করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারাদেশের সাথে কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে বৃহস্পতিবার থেকে গাজীপুরে ৫০ টি চেক পয়েন্টে কাজ করছেন ৩ প্লাটুন সেনাসদস্য, ৩ প্লাটুন বিজিবি এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ সদস্য।
লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ ৫০ টি পয়েন্টে কাজ করছেন। এরমধ্যে জেলা প্রশাসনের ১৮ টি চেক পয়েন্টে এবং জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটনের আরও ৩২ টি চেক পয়েন্টে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ প্লাটুন সেনাসদস্য, ৩ প্লাটুন বিজিবি ও পর্যপ্ত সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বিনা প্রয়োজনে কেউ বের হলে তাদেরকে আটক অথবা জরিমানা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, লকডাউনে বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহন, দোকান-পাট খোলা নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী বা শ্রমিকদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৮ টি টিমে ১৮ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বপালন করছেন।
সকালে জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম গাজীপুর মহানগরের চান্দনা-চৌরাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. জাকির হাসান জানান, লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা বাস্তয়নে গাজীপুর মহানগরে তাদের সাড়ে চারশ’ ফোর্স কাজ করছেন। তাদের একটি পিকেট ডিউটি, ২৭ টি মোবাইল টিম যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা-বন্ধ রাখাসহ সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছেন।
মাওনা মহাসড়ক থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া অন্য কোন গাড়ি চলতে দেয়া হচ্ছে না। তবে ব্যানার-স্টিকারযুক্ত কিছু কারখানার শ্রমিকবাহী যানবাহন যাচাই সাপেক্ষে চলতে দেয়া হচ্ছে। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা নমুনা পরীক্ষার পিসিআর (মাইক্রোবায়োলজি) ল্যাবে বায়োসেপ্টিক কেবিনেটে ল্যামিনার ফ্লু মেশিন বিকল থাকায় গত সোমবার থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
ল্যাবের ইনচার্জ ডা. এসকে সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরেই বায়োসেপ্টিক কেবিনেটে ল্যামিনার ফ্লুর মেশিনটিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কার্যালয়কে জানানো হয়। পরে গত ২৭ জুন ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম এখানে আসে। তারা মেশিনটি পরিবর্তনের পরার্মশ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবেদন দেয়।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান জানান, গাজীপুরে প্রতিদিন প্রায় পৌনে ৪০০ করোনা নমুনা সংগ্রহ হয়। এসব নমুনা গাজীপুরের দুই প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ঢাকার আইপিএইচ ল্যাব এবং সাভারের বায়োটেকনোলজি ল্যাবেও পাঠানো হয়। এখন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া এ ল্যাবে আসা সব করোনা নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৭ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়। এন্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যম্যে ২২জনের নমুনায় করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। বাকি ৩২৫ জনের নমুনা পরীক্ষা পিসিআর মেশিনে করার জন্য ঢাকার বিভিন্ন ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ওইসব নমুনা পরীক্ষার ফল এখনও পাওয়া যায়নি। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জন মারা গেছেন বলে তিনি জানান।
এ পর্যন্ত গাজীপুরে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯০ হাজার ২৯২ জনের। এর মধ্যে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৬১৩ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন মোট ২৪০ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৯২১ জন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ










