উজ্জ্বল আলোক শিখার কেন্দ্রে থেকেও আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে নিভৃতে, সযতনে দেশের ও দশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবিরাম কাজ করে চলেছেন। কিন্তু সূর্যের আলো আড়ালে রাখা যায় না, ঘন কালো মেঘও কেটে যায়। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নেই তাদের নামে। কেউ কেউ তো দেশ-বিদেশে দেদার অর্থ বিলিয়েছে-‘যদি একটা কিছু পাওয়া যায়’। ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে দেখেও কিছু না পেয়ে ছিদ্রান্বেষীরা হতাশ বৈকি। কারণ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সন্তানরা আপন আলোয় উদ্ভাসিত।
তেমনি সূর্যের আলোর মতোই নিজ গুণে উদ্ভাসিত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন আজ। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে ২৭ জুলাই ঢাকায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির ঘরে জন্ম নেন আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কারিগর সজীব ওয়াজেদ জয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ‘জয়’ নাম রাখেন তাঁর নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় মা ও বাবার সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। পরে মায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভারতে চলে যান তিনি। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে ভারতে। সেখানকার নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন তিনি। পরে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন জাতির পিতার এই দৌহিত্র।

২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে নির্বাচিত হন প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্লোগানটি যুক্ত হয়, তাঁর নেপথ্যে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর এই দৌহিত্র।
পরবর্তী সময়ে পর্দার অন্তরালে থেকেই গোটা দেশে তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটান এই তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। ২০১৪ সালের ১৭ নবেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে অবৈতনিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আধুনিকায়নের ব্যাপারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন পরিশ্রমী, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন জীবন-জীবিকার অধিকারী কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয়।
বর্তমানে দলীয় ঘরানা ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি, রাজনীতি, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। বিশেষ করে দেশের তরুণদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে আত্মনিয়োগ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচী ও পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। দেশ গঠনে তরুণদের মতামত, পরামর্শ শুনতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘লেটস টক’ ও ‘পলিসি ক্যাফে’ দুটি প্রোগ্রাম ইতোমধ্যে সারাদেশেই বেশ সাড়া ফেলেছে।
এছাড়া সজীব ওয়াজেদ জয় তরুণ উদ্যোক্তা ও তরুণ নেতৃত্বকে একসঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত করতে তরুণদের বৃহত্তম প্ল্যাটফরম ‘ইয়াং বাংলার’ সূচনা করেন। লেখাপড়া করা অবস্থায় রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত থাকলেও সজীব ওয়াজেদ জয় সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান ২০১০ সালে। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিতৃভ‚মি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ দেয়া হয় তাঁকে, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে আসেন তিনি। ইতোমধ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী-ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। যুবলীগ আজ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং সকল জেলা/ মহানগর/ উপজেলা/থানা/ পৌরসভা/ ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দকে (মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডাসহ সকল ধর্মীয় উপসনালয়ে) দোয়া-প্রার্থনার আয়োজন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালনের নির্দেশ দিয়েছে।
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনও সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। এছাড়া ছাত্রলীগ দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করবে।
























