০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

ভালুকায় অবৈধ কয়লা কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ!

ভালুকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছে কয়লা কারখানা। এতে শাল-গজারি, আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি ও বেলজিয়ামসহ নানা প্রজাতির কাঠ কয়লা বানানোর কাজে পুড়ানো হচ্ছে। ফলে কারখানার ধোঁয়ায় পরিবেশ হুমকির মুখে।
শিশু, বৃদ্ধ, পশু-পাখি ও বন্যপ্রাণিদের নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও শাল-গজারিসহ সামাজিক বনায়ন উজাড় হওয়ার পথে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের চামিয়াদী বাজারের উত্তর পাশে ইমান আলীর ছেলে আব্দুল কাদের মিয়ার একটি কয়লার কারখানা রয়েছে। কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে সামাজিক বন ঘেঁষে এবং ঘনবসতি এলাকায়। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ কারখানাটি।
সংরক্ষিত ও সামাজিক বন থেকে আনা কাঠ ওই চুলায় দিন-রাত পুড়িয়ে কয়লা বানানো হচ্ছে। কারখানার আশপাশে বিশাল আকৃতির কাঠ স্তুপ করে রাখা আছে। চার-পাঁচজন শ্রমিক দিন-রাত কাঠ চুলায় পোড়ানোর কাজ করছেন। দিনরাত ওইসব চুলা থেকে নির্গত ধোঁয়া গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এসব এলাকার শিশু, বৃদ্ধ, গবাদি পশু-পাখিসহ ফসলও নানা রোগে আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে সামাজিক বনায়ন ও সংরক্ষিত শাল-গজারি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) ময়মনসিংহ শাখার জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা সোমনাথ লাহিরী বলেন, বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকলসহ বন ও পরিবেশ বিধ্বংসী কোনো কারখানা গড়ে তোলা বেআইনী।
কারখানা থেকে ১০০ গজের মধ্যে আবদুল জলিল মিয়ার বাড়ি। তিনি বলেন, ‘দিনরাত কারাখানার ধোঁয়া ও গন্ধে বাড়িতে থাকা যায় না। পরিবারের প্রায় সকলেই কোন না কোন অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে কাশি তো আছেই।’
উথুরা বন বিট কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক বনায়ন ঘেঁষে এসব কয়লা কারখানা গড়ে উঠলেও এটা বনবিভাগের জমিতে নয়, পাবলিকের জমিতে গড়ে ওঠেছে। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের দেখ ভালের দায়িত্ব। ওইসব কারখানা উচ্ছেদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা খাতুন বলেন, আমি বিষয়টি জানতাম না, এখন জানলাম। খুব শিগগিরই কয়লা কারখানাটি উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

ভালুকায় অবৈধ কয়লা কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ!

প্রকাশিত : ০২:২১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১

ভালুকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছে কয়লা কারখানা। এতে শাল-গজারি, আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি ও বেলজিয়ামসহ নানা প্রজাতির কাঠ কয়লা বানানোর কাজে পুড়ানো হচ্ছে। ফলে কারখানার ধোঁয়ায় পরিবেশ হুমকির মুখে।
শিশু, বৃদ্ধ, পশু-পাখি ও বন্যপ্রাণিদের নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও শাল-গজারিসহ সামাজিক বনায়ন উজাড় হওয়ার পথে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের চামিয়াদী বাজারের উত্তর পাশে ইমান আলীর ছেলে আব্দুল কাদের মিয়ার একটি কয়লার কারখানা রয়েছে। কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে সামাজিক বন ঘেঁষে এবং ঘনবসতি এলাকায়। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ কারখানাটি।
সংরক্ষিত ও সামাজিক বন থেকে আনা কাঠ ওই চুলায় দিন-রাত পুড়িয়ে কয়লা বানানো হচ্ছে। কারখানার আশপাশে বিশাল আকৃতির কাঠ স্তুপ করে রাখা আছে। চার-পাঁচজন শ্রমিক দিন-রাত কাঠ চুলায় পোড়ানোর কাজ করছেন। দিনরাত ওইসব চুলা থেকে নির্গত ধোঁয়া গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এসব এলাকার শিশু, বৃদ্ধ, গবাদি পশু-পাখিসহ ফসলও নানা রোগে আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে সামাজিক বনায়ন ও সংরক্ষিত শাল-গজারি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) ময়মনসিংহ শাখার জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা সোমনাথ লাহিরী বলেন, বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকলসহ বন ও পরিবেশ বিধ্বংসী কোনো কারখানা গড়ে তোলা বেআইনী।
কারখানা থেকে ১০০ গজের মধ্যে আবদুল জলিল মিয়ার বাড়ি। তিনি বলেন, ‘দিনরাত কারাখানার ধোঁয়া ও গন্ধে বাড়িতে থাকা যায় না। পরিবারের প্রায় সকলেই কোন না কোন অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে কাশি তো আছেই।’
উথুরা বন বিট কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক বনায়ন ঘেঁষে এসব কয়লা কারখানা গড়ে উঠলেও এটা বনবিভাগের জমিতে নয়, পাবলিকের জমিতে গড়ে ওঠেছে। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের দেখ ভালের দায়িত্ব। ওইসব কারখানা উচ্ছেদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা খাতুন বলেন, আমি বিষয়টি জানতাম না, এখন জানলাম। খুব শিগগিরই কয়লা কারখানাটি উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ