০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

কুমিল্লায় ২৮১টি ইটভাটায় জ্বলছে কাঠ : উজার হচ্ছে ফসলি জমি

কুমিল্লা জেলার ১৭ উপজেলায় অবাধে গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। যাদের ট্রেড লাইসেন্স বা জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদফতরের কোনো প্রকার ছাড়পত্র নেই। জেলা ইট প্রস্তুত মালিক সমিতির তথ্য অনুসারে কুমিল্লা জেলায় ২৮১টি ব্রিকফিল্ড আছে।

তার মধ্যে ৯০টি ব্রিক ফিল্ডের কোনো কাগজপত্র বা ট্রেড লাইসেন্স নেই। যার ফলে ১৭টি উপজেলায় ৯০টি ইটভাটা স্থাপনে পৌরবিধি না মানা, ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নেয়া, পরিবেশে অধিদফতর ছাড়পত্র না নেয়ায় সরকারি রাজস্ব হারাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের নিয়ম অনুসারে ইটভাটা স্থাপন করতে হলে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ভ্যাট প্রদান করে, জেলা প্রশাসক নিয়ম অনুসারে প্রতি বছর ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি ও লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে।

পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রে ১২০ ফুট উঁচু কংক্রিটের তৈরি চিমনি স্থাপনের প্রত্যয়নপত্র ও ভ্যাট সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে। এমনকি ইট পোড়ানো নিবন্ধনও সংশোধন করবেন এবং ইটভাটার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের।

জানা যায় -১৭টি উপজেলায় ইটভাটা অনুমোদন দেয়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সূত্র অনুসারে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় ৩৮টি, সদর দক্ষিণ উপজেলায় ২৩টি, বরুড়া উপজেলায় ১১টি, বুড়িচং উপজেলায় ১৫টি, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ছয়টি, দাউদকান্দি উপজেলায় দুটি, তিতাস উপজেলায় পাঁচটি, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় দুটি, মুরাদনগর উপজেলায় ২৫টি, দেবিদ্বার উপজেলায় ১১টি, লাকসাম উপজেলায় ১৩টি, চান্দিনা উপজেলায় আটটি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ২৬টি, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ছয়টিসহ ১৯১টি বৈধ ব্রিকফিল্ড আছে।

এর মধ্যে ১৬টি উপজেলায় ইটভাটা অনুমোদনহীন ৯০টি ব্রিক ফিল্ড আছে- সদর দক্ষিণ উপজেলায় পাঁচটি, বরুড়া উপজেলায় একটি, বুড়িচং উপজেলায় চারটি, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ১৩টি, দাউদকান্দি উপজেলায় দুটি, তিতাস উপজেলায় একটি, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় তিনটি, মুরাদনগর উপজেলায় ২০টি, দেবিদ্বার উপজেলায় সাতটি, লাকসাম উপজেলায় ছয়টি, চান্দিনা উপজেলায় সাতটি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ২১টি অবৈধ ব্রিকফিল্ড আছে। এর মধ্যে লাকসামে ৮টি ও মনোহরগঞ্জে ৬টি, নাঙ্গলকোটে ১৯টি, বরুড়ায় ৯টি ও সদর দক্ষিণে ১১টি ইটভাটায় সরকারি বিধি-বিধান না মেনে পুরোদমে ইট তৈরি করছেন ভাটার মালিকরা। ২/১টি ছাড়া শিংহভাগ ইটভাটায় প্রতি বছর গ্যাস ও কয়লা ব্যতীত কাঠ পড়ানো হচ্ছে হাজার হাজার টন। সবকটি ইটভাটা গড়ে ওঠেছে এলাকার আবাদি কৃষি জমিতে।

বর্তমান মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে গ্রাম থেকে শহরে নগরায়ন ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে ইটের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এ অঞ্চলে গড়ে ওঠছে যত্রতত্র ইটের ভাটা। ঐ ইটভাটাগুলো পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে না। নির্বিচারে কাঠ পুড়িয়ে, মানহীন কয়লা, রাবার-প্লাস্টিক পুড়িয়ে এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগসহ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কয়েকশ কোটি ইট।

মূলত ইটভাটার পরিবেশ দূষণ ও অস্বাস্থ্যকরসহ বিভিন্ন অপতৎপরতা বেড়েই চলছে। এছাড়া ঐগুলোর মধ্যে প্রায় সিংহভাগ ইটভাটা অনুমোদনবিহীন ও প্রত্যায়নপত্র ছাড়াই চলছে। ইটভাটাগুলো এলাকার জন্য পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি তা কেউই মানতে চায় না। তার উপর আবাদি কৃষি জমির ক্ষতিতো আছেই।

অভিযোগ রয়েছে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নেয়া এবং পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা স্থাপনের। কোথাও কোথাও বাড়ির আঙ্গিনায় জনসম্মুখে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ইটভাটায় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও ব্রয়লার চিমনির পরিবর্তে নিম্নমানের চিমনি ব্যবহার, পরিবেশ দূষণকারী টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬টি উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার ইট পোড়ানো অভিশাপ মনে করছে স্থানীয় লোকজন। ইটভাটার মালিকদের অধিকাংশ নব্য আওয়ামী লীগ নেতা সেজে দাফটের সাথে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে অবৈধ ইটভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলছে। এর ফলে দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে বনভূমির পরিমাণ।

চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে শত শত বনাঞ্চল ও শষ্যের জমি। পরিবেশ অধিদফতরের আইনের তোয়াক্কা না করে অবাধে পাহাড়ি বনজ সম্পদ উজাড় করে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ইটভাটাগুলো স্থাপনে পৌরবিধি না মানা, ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নেয়া পরিবেশে অধিদফতর ছাড়পত্র না নেয়া, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়া, ব্রয়লারের চিমনির পরিবর্তে পরিবেশ দূষণকারী টায়ার পোড়ানো এবং ইটভাটাগুলো স্থাপনের সরকারী বিধি লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে।

এদিকে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী গোমতী নদী বাঁধ বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ও ইটভাটা মালিকদের দখলে। সরকারি নীতিমালা অমান্য করেও গড়ে ওঠা ওই ইটভাটায় দেদারছে জ্বলছে বনের কাঠ, পুরাতন টায়ারসহ বিভিন্ন প্রকার বিষাক্ত জ্বালানি। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই জেলার ১৬ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে প্রায় অর্ধ শতাধিক ডজনেরও বেশি ইটভাটা।

কুমিল্লার পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সামসুল আলমসহ এ দফতরের বেশ কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এসব ইটভাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত এসব অবৈধ ইটভাটায় ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। বিশেষ করে শিশু ও নবজাতকরা ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় নানা প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদিকে এসব ইটভাটা নিয়ে স্থানীয় পরিবেশ বাদী সংগঠনসহ প্রতিবাদী জনগণ সোচ্চার হলেও রহস্যজনক কারণে এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একভাটা মালিক জানান, কুমিল্লার পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সামসুল আলমসহ এ দফতরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়মিত মাসোহারা প্রদান করায় লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই এসব অবৈধ ইটভাটা চালাতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যার ফলে কুমিল্লা কৃষি জমিতে একের পর এক ইটভাটা স্থাপনের হিড়িক পড়েছে। সরকারি নিয়মনীতি উপো করে, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রতিবছর নতুন নতুন ইটভাটা তৈরি অব্যাহত রয়েছে।

এতে করে ইটভাটার পাশের ফসলি জমিতে দিন দিন উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। অপরদিকে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ইটভাটার চিমনী থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাই ফসল ও গাছ-পালার ব্যাপক তি করছে। এছাড়াও ইটভাটার উপর দিয়ে রয়েছে বিদ্যুতের ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন। কারণ রকম নিরাপদ দূরত্ব না রেখে ওই লাইনের নিচেই ইটভাটা স্থাপন করা হয়। এতে করে যে কোন মুহুর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়- কুমিল্লা কোতয়ালী থানার মধ্যে তালকুদার (বালুতোপা), মজুমদার (কুচাইতলী), আশরাফ (বাখরাবাদ), কুমিল্লা ব্রিকস ফিল্ড (বাখরাবাদ), ইসলামিয়া (শামবক্সী), রেজা (শামবক্সী), জবা (গুধুরপুকুর), সিলভার (কোটবাড়ী রোড), সজল (মাঝিগাছা), আলেখারচর, চাঁপাপুর, বাখরাবাদ, বারাপাড়া, কুচাইতলী, দৌলতপুর, দুর্গাপুর, ঝাগুরতলী, চাঙ্গিনী বাজার, বড়পুকুর, শামবসী, মনাগ্রাম, কালীর বাজার, জগন্নাথপুর (দৌলতপুর), আরকু’র সামনে, রঘুপুর, সদর দেিণর পদুয়ার বাজার, সুয়াগাজীর ফুলতলী, সুয়াগাজী বাজার সংলগ্ন, লালবাগ, কেশনপাড়, আমড়াতলী, ধনিশ্বর, জেলখানা বাড়ি, বিজয়পুর, রতনপুর, বেতলতলী, কোটবাড়ী এলাকা, বুড়িচংয়ে- নিমসার, কংশনগর, বানাসুয়া, কাবিলা (মনিপুর), টিপরাবাজার, নানকরায় ২টি, পদুয়ায় ১টি ও হাড়িসর্দার এলাকায় ২টি ইটভাটা।

এছাড়াও লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া চান্দিনা, মুরাদনগর, তিতাস, হোমনা চান্দিনার মাধাইয়া, কুটুম্বপুর, দাউদকান্দি ইলিয়াটগঞ্জ, গৌরীপুর, রায়পুরসহ প্রায় কুমিল্লায় শতাধিক ব্রিকস ফিল্ড রয়েছে। সরকারের নিয়মনীতি উপো করে প্রভাবশালী নেতাদের অবৈধভাবে ব্রিকস্ ফিল্ড স্থাপন করেন। এসব বিক্স ফিল্ডে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঠ পুড়ানো হচ্ছে। কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও প্রকাশ্য ওই ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হলেও স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কখনই কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ ওঠেছে এ ইটভাটায় শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিকও দেওয়া হচ্ছে না।

জানা যায়, ১৯৯২ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবাদি জমির ওপর ইটভাটা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরিবেশ সংরণের জন্য ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯, সংশোধন আইন ২০০১ প্রণয়ন করা হয়েছে। পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন, আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি নতুন ইটভাটা অবশ্যই অনুর্বর, অকৃষি, স্থায়ী পতিত জমিতে স্থাপনের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু কুমিল্লায় প্রায় শতাধিক ব্রিকস্ ফিল্ড রয়েছে যা কোন নিয়মই মানা হচ্ছে না। এছাড়া ১৯৫১ সালে জমিদারি দখল ও প্রজাতন্ত্র আইনের ১০ ধারার বিধান অনুযায়ী আবাদি কৃষিজমিতে ইটভাটা তৈরি দণ্ডনীয় অপরাধ।

জানা যায়, সরকারের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী হাইব্রিড হফম্যান, জিগজ্যাগ ও ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন পদ্ধতির চিমনি বা পরীক্ষিত নতুন প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করলে ভাটা মালিকের তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে। এছাড়া এ আইনের অনেক আগেই নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয় বয়লার পদ্ধতিতে স্থাপিত ইটভাটাকে। জিকজ্যাক পদ্ধতির এসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর বয়লার পদ্ধতির ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বেশিরভাগই কাঠ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এদিকে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ মতে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে আধা কিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। অকৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের বিধান রাখা হলেও এ জেলার বেশিরভাগ ইটভাটাই স্থাপন করা হয়েছে কৃষি জমিতে। সরকারের এসব আইনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে কুমিল্লায় দেদারছে চলছে বেশ কিছু অবৈধ ইটভাটা।

এদিকে পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইটভাটার ১২০ মিটার উঁচু চিমনি এবং ঝিঁকঝাঁক পদ্ধতিতে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও এসব ব্রিকস্ ফিল্ডে কোনটাই নেই। এর ফলে কুমিল্লার প্রতিটি এলাকায় ব্রিকস্ স্থাপন করায় বাতাসে সিএফসি (কোরো ফোরো কার্বন) ও সালফার ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চর্ম, ফুঁসফুঁসের ক্যান্সার, চোঁখের সমস্যাসহ নানাবিধ সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ডা. রায়সুল ইসলাম দিপ জানান- ‘ইটভাটার চিম্নি থেকে নির্গত ‘সিএফসি’ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক তিকর। এতে হাপানী, লান্স, ইনকিন ডিজিস, বাচ্চাদের নিমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার, গলা, চর্মরোগ, চোখের জ্যুতি কমে যাওয়া, চামড়ায় থক্থকে ঘাঁ হওয়া সহ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ মতা কমে যায়।

এসব বিষয়ে জবা, শাপলা, ফুনকা, মদিনা, একতা, তালুকদারসহ বিভিন্ন ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান- ইটভাটায় আগুন ধরানোর জন্য কিছু কাঠ পোড়ান লাগে। এছাড়া সবসময় কয়লা পুড়ানো হয় বলে অনেকেরই দাবী। নদীর চর কাটার ব্যাপারে তারা জানান- আমরা মাটির জন্য সাপ্লাইদের দায়িত্ব দিয়ে দেই। তারা কোথায় থেকে মাটি আনে সেটা আমাদের জানার বিষয় নয় বলে জানান।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

কুমিল্লায় ২৮১টি ইটভাটায় জ্বলছে কাঠ : উজার হচ্ছে ফসলি জমি

প্রকাশিত : ০৫:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুন ২০২১

কুমিল্লা জেলার ১৭ উপজেলায় অবাধে গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। যাদের ট্রেড লাইসেন্স বা জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদফতরের কোনো প্রকার ছাড়পত্র নেই। জেলা ইট প্রস্তুত মালিক সমিতির তথ্য অনুসারে কুমিল্লা জেলায় ২৮১টি ব্রিকফিল্ড আছে।

তার মধ্যে ৯০টি ব্রিক ফিল্ডের কোনো কাগজপত্র বা ট্রেড লাইসেন্স নেই। যার ফলে ১৭টি উপজেলায় ৯০টি ইটভাটা স্থাপনে পৌরবিধি না মানা, ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নেয়া, পরিবেশে অধিদফতর ছাড়পত্র না নেয়ায় সরকারি রাজস্ব হারাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের নিয়ম অনুসারে ইটভাটা স্থাপন করতে হলে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ভ্যাট প্রদান করে, জেলা প্রশাসক নিয়ম অনুসারে প্রতি বছর ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি ও লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে।

পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রে ১২০ ফুট উঁচু কংক্রিটের তৈরি চিমনি স্থাপনের প্রত্যয়নপত্র ও ভ্যাট সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে। এমনকি ইট পোড়ানো নিবন্ধনও সংশোধন করবেন এবং ইটভাটার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের।

জানা যায় -১৭টি উপজেলায় ইটভাটা অনুমোদন দেয়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সূত্র অনুসারে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় ৩৮টি, সদর দক্ষিণ উপজেলায় ২৩টি, বরুড়া উপজেলায় ১১টি, বুড়িচং উপজেলায় ১৫টি, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ছয়টি, দাউদকান্দি উপজেলায় দুটি, তিতাস উপজেলায় পাঁচটি, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় দুটি, মুরাদনগর উপজেলায় ২৫টি, দেবিদ্বার উপজেলায় ১১টি, লাকসাম উপজেলায় ১৩টি, চান্দিনা উপজেলায় আটটি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ২৬টি, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ছয়টিসহ ১৯১টি বৈধ ব্রিকফিল্ড আছে।

এর মধ্যে ১৬টি উপজেলায় ইটভাটা অনুমোদনহীন ৯০টি ব্রিক ফিল্ড আছে- সদর দক্ষিণ উপজেলায় পাঁচটি, বরুড়া উপজেলায় একটি, বুড়িচং উপজেলায় চারটি, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ১৩টি, দাউদকান্দি উপজেলায় দুটি, তিতাস উপজেলায় একটি, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় তিনটি, মুরাদনগর উপজেলায় ২০টি, দেবিদ্বার উপজেলায় সাতটি, লাকসাম উপজেলায় ছয়টি, চান্দিনা উপজেলায় সাতটি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ২১টি অবৈধ ব্রিকফিল্ড আছে। এর মধ্যে লাকসামে ৮টি ও মনোহরগঞ্জে ৬টি, নাঙ্গলকোটে ১৯টি, বরুড়ায় ৯টি ও সদর দক্ষিণে ১১টি ইটভাটায় সরকারি বিধি-বিধান না মেনে পুরোদমে ইট তৈরি করছেন ভাটার মালিকরা। ২/১টি ছাড়া শিংহভাগ ইটভাটায় প্রতি বছর গ্যাস ও কয়লা ব্যতীত কাঠ পড়ানো হচ্ছে হাজার হাজার টন। সবকটি ইটভাটা গড়ে ওঠেছে এলাকার আবাদি কৃষি জমিতে।

বর্তমান মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে গ্রাম থেকে শহরে নগরায়ন ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে ইটের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এ অঞ্চলে গড়ে ওঠছে যত্রতত্র ইটের ভাটা। ঐ ইটভাটাগুলো পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে না। নির্বিচারে কাঠ পুড়িয়ে, মানহীন কয়লা, রাবার-প্লাস্টিক পুড়িয়ে এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগসহ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কয়েকশ কোটি ইট।

মূলত ইটভাটার পরিবেশ দূষণ ও অস্বাস্থ্যকরসহ বিভিন্ন অপতৎপরতা বেড়েই চলছে। এছাড়া ঐগুলোর মধ্যে প্রায় সিংহভাগ ইটভাটা অনুমোদনবিহীন ও প্রত্যায়নপত্র ছাড়াই চলছে। ইটভাটাগুলো এলাকার জন্য পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি তা কেউই মানতে চায় না। তার উপর আবাদি কৃষি জমির ক্ষতিতো আছেই।

অভিযোগ রয়েছে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নেয়া এবং পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা স্থাপনের। কোথাও কোথাও বাড়ির আঙ্গিনায় জনসম্মুখে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ইটভাটায় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও ব্রয়লার চিমনির পরিবর্তে নিম্নমানের চিমনি ব্যবহার, পরিবেশ দূষণকারী টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬টি উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার ইট পোড়ানো অভিশাপ মনে করছে স্থানীয় লোকজন। ইটভাটার মালিকদের অধিকাংশ নব্য আওয়ামী লীগ নেতা সেজে দাফটের সাথে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে অবৈধ ইটভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলছে। এর ফলে দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে বনভূমির পরিমাণ।

চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে শত শত বনাঞ্চল ও শষ্যের জমি। পরিবেশ অধিদফতরের আইনের তোয়াক্কা না করে অবাধে পাহাড়ি বনজ সম্পদ উজাড় করে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ইটভাটাগুলো স্থাপনে পৌরবিধি না মানা, ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নেয়া পরিবেশে অধিদফতর ছাড়পত্র না নেয়া, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়া, ব্রয়লারের চিমনির পরিবর্তে পরিবেশ দূষণকারী টায়ার পোড়ানো এবং ইটভাটাগুলো স্থাপনের সরকারী বিধি লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে।

এদিকে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী গোমতী নদী বাঁধ বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ও ইটভাটা মালিকদের দখলে। সরকারি নীতিমালা অমান্য করেও গড়ে ওঠা ওই ইটভাটায় দেদারছে জ্বলছে বনের কাঠ, পুরাতন টায়ারসহ বিভিন্ন প্রকার বিষাক্ত জ্বালানি। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই জেলার ১৬ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে প্রায় অর্ধ শতাধিক ডজনেরও বেশি ইটভাটা।

কুমিল্লার পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সামসুল আলমসহ এ দফতরের বেশ কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এসব ইটভাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত এসব অবৈধ ইটভাটায় ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। বিশেষ করে শিশু ও নবজাতকরা ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় নানা প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদিকে এসব ইটভাটা নিয়ে স্থানীয় পরিবেশ বাদী সংগঠনসহ প্রতিবাদী জনগণ সোচ্চার হলেও রহস্যজনক কারণে এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একভাটা মালিক জানান, কুমিল্লার পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সামসুল আলমসহ এ দফতরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়মিত মাসোহারা প্রদান করায় লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই এসব অবৈধ ইটভাটা চালাতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যার ফলে কুমিল্লা কৃষি জমিতে একের পর এক ইটভাটা স্থাপনের হিড়িক পড়েছে। সরকারি নিয়মনীতি উপো করে, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রতিবছর নতুন নতুন ইটভাটা তৈরি অব্যাহত রয়েছে।

এতে করে ইটভাটার পাশের ফসলি জমিতে দিন দিন উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। অপরদিকে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ইটভাটার চিমনী থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাই ফসল ও গাছ-পালার ব্যাপক তি করছে। এছাড়াও ইটভাটার উপর দিয়ে রয়েছে বিদ্যুতের ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন। কারণ রকম নিরাপদ দূরত্ব না রেখে ওই লাইনের নিচেই ইটভাটা স্থাপন করা হয়। এতে করে যে কোন মুহুর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়- কুমিল্লা কোতয়ালী থানার মধ্যে তালকুদার (বালুতোপা), মজুমদার (কুচাইতলী), আশরাফ (বাখরাবাদ), কুমিল্লা ব্রিকস ফিল্ড (বাখরাবাদ), ইসলামিয়া (শামবক্সী), রেজা (শামবক্সী), জবা (গুধুরপুকুর), সিলভার (কোটবাড়ী রোড), সজল (মাঝিগাছা), আলেখারচর, চাঁপাপুর, বাখরাবাদ, বারাপাড়া, কুচাইতলী, দৌলতপুর, দুর্গাপুর, ঝাগুরতলী, চাঙ্গিনী বাজার, বড়পুকুর, শামবসী, মনাগ্রাম, কালীর বাজার, জগন্নাথপুর (দৌলতপুর), আরকু’র সামনে, রঘুপুর, সদর দেিণর পদুয়ার বাজার, সুয়াগাজীর ফুলতলী, সুয়াগাজী বাজার সংলগ্ন, লালবাগ, কেশনপাড়, আমড়াতলী, ধনিশ্বর, জেলখানা বাড়ি, বিজয়পুর, রতনপুর, বেতলতলী, কোটবাড়ী এলাকা, বুড়িচংয়ে- নিমসার, কংশনগর, বানাসুয়া, কাবিলা (মনিপুর), টিপরাবাজার, নানকরায় ২টি, পদুয়ায় ১টি ও হাড়িসর্দার এলাকায় ২টি ইটভাটা।

এছাড়াও লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া চান্দিনা, মুরাদনগর, তিতাস, হোমনা চান্দিনার মাধাইয়া, কুটুম্বপুর, দাউদকান্দি ইলিয়াটগঞ্জ, গৌরীপুর, রায়পুরসহ প্রায় কুমিল্লায় শতাধিক ব্রিকস ফিল্ড রয়েছে। সরকারের নিয়মনীতি উপো করে প্রভাবশালী নেতাদের অবৈধভাবে ব্রিকস্ ফিল্ড স্থাপন করেন। এসব বিক্স ফিল্ডে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঠ পুড়ানো হচ্ছে। কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও প্রকাশ্য ওই ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হলেও স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কখনই কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ ওঠেছে এ ইটভাটায় শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিকও দেওয়া হচ্ছে না।

জানা যায়, ১৯৯২ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবাদি জমির ওপর ইটভাটা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরিবেশ সংরণের জন্য ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯, সংশোধন আইন ২০০১ প্রণয়ন করা হয়েছে। পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন, আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি নতুন ইটভাটা অবশ্যই অনুর্বর, অকৃষি, স্থায়ী পতিত জমিতে স্থাপনের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু কুমিল্লায় প্রায় শতাধিক ব্রিকস্ ফিল্ড রয়েছে যা কোন নিয়মই মানা হচ্ছে না। এছাড়া ১৯৫১ সালে জমিদারি দখল ও প্রজাতন্ত্র আইনের ১০ ধারার বিধান অনুযায়ী আবাদি কৃষিজমিতে ইটভাটা তৈরি দণ্ডনীয় অপরাধ।

জানা যায়, সরকারের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী হাইব্রিড হফম্যান, জিগজ্যাগ ও ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন পদ্ধতির চিমনি বা পরীক্ষিত নতুন প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করলে ভাটা মালিকের তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে। এছাড়া এ আইনের অনেক আগেই নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয় বয়লার পদ্ধতিতে স্থাপিত ইটভাটাকে। জিকজ্যাক পদ্ধতির এসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর বয়লার পদ্ধতির ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বেশিরভাগই কাঠ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এদিকে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ মতে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে আধা কিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। অকৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের বিধান রাখা হলেও এ জেলার বেশিরভাগ ইটভাটাই স্থাপন করা হয়েছে কৃষি জমিতে। সরকারের এসব আইনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে কুমিল্লায় দেদারছে চলছে বেশ কিছু অবৈধ ইটভাটা।

এদিকে পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইটভাটার ১২০ মিটার উঁচু চিমনি এবং ঝিঁকঝাঁক পদ্ধতিতে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও এসব ব্রিকস্ ফিল্ডে কোনটাই নেই। এর ফলে কুমিল্লার প্রতিটি এলাকায় ব্রিকস্ স্থাপন করায় বাতাসে সিএফসি (কোরো ফোরো কার্বন) ও সালফার ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চর্ম, ফুঁসফুঁসের ক্যান্সার, চোঁখের সমস্যাসহ নানাবিধ সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ডা. রায়সুল ইসলাম দিপ জানান- ‘ইটভাটার চিম্নি থেকে নির্গত ‘সিএফসি’ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক তিকর। এতে হাপানী, লান্স, ইনকিন ডিজিস, বাচ্চাদের নিমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার, গলা, চর্মরোগ, চোখের জ্যুতি কমে যাওয়া, চামড়ায় থক্থকে ঘাঁ হওয়া সহ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ মতা কমে যায়।

এসব বিষয়ে জবা, শাপলা, ফুনকা, মদিনা, একতা, তালুকদারসহ বিভিন্ন ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান- ইটভাটায় আগুন ধরানোর জন্য কিছু কাঠ পোড়ান লাগে। এছাড়া সবসময় কয়লা পুড়ানো হয় বলে অনেকেরই দাবী। নদীর চর কাটার ব্যাপারে তারা জানান- আমরা মাটির জন্য সাপ্লাইদের দায়িত্ব দিয়ে দেই। তারা কোথায় থেকে মাটি আনে সেটা আমাদের জানার বিষয় নয় বলে জানান।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ