০১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

বাদামের ফলনে হাসছে পদ্মার চরাঞ্চলের চাষিরা

বালুকাময় পদ্মার চর, এখন পরিণত হচ্ছে শস্যভূমিতে। পদ্মার বিস্তৃত চরজুড়ে ফসলের সমারোহ। চাষাবাদ হচ্ছে বিভিন্ন রকমের দানাজাতীয় শস্য। চরাঞ্চলে বালুময় পরিত্যক্ত জমিতে বাদাম চাষ করে ভাল ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিনের পদ্মার চরে এবার বাদামের চাষ হয়েছে, ২৫০ হেক্টরের চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে। কৃষকরা ক্ষেত থেকে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন বাদাম। পদ্মার এই চরের, প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় চলছে চিনা বাদাম শুকানোর ধুম। উপযোগী আবহাওয়ায়, অন্য বছরের তুলনায় এবছর দ্বিগুন ফলনে খুশি বাদাম চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কালিদাসখালি, লক্ষীনগর, পলাশী ফতেপুর, দিয়ার কাদিরপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়াচরসহ চরাঞ্চলের আরো কয়েকটি গ্রামের জমিতে ব্যাপকভাবে চিনা বাদামের চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এই এলাকায় চিনা জাতের বাদামের আবাদই বেশি করা হয়েছে। এখন পুরোদমে জমি থেকে বাদাম তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তাতে প্রতি বিঘায় বাদাম পাওয়া যাচ্ছে, ৫ থেকে ৬ মণের বেশি। বিঘা প্রতি বীজ লাগে ১০ থেকে ১৫ কেজি । খরিফ-১ মৌসুমে বীজ বপনের পর ৪/৫ বার সেচ দিয়েই জমি থেকে তোলা হয় চিনা বাদাম।

চাষিরা জানান, চিনা বাদাম চাষে খরচ খুব কম। পরিচর্যা খরচ ও সময় দুটোই কম লাগে। এবার বাদাম চাষের জন্য আবহাওয়া খুব ভালো ছিলো। এ জন্য বাদামের আবাদ ভালো হয়েছে। এখন বাজারে দাম ভাল পেলে সংসারের কাজে লাগবে।

রোববার (২৭-৬-২০২১) পদ্মার চরে গিয়ে দেখা যায়, যোগাযোগ বিছিন্ন উপজেলার চরকরাজাপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চরা ভূমি। এখানকার বেশিরভাগ চাষিরা আর্থসামাজিকভাবে দুরাবস্থায় থাকেন। মিহি বালুময় এসব জমিতে অন্য ফসল হয় না। তবে কয়েক বছর ধরে এসব জমিতে চিনা বাদাম চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। উৎপাদিত বাদাম বিক্রির টাকা তাদের বাড়তি আয় হিসেবে দেখছেন চরাঞ্চলবাসী। পুরুষের পাশাপাশি নারিরাও ক্ষেতের উৎপাদিত বাদাম বাড়ির আঙিনায় শুকানোর কাজ করছেন।

চরাঞ্চলের কালিদাশখালি গ্রামের আসলাম ও আওয়াল বলেন, তারা দুই ভাই মিলে ৪০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষে খরচ হয়েছে ৬/৭ হাজার টাকা। এক বিঘা জমি থেকে বাদাম পেয়েছেন ৬ মণ। বর্তমানে প্রতিমন কাঁচা বাদামের দাম ২ হাজার ৯০০’শ থেকে ৩০০০ (তিন) টাকা পর্যন্ত। এ হিসেবে ১বিঘা জমির বাদাম বিক্রি হবে প্রায় ১৭০০০ হাজার থেকে ১৮০০০ টাকা।

বাদাম চাষী শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে পরিত্যক্ত ৮ বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছিলাম। ৬বিঘা জমির বাদাম তোলা হয়েছে। সেগুলো এখন শুকাতে দিয়েছেন। সব মিলে প্রায় ৪৮ মণ বাদাম পাবেন বলে আশা করছেন। তিনি বলেন,উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে, পরিচর্যা করায় বাদাম ক্ষেতে পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার সফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বাদাম অত্যন্ত লাভজনক ও সস্তা ফসল। অল্প খরচ ও কম পরিশ্রমেই বাদাম চাষ করে ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘায় ৫/৬ হাজার টাকা খরচ করে ১৬০০০-২৫০০০ টাকা বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা। তবে হঠাৎ করে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু জায়গায় আবাদি বাদাম তলিয়ে গেছে। এতে করে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতির সন্মুখীন হয়েছে। এছাড়াও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ফসলহানি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কৃষি অফিসার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

বাদামের ফলনে হাসছে পদ্মার চরাঞ্চলের চাষিরা

প্রকাশিত : ০৭:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুন ২০২১

বালুকাময় পদ্মার চর, এখন পরিণত হচ্ছে শস্যভূমিতে। পদ্মার বিস্তৃত চরজুড়ে ফসলের সমারোহ। চাষাবাদ হচ্ছে বিভিন্ন রকমের দানাজাতীয় শস্য। চরাঞ্চলে বালুময় পরিত্যক্ত জমিতে বাদাম চাষ করে ভাল ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিনের পদ্মার চরে এবার বাদামের চাষ হয়েছে, ২৫০ হেক্টরের চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে। কৃষকরা ক্ষেত থেকে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন বাদাম। পদ্মার এই চরের, প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় চলছে চিনা বাদাম শুকানোর ধুম। উপযোগী আবহাওয়ায়, অন্য বছরের তুলনায় এবছর দ্বিগুন ফলনে খুশি বাদাম চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কালিদাসখালি, লক্ষীনগর, পলাশী ফতেপুর, দিয়ার কাদিরপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়াচরসহ চরাঞ্চলের আরো কয়েকটি গ্রামের জমিতে ব্যাপকভাবে চিনা বাদামের চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এই এলাকায় চিনা জাতের বাদামের আবাদই বেশি করা হয়েছে। এখন পুরোদমে জমি থেকে বাদাম তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তাতে প্রতি বিঘায় বাদাম পাওয়া যাচ্ছে, ৫ থেকে ৬ মণের বেশি। বিঘা প্রতি বীজ লাগে ১০ থেকে ১৫ কেজি । খরিফ-১ মৌসুমে বীজ বপনের পর ৪/৫ বার সেচ দিয়েই জমি থেকে তোলা হয় চিনা বাদাম।

চাষিরা জানান, চিনা বাদাম চাষে খরচ খুব কম। পরিচর্যা খরচ ও সময় দুটোই কম লাগে। এবার বাদাম চাষের জন্য আবহাওয়া খুব ভালো ছিলো। এ জন্য বাদামের আবাদ ভালো হয়েছে। এখন বাজারে দাম ভাল পেলে সংসারের কাজে লাগবে।

রোববার (২৭-৬-২০২১) পদ্মার চরে গিয়ে দেখা যায়, যোগাযোগ বিছিন্ন উপজেলার চরকরাজাপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চরা ভূমি। এখানকার বেশিরভাগ চাষিরা আর্থসামাজিকভাবে দুরাবস্থায় থাকেন। মিহি বালুময় এসব জমিতে অন্য ফসল হয় না। তবে কয়েক বছর ধরে এসব জমিতে চিনা বাদাম চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। উৎপাদিত বাদাম বিক্রির টাকা তাদের বাড়তি আয় হিসেবে দেখছেন চরাঞ্চলবাসী। পুরুষের পাশাপাশি নারিরাও ক্ষেতের উৎপাদিত বাদাম বাড়ির আঙিনায় শুকানোর কাজ করছেন।

চরাঞ্চলের কালিদাশখালি গ্রামের আসলাম ও আওয়াল বলেন, তারা দুই ভাই মিলে ৪০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষে খরচ হয়েছে ৬/৭ হাজার টাকা। এক বিঘা জমি থেকে বাদাম পেয়েছেন ৬ মণ। বর্তমানে প্রতিমন কাঁচা বাদামের দাম ২ হাজার ৯০০’শ থেকে ৩০০০ (তিন) টাকা পর্যন্ত। এ হিসেবে ১বিঘা জমির বাদাম বিক্রি হবে প্রায় ১৭০০০ হাজার থেকে ১৮০০০ টাকা।

বাদাম চাষী শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে পরিত্যক্ত ৮ বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছিলাম। ৬বিঘা জমির বাদাম তোলা হয়েছে। সেগুলো এখন শুকাতে দিয়েছেন। সব মিলে প্রায় ৪৮ মণ বাদাম পাবেন বলে আশা করছেন। তিনি বলেন,উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে, পরিচর্যা করায় বাদাম ক্ষেতে পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার সফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বাদাম অত্যন্ত লাভজনক ও সস্তা ফসল। অল্প খরচ ও কম পরিশ্রমেই বাদাম চাষ করে ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘায় ৫/৬ হাজার টাকা খরচ করে ১৬০০০-২৫০০০ টাকা বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা। তবে হঠাৎ করে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু জায়গায় আবাদি বাদাম তলিয়ে গেছে। এতে করে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতির সন্মুখীন হয়েছে। এছাড়াও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ফসলহানি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কৃষি অফিসার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর