১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

কমলগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষদের দূর্বিষহ জীবন যাপন, পাশে নেই জনপ্রতিনিধিরা

নোভেল করোনা ভাইরাস দেশজুড়ে চলমান মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ‘কঠোর লকডাউনের’ কারণে ছোট-খাট চায়ের দোকানী,দিন মজুর,শ্রমিক,জেলে,কৃষি কাজে নিয়োজিত শ্রমিক,হকার সহ কর্মহীন মানুষরা চরম অর্থসংকটে পড়েছে। উপজেলা পর্যায়েও এবারে লকডাউনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। চলছে না যানবাহন, বন্ধ দোকানপাট, ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন করা হচ্ছে অর্থ দন্ড। যার ফলে খেটে খাওয়া মানুষের কাজ নেই, হাতে ও টাকা নেই। গত বছর করোনা শুরু সময় উপজেলায় সরকারী উদ্যোগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ালেও এবার লকডাউনের ৮ দিন অতিবাহিত হলেও তাদের কেউ মাঠে নেই। জুন মাসে উপজেলা দুযোর্গ ও ত্রান শাখা হতে ৯টি ইউনিয়নে প্রতিটিতে আড়াই লাখ ও ১ মেট্রিক জিআর চাল বরাদ্ধ করা হলেও সেগুলো এখনো বিতরণ করা হয়নি। পাশাপাশি আরো প্রায় ৭ লাখ টাকা এবং ১০ মেট্রক টন চাল বরাদ্ধ দিয়েছে সরকার।
জানাযায়,১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া লকডাউন বাস্তবায়ন করতে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসিল্যান্ড এর নেতৃত্বে মাঠে সেনাবাহিনী, পুলিশ কাজ করছেন। এতে করে রিক্সা ব্যতিত কোন যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। ভানুগাছ, শমসেরনগর,মুন্সিবাজার, নইনারপার ,আলীনগর ,আদমপুর,মাধবপুর সহ উপজেলায় প্রায় ৫০টি বাজার। এই সব ছোট ছোট বাজার সমুহে নিত্যপন্য দোকান ও কাচাঁবাজার ছাড়া সকল ধরনের ব্যবস্থা প্রতিষ্টান বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে চরম অর্থ সংকটে রয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। শুধু ব্যবসায়ী নয় দিনমজুরা ও কাজ করতেন না পেরে বেকার হয়ে পড়েন। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক কষ্টে দিনপাত করছেন। ওই ৮ দিনে উপজেলার দারিদ্র ও নিন্ম আয়ের মানুষরা কষ্টে দিনাতিপাত করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা ভিত্তশালীরা কেউ তাদের খবর রাখেনি। সবাই ঘরে আব্ধ হয়ে আছেন। ফলে এখানকার নিন্ম আয়ের মানুষরা খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। গত ৮ দিনে কেউ একটুও খাদ্য সহায়তা পায়নি। সরকারের ৩৩৩ নাম্বারে কল দিলেও নানা ঝামেলায় পড়তে হয় এই ভয়ে কেউ তাতে কর দিচ্ছেন না। শব্দকর পাড়ার অনিশেষ শব্দকর ,রাকেশ শব্দকর,নিখিল শব্দ বলেন,তাদের কষ্টের কথা জানিয়ে সরকারের কাছে খাদ্য সামগ্রী প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রান কর্মকর্তা মো ঃ আছাদুজ্জামান বলেন, গত ৩০ জুনের ভিতরে উপজেলায় সাধারণ বরাদ্ধ এসেছে ১৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩৩ লাখ টাকা। ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নামে আড়াই লাখ টাকা করে ইতি মধ্যে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১ টন করে চাল দেয়া হয়েছে। বর্তমানে আরো ১০টন চাল ও ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্ধের চিঠি এসেছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কার/লাইটেস/বাস পরিবহন সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন লালন বলেন, আমাদের কাজ নেই। তাই আয়-উপার্জন নেই। দিন কাটছে চরম কষ্টে।
কমলগঞ্জ পৌর এলাকার রিকশাচালক মহেন্দ্র শব্দকর বলেন, খুবই কষ্টে আছি । ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে আছি।
কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমদ বলেন, কিছু দিন পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের নগদ টাকা বিতরণ করেছি। (সোমবার) আরো ১ টন চাল ও নগদ ৬৬ হাজার টাকার চেক পেয়েছি। তা দরিদ্রদের মধ্যে দ্রæত বিতরণ করবো।
মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সমেরেন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, পিআই ও অফিস হতে আড়াই লাখ টাকা বরাদ্ধ পেয়েছি গত জুন মাসে । তা এখনো বিতরন করা হয়নি। নতুন আর ও ৬৬ হাজার টাকার চেক ও ১ মেট্রিক টন চাল পেয়েছি। তবে বন্টন শুরু হয়নি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ত্রান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ৩৩৩ নাম্বারে কল দিয়ে অনেকেই খাদ্য পাচ্ছে। তবে সরকারের বরাদ্ধ দ্রæত বিতরণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

কমলগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষদের দূর্বিষহ জীবন যাপন, পাশে নেই জনপ্রতিনিধিরা

প্রকাশিত : ০৬:৩৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুলাই ২০২১

নোভেল করোনা ভাইরাস দেশজুড়ে চলমান মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ‘কঠোর লকডাউনের’ কারণে ছোট-খাট চায়ের দোকানী,দিন মজুর,শ্রমিক,জেলে,কৃষি কাজে নিয়োজিত শ্রমিক,হকার সহ কর্মহীন মানুষরা চরম অর্থসংকটে পড়েছে। উপজেলা পর্যায়েও এবারে লকডাউনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। চলছে না যানবাহন, বন্ধ দোকানপাট, ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন করা হচ্ছে অর্থ দন্ড। যার ফলে খেটে খাওয়া মানুষের কাজ নেই, হাতে ও টাকা নেই। গত বছর করোনা শুরু সময় উপজেলায় সরকারী উদ্যোগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ালেও এবার লকডাউনের ৮ দিন অতিবাহিত হলেও তাদের কেউ মাঠে নেই। জুন মাসে উপজেলা দুযোর্গ ও ত্রান শাখা হতে ৯টি ইউনিয়নে প্রতিটিতে আড়াই লাখ ও ১ মেট্রিক জিআর চাল বরাদ্ধ করা হলেও সেগুলো এখনো বিতরণ করা হয়নি। পাশাপাশি আরো প্রায় ৭ লাখ টাকা এবং ১০ মেট্রক টন চাল বরাদ্ধ দিয়েছে সরকার।
জানাযায়,১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া লকডাউন বাস্তবায়ন করতে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসিল্যান্ড এর নেতৃত্বে মাঠে সেনাবাহিনী, পুলিশ কাজ করছেন। এতে করে রিক্সা ব্যতিত কোন যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। ভানুগাছ, শমসেরনগর,মুন্সিবাজার, নইনারপার ,আলীনগর ,আদমপুর,মাধবপুর সহ উপজেলায় প্রায় ৫০টি বাজার। এই সব ছোট ছোট বাজার সমুহে নিত্যপন্য দোকান ও কাচাঁবাজার ছাড়া সকল ধরনের ব্যবস্থা প্রতিষ্টান বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে চরম অর্থ সংকটে রয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। শুধু ব্যবসায়ী নয় দিনমজুরা ও কাজ করতেন না পেরে বেকার হয়ে পড়েন। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক কষ্টে দিনপাত করছেন। ওই ৮ দিনে উপজেলার দারিদ্র ও নিন্ম আয়ের মানুষরা কষ্টে দিনাতিপাত করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা ভিত্তশালীরা কেউ তাদের খবর রাখেনি। সবাই ঘরে আব্ধ হয়ে আছেন। ফলে এখানকার নিন্ম আয়ের মানুষরা খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। গত ৮ দিনে কেউ একটুও খাদ্য সহায়তা পায়নি। সরকারের ৩৩৩ নাম্বারে কল দিলেও নানা ঝামেলায় পড়তে হয় এই ভয়ে কেউ তাতে কর দিচ্ছেন না। শব্দকর পাড়ার অনিশেষ শব্দকর ,রাকেশ শব্দকর,নিখিল শব্দ বলেন,তাদের কষ্টের কথা জানিয়ে সরকারের কাছে খাদ্য সামগ্রী প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রান কর্মকর্তা মো ঃ আছাদুজ্জামান বলেন, গত ৩০ জুনের ভিতরে উপজেলায় সাধারণ বরাদ্ধ এসেছে ১৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩৩ লাখ টাকা। ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নামে আড়াই লাখ টাকা করে ইতি মধ্যে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১ টন করে চাল দেয়া হয়েছে। বর্তমানে আরো ১০টন চাল ও ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্ধের চিঠি এসেছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কার/লাইটেস/বাস পরিবহন সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন লালন বলেন, আমাদের কাজ নেই। তাই আয়-উপার্জন নেই। দিন কাটছে চরম কষ্টে।
কমলগঞ্জ পৌর এলাকার রিকশাচালক মহেন্দ্র শব্দকর বলেন, খুবই কষ্টে আছি । ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে আছি।
কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমদ বলেন, কিছু দিন পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের নগদ টাকা বিতরণ করেছি। (সোমবার) আরো ১ টন চাল ও নগদ ৬৬ হাজার টাকার চেক পেয়েছি। তা দরিদ্রদের মধ্যে দ্রæত বিতরণ করবো।
মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সমেরেন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, পিআই ও অফিস হতে আড়াই লাখ টাকা বরাদ্ধ পেয়েছি গত জুন মাসে । তা এখনো বিতরন করা হয়নি। নতুন আর ও ৬৬ হাজার টাকার চেক ও ১ মেট্রিক টন চাল পেয়েছি। তবে বন্টন শুরু হয়নি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ত্রান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ৩৩৩ নাম্বারে কল দিয়ে অনেকেই খাদ্য পাচ্ছে। তবে সরকারের বরাদ্ধ দ্রæত বিতরণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ