১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

আইসিইউ নেই পঞ্চগড় হাসপাতালে, ভোগান্তিতে করোনা রোগিরা

পঞ্চগড়ে দিনদিন বেড়েই চলছে করোনা সংক্রমণের হার। অথচ চিকিৎসা সেবায় নিদারুন সংকট চলছে রোগীদের। জেলার একমাত্র আধুনিক সদর হাসপাতালটিতে অক্সিজেন প্লানটেশন ও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় রোগিদের যেতে হচ্ছে দিনাজপুর অথবা রংপুরে। এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে ভোগান্তি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোভিড ভাইরাস ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়লেই রোগীদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এতে আক্রান্ত রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়ছে পারিবারিক দুশ্চিন্তা। এছাড়া চিকিৎসার জন্য বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয়ের কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। এজন্য অনেকেই উপসর্গ দেখা দিলেও করোনা টেষ্ট করাতে চান না। গোপন রেখেই চলাফেরা করছেন।
আটোয়ারী উপজেলার কাটালী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত মাসের শেষের দিকে করোনা টেষ্টে তিনি পজেটিভ চিহ্নিত হয়ে পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। আইসিইউ না থাকার কারণে ফুসফুসে আক্রান্ত হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে দিনাজপুরে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন।
মোস্তফিজুর বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি নিতে চাননা। আর দিনাজপুরে চিকিৎসা নেয়ার কারণে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যায় হয়েছে। পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে আইসিইউ থাকলে এতোটাকা ব্যয় হতোনা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এই জেলায় এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫৮ জন। এর মধ্যে শুধু জুন এবং চলমান জুলাই মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৬ জন। দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যু সংখ্যা ৬ জন। দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস সনাক্তের পর এই জেলায় প্রথম ঢেউয়ে আক্রান্ত হন ৭৭৯ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু বরণ করেন ২০ জন। বর্তমানে ৩০৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী আইসোলেশনে রয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮ জন রোগী। চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৭ জন রোগী।
জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে করোনা পজেটিভ আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। আইসিইউ এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় জটিল আকার ধারণ করা রোগীদের পাঠানো হচ্ছে রংপুর অথবা দিনাজপুর।
সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান জানান, আইসিইউ নির্মাণ অনেক সময়ের ব্যাপার। তাছাড়া করোনারোগীর প্রধান সমস্যা অক্সিজেন। অক্সিজেন সমস্যা সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে একটি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান বসানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, অক্সিজেন প্লান নির্মানাধীন রয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এই প্লান্ট এর কাজ শেষ হবে। অক্সিজেন প্লান্ট বসানো হলে ৬ থেকে ১০ হাজার লিটার অক্সিজেন কন্টেইনার বসানো হবে। এতে ২০ জন রোগীকে অক্সিজেন সেবা দেয়া যাবে ।
এদিকে, জুন মাসের ২৪ তারিখ থেকে পুনরায় করোনা টিকা সিনোফার্ম দেওয়া শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এবারে তিন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থী, আইন শৃখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রবাসীদের টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ২৩১ জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

আইসিইউ নেই পঞ্চগড় হাসপাতালে, ভোগান্তিতে করোনা রোগিরা

প্রকাশিত : ০৪:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুলাই ২০২১

পঞ্চগড়ে দিনদিন বেড়েই চলছে করোনা সংক্রমণের হার। অথচ চিকিৎসা সেবায় নিদারুন সংকট চলছে রোগীদের। জেলার একমাত্র আধুনিক সদর হাসপাতালটিতে অক্সিজেন প্লানটেশন ও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় রোগিদের যেতে হচ্ছে দিনাজপুর অথবা রংপুরে। এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে ভোগান্তি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোভিড ভাইরাস ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়লেই রোগীদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এতে আক্রান্ত রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়ছে পারিবারিক দুশ্চিন্তা। এছাড়া চিকিৎসার জন্য বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয়ের কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। এজন্য অনেকেই উপসর্গ দেখা দিলেও করোনা টেষ্ট করাতে চান না। গোপন রেখেই চলাফেরা করছেন।
আটোয়ারী উপজেলার কাটালী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত মাসের শেষের দিকে করোনা টেষ্টে তিনি পজেটিভ চিহ্নিত হয়ে পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। আইসিইউ না থাকার কারণে ফুসফুসে আক্রান্ত হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে দিনাজপুরে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন।
মোস্তফিজুর বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি নিতে চাননা। আর দিনাজপুরে চিকিৎসা নেয়ার কারণে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যায় হয়েছে। পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে আইসিইউ থাকলে এতোটাকা ব্যয় হতোনা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এই জেলায় এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫৮ জন। এর মধ্যে শুধু জুন এবং চলমান জুলাই মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৬ জন। দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যু সংখ্যা ৬ জন। দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস সনাক্তের পর এই জেলায় প্রথম ঢেউয়ে আক্রান্ত হন ৭৭৯ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু বরণ করেন ২০ জন। বর্তমানে ৩০৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী আইসোলেশনে রয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮ জন রোগী। চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৭ জন রোগী।
জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে করোনা পজেটিভ আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। আইসিইউ এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় জটিল আকার ধারণ করা রোগীদের পাঠানো হচ্ছে রংপুর অথবা দিনাজপুর।
সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান জানান, আইসিইউ নির্মাণ অনেক সময়ের ব্যাপার। তাছাড়া করোনারোগীর প্রধান সমস্যা অক্সিজেন। অক্সিজেন সমস্যা সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে একটি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান বসানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, অক্সিজেন প্লান নির্মানাধীন রয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এই প্লান্ট এর কাজ শেষ হবে। অক্সিজেন প্লান্ট বসানো হলে ৬ থেকে ১০ হাজার লিটার অক্সিজেন কন্টেইনার বসানো হবে। এতে ২০ জন রোগীকে অক্সিজেন সেবা দেয়া যাবে ।
এদিকে, জুন মাসের ২৪ তারিখ থেকে পুনরায় করোনা টিকা সিনোফার্ম দেওয়া শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এবারে তিন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থী, আইন শৃখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রবাসীদের টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ২৩১ জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ