দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্তান দখলে নিয়েছে তালেবান। মার্কিন সৈন্যরা দেশটির ছেড়ে চলে যাওয়া শুরু করতেই সারাদেশে সক্রিয় হয়ে ওঠে তালেবানরা। একের পর এক প্রদেশ দখল করে নিতে থাকে। অবশেষে গত রবিবার কাবুল দখলের মাধ্যমে আফগানিস্তানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তালেবান।
এরপর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তালেবান। এতে বলা হয়, আজকের তালেবান আর ২০ বছর আগের তালেবান নেই। এই তালেবান সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এদিকে, এবার তালেবান শাসনামলে আফগানিস্তানের নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবেন, যেতে পারবেন ঘরের বাইরেও। এক্ষেত্রে বোরকা বাধ্যতামূলক নয়, কেবল হিজাব পরলেই চলবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহিন। তিনি কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবান দফতরের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সুহাইল শাহিন বলেন, আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোয় হাজারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু আছে। সেখানে মেয়েরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। নারী শিক্ষার বিষয়ে তালেবানের ইতিবাচক নীতির কথা এর আগে মস্কো ও দোহা সম্মেলনেও বলেছি।
বোরকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা মাথায় হিজাব পরেছেন কি না সেটা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে পুরো শরীর ঢাকা বোরকা পরতেই হবে এমন নয়।
তিনি বলেন, অনেক ধরনের হিজাব রয়েছে। বোরকা আর হিজাব একই জিনিস নয়।
আফগানিস্তানে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে তালেবান শাসনামলে নারীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক ছিল। ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের পড়াশোনার অনুমতি ছিল না। নারীদের চাকরি করা নিষিদ্ধ ছিল। পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের ভ্রমণের অনুমতিও ছিল না। ফলে এবার তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নারী শিক্ষা, বোরকা ও নারী অধিকার প্রসঙ্গে ভাবনার উদ্রেক হয়।
তবে মঙ্গলবার ‘এই তালেবান ২০ বছর আগের তালেবান নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
আফগানিস্তান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গনি সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানোর পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, বিশ বছর আগেও আমাদের দেশ মুসলিম রাষ্ট্র ছিল। আজও আমাদের দেশ মুসলিম রাষ্ট্র। কিন্তু অভিজ্ঞতা, পরিপক্কতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে বিশ বছর আগের তালেবানের সাথে আজকের তালেবানের বিশাল তফাত রয়েছে। আমরা এখন যেসব পদক্ষেপ নেব তার সাথে ওই সময়কার তফাত রয়েছে। আর এটা বিবর্তনের ফসল।


























