এক হৃষ্টপুষ্ট ফুট ফুটে ছেলের জন্ম দিয়ে ৭ দিনের মাথায় মারা যায় মা। এতিম সেই ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে অন্য মায়ের দুধ সংগ্রহ করে খাওয়ানো হয় তাকে। ছোট থেকে তার চাল চলন ছিল অন্যসবের চাইতে আলাদা। তার ভাব ভঙ্গি, খাওয়া দাওয়ার ঢংয়ে জমিদারি ভাব লক্ষ্য হওয়ায় আদর করে তার নাম রাখা হয় জমিদার। সেই দিনের সেই শিশু জমিদার আজ প্রাপ্ত বয়স্ক সুদর্শন যুবক। বিশাল স্বাস্থের অধিকারী। ওজন তার ১২০০ কেজি। প্রতিদিন সে ১৫০০ টাকার খাবার খায়। দিনে চার বেলা গোসল করে সাবান শ্যাম্পু দিয়ে। থাকার ঘরে ঘুরে ৪টি ছিলিং ফ্যান। আধুনিক ও রুচি সম্মত জীবন যাপন তার। তাই তো প্রতিদিনি বিভিন্ন এলাকার মানুষ তাকে এক পলক দেখতে আসছেন।
হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাড় গরুটি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক সরদারের খামারে অতি যত্নে ও পরিচর্যায় তৈরী হয়েছে।
খামারী আব্দুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে রাসেল সরদার জানান, আজ থেকে প্রায় ৩ বছর আগে একটি স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করে একটি আধুনিক গরুর খামার তৈরী করেছিলেন তারা। পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা, দক্ষকর্মীর অভাব, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অসযোগীতা ও নানা কারণে কয়েক মাসের মাথায় তারা ক্ষতির মুখে পড়েন। শেষে যে দুইটি গাভী রয়ে যায় তাদের একটি বাচ্চা জমিদার। তার জন্মের পর তার মাসহ অন্য গাভীটিও মারা যায়। শূণ্য খামারে রয়ে যায় শুধু জমিদার। খামারের শেষ সম্বল মা হারা জমিদারকে বাঁচিয়ে রাখতে মন প্রাণ উজাড় করে ঢেলে দেন খামারী। মায়ের প্রতিকৃতি সামনে রেখে, অন্যগরুর দুধ সংগ্রহ করে পরম যতœ ও মায়ায় তাকে লালন পালন করতে থাকেন। সন্তানের ন্যায় বড় হতে থাকে জমিদার। সেই দিনের ছোট্ট জমিদার আজ পরিপূর্ণ যুবক। এখন তার বয়স আড়াই বছর। ওজন হয়েছে ১২০০ কেজি। উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট। দেখতেও সুদর্শন। এই অঞ্চলে তার সমকক্ষ কেউ নেই। সে-ই স্বর্ব সে-ই সেরা। অতিসম্প্রতি, দেশব্যাপী যে প্রাণিসম্পদ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সেই মেলায় অংশগ্রহণ করে জমিদার ইসলামপুরে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এর পরেই জমিদারের নাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বর্তমানে প্রতিদিনিই তাকে এক পলক দেখতে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
ওই ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়র রহমান মাষ্টার বলেন, এতো বড় আর এত দামি গরু আমার জীবনে আমি দেখেনি। আমার বিশ্বাস শুধু ইসলামপুর উপজেলায় নয়, সারা জামালপুরের এরকম গরু আর দ্বিতীয়টি নেই। একটি প্রাণিকে নিয়ে যদি গর্ব করা যায় তাহলে আমরা জমিদারকে নিয়ে গর্বীত।
ইসলামপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কমকর্তা, মোঃ সানোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণি সম্পদ মেলায় এই উপজেলার যতগুলো বড় বড় গরু অংশগ্রহণ করেছিল তাদের মধ্যে সবার সেরা হয়েছে গাইবান্ধা জমিদার।
এ ব্যাপারে খামারী আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, আজকের জমিদারকে জমিদারে পরিণত করতে আমাদের অনেক শ্রম ঘাম ও অর্থলগ্নি হয়েছে। সে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতি বড় হয়েছে। তার দেহে কোনো বিষ নেই। তার পিছনে এ পর্যন্ত আমাদের ব্যয় প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে এলাকায় তার দাম উঠেছে ১০ লাখ টাকার মতো। আশা করছি ঈদের হাটে এর মূল্য আরও বাড়বে। এবারের কোরবানীর হাটে জমিদারের মূল্য ১৬/১৭ লাখ টাকায় পৌছবে বলে আমাদের আশা ও বিশ^াস।










