলমান সময়ে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৮০ লাখের উপরে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশই ইয়াবাসেবী। অন্য যেকোনো মাদকের চেয়ে সহজলভ্যতা, সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। ইদানিং অনলাইনে ইয়াবা বেচা-কেনা ও হোম ডেলিভারিও মিলছে। তাই আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ইয়াবাসেবীদের সংখ্যা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি বছরে জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একদিনে ১৭ লাখসহ এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার ও দুই শতাধিক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব-১৫) চলতি বছরে প্রায় ২২ লাখ ইয়াবাসহ ২৬৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। একইভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি জব্দ করেছে ২০ লাখ ইয়াবা।

এ ছাড়া কোস্টগার্ড ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এপিবিএন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে অন্তত ২০ লাখ ইয়াবা। সব মিলিয়ে বছরের এ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ইয়াবা জব্দ হয়েছে। যা রেকর্ড।

দেখা গেছে, কখনো পেটের ভেতর, সংবাদপত্র স্টিকারে গাড়িতে, কখনো ল্যাপটপ ও মোবাইল বক্সে, দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি বা গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর ঢুকিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হচ্ছে ইয়াবা। নারীরাও বিশেষ পদ্ধতিতে এসব পাচারে জড়িত। কিছু চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করলেও বেশিরভাগই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এভাবে কোটিপতি বনে যাচ্ছেন কারবারি ও সহযোগীরা।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর