০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

লকডাউনে কুষ্টিয়ায় পত্রিকা হকারদের মানবেতর জীবন

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে আবু বক্কর (৬০)। তিনি এক ছেলে আর এক মেয়ের জনক। মেয়ের বিয়ে হলেও ছেলেকে নিয়ে তার বড় আশা। ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় মাপের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তার স্বপ্ন পুরন করতে ছেলে কুষ্টিয়া পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হয়েছে। হকার আবু বক্কার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালিয়ে ছেলের পড়াশুনার খরচ যোগায়। ৩০ বছর ধরে পত্রিকার হকারি করে ভালো মতই সংসার চলে আসছিল। প্রতিদিন ৩০০ কপি পত্রিকা বিক্রি করে যা আয় হতো তা দিয়ে সুখেই ছিল। সর্বনাশা করোনায় তার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। লকডাউনে সরকারি, বে-সরকারি, আধা সরকারী দোকান পাঠ, স্কুল কলেজ, হোস্টেল সবই যেন বন্ধ। পত্রিকা আর বিক্রি করতে পারে না। তবুও সকাল সন্ধ্যা থেমে নেই তার একটি পুরাতন বাই সাইকেল নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে শহর ও শহরতলী গ্রামে গঞ্জে। এখন পত্রিকা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে ১২৫ কপি। এতে যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে সংসার চালানো খুবিই কষ্ট হয়ে পড়েছে। অভাব যেন তার পিছু ছাড়ছে না। সরকারি ভাবে কোন ত্রাণও সে পায়নি। এমন ভাবে কুষ্টিয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক হকার মানবেতর জীবন যাপন করে চলেছে। আগে প্রায় শতাধিক হকার কুষ্টিয়ায় হকারী করে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই ছিল। এখন অভাবের তাড়নায় হকারী পেশা ছেড়ে অনেকেই অন্য পেশা বেছে নিয়েছে। যারা এখনো এই হকারি পেশায় আছে তাদের খোজ কেই জানেনা বা নেন না। সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার পত্রিকা বিক্রির হকারদের সাথে আলাপ কালে তারা দুঃখ কষ্টের চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানায় কাক ডাকা ভোড়ে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা নিতে আসি কুষ্টিয়ার কোর্ট ষ্টেশনে। সেখানে রয়েছে ২জন পত্রিকার এজেন্ট। তাদের কাছ থেকে পত্রিকা নিয়ে ছুটে বেড়ান বিভিন্ন স্থানে। পত্রিকা বিক্রি কমে যাওয়ায় তারা অভাব অনটনের মধ্যে আছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। একজন হকার কেঁদে ফেলে বললেন, ভাই আমাদের খবর কে রাখে। আমরাতো হকার । আমরা শুনেছি সরকার কত ত্রাণ দিচ্ছে আমরাতো কিছুই পাচ্ছি না। আমরা চলবো কি করে। আবার কি হকারদের সেই সুদিন ফিরে আসবে। তিনি বলেন প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০/৫০ কিঃমিঃ সাইকেল চালিয়ে আমরা হকারী করে পত্রিকা বিক্রি করছি। আমাদের কষ্ট কেউ বুঝেনা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

লকডাউনে কুষ্টিয়ায় পত্রিকা হকারদের মানবেতর জীবন

প্রকাশিত : ০৪:৪৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জুলাই ২০২১

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে আবু বক্কর (৬০)। তিনি এক ছেলে আর এক মেয়ের জনক। মেয়ের বিয়ে হলেও ছেলেকে নিয়ে তার বড় আশা। ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় মাপের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তার স্বপ্ন পুরন করতে ছেলে কুষ্টিয়া পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হয়েছে। হকার আবু বক্কার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালিয়ে ছেলের পড়াশুনার খরচ যোগায়। ৩০ বছর ধরে পত্রিকার হকারি করে ভালো মতই সংসার চলে আসছিল। প্রতিদিন ৩০০ কপি পত্রিকা বিক্রি করে যা আয় হতো তা দিয়ে সুখেই ছিল। সর্বনাশা করোনায় তার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। লকডাউনে সরকারি, বে-সরকারি, আধা সরকারী দোকান পাঠ, স্কুল কলেজ, হোস্টেল সবই যেন বন্ধ। পত্রিকা আর বিক্রি করতে পারে না। তবুও সকাল সন্ধ্যা থেমে নেই তার একটি পুরাতন বাই সাইকেল নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে শহর ও শহরতলী গ্রামে গঞ্জে। এখন পত্রিকা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে ১২৫ কপি। এতে যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে সংসার চালানো খুবিই কষ্ট হয়ে পড়েছে। অভাব যেন তার পিছু ছাড়ছে না। সরকারি ভাবে কোন ত্রাণও সে পায়নি। এমন ভাবে কুষ্টিয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক হকার মানবেতর জীবন যাপন করে চলেছে। আগে প্রায় শতাধিক হকার কুষ্টিয়ায় হকারী করে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই ছিল। এখন অভাবের তাড়নায় হকারী পেশা ছেড়ে অনেকেই অন্য পেশা বেছে নিয়েছে। যারা এখনো এই হকারি পেশায় আছে তাদের খোজ কেই জানেনা বা নেন না। সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার পত্রিকা বিক্রির হকারদের সাথে আলাপ কালে তারা দুঃখ কষ্টের চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানায় কাক ডাকা ভোড়ে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা নিতে আসি কুষ্টিয়ার কোর্ট ষ্টেশনে। সেখানে রয়েছে ২জন পত্রিকার এজেন্ট। তাদের কাছ থেকে পত্রিকা নিয়ে ছুটে বেড়ান বিভিন্ন স্থানে। পত্রিকা বিক্রি কমে যাওয়ায় তারা অভাব অনটনের মধ্যে আছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। একজন হকার কেঁদে ফেলে বললেন, ভাই আমাদের খবর কে রাখে। আমরাতো হকার । আমরা শুনেছি সরকার কত ত্রাণ দিচ্ছে আমরাতো কিছুই পাচ্ছি না। আমরা চলবো কি করে। আবার কি হকারদের সেই সুদিন ফিরে আসবে। তিনি বলেন প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০/৫০ কিঃমিঃ সাইকেল চালিয়ে আমরা হকারী করে পত্রিকা বিক্রি করছি। আমাদের কষ্ট কেউ বুঝেনা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ